নেত্রকোনা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সুদিন ফিরছে সোনালি আঁশের, আগ্রহ বেড়েছে চাষে

  • আপডেট : ০১:০৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২
  • ১০৭৭ বার পঠিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে জেলার কৃষকের মধ্যে। অন্য ফসলের তুলনায় লাভবান হওয়া গত কয়েক বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে। চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ জমির পাট কর্তন শেষ। এখন পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহ করে তা বিক্রি উপযোগী করা হচ্ছে।,
পাটের আঁশ ছড়ানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাজে অংশগ্রহণ করছেন স্থানীয় নারীরাও। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে প্রতিমন পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এই দামকে ভালই বলছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক এলাকাতে গ্রামের পথের ধারে খুব সকালে পাট ছড়ানোর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। গত কয়েক বছরে পাটের বাজারমূল্য ভাল হওয়ায় পাট চাষে আবারও আগ্রহী হয়েছেন বলে জানান কৃষকরা।,
যেন সোনালি আঁশের সুদিন ফিরছে বলেও দাবি করেন তারা। শিবগঞ্জ উপজেলার রাকিব উদ্দীন, ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। আর পাট বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অন্যদিকে একবিঘা জমির ধান বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ লাভের কারণেই অনেকে জমিতে অন্য ফসল না করে পাট চাষাবাদ করছেন তারা।, 
পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজ করেন সাধারণত গ্রামের নারী ও ছোটরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবসর পেলে পুরুষরাও হাত লাগান। পাটকাঠি ব্যবহৃত হয় জ্বালানি হিসেবে। আর এ কারণে পাটের এ মৌসুমে গ্রামের নারীরাসহ অনেকেই আঁশ ছড়ানোর কাজ করে থাকেন। কারণ, এ কাজে আঁশ ছড়নো পাটকাঠিই পরিশ্রমিক, আর মালিকের থাকে পাট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, জেলার একটি অর্থকরী ফসল হলো পাট। জেলায় গত বছর ৩ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছিল। এবার ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হবে। কিছুটা দেরিতে কাটা হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ পাটই কাটা শেষ হয়েছে।,
তিনি আরও জানান, পাটের দাম হিসাব করলে গত বছর ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ। তবে এ বছর তা শুরুই হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ। এ দাম আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। বাজারে ভাল দাম ও দ্রুত পাট বিক্রির টাকা ঘরে তুলতে পারায় দিন দিন পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন জেলার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তাদের সবধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এই কর্মকর্তা। ,
 The post appeared first on Sarabangla http://dlvr.it/SZbZ6R

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

সুদিন ফিরছে সোনালি আঁশের, আগ্রহ বেড়েছে চাষে

আপডেট : ০১:০৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে জেলার কৃষকের মধ্যে। অন্য ফসলের তুলনায় লাভবান হওয়া গত কয়েক বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে। চলতি বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ জমির পাট কর্তন শেষ। এখন পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহ করে তা বিক্রি উপযোগী করা হচ্ছে।,
পাটের আঁশ ছড়ানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কাজে অংশগ্রহণ করছেন স্থানীয় নারীরাও। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে প্রতিমন পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এই দামকে ভালই বলছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনেক এলাকাতে গ্রামের পথের ধারে খুব সকালে পাট ছড়ানোর দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। গত কয়েক বছরে পাটের বাজারমূল্য ভাল হওয়ায় পাট চাষে আবারও আগ্রহী হয়েছেন বলে জানান কৃষকরা।,
যেন সোনালি আঁশের সুদিন ফিরছে বলেও দাবি করেন তারা। শিবগঞ্জ উপজেলার রাকিব উদ্দীন, ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। আর পাট বিক্রি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। অন্যদিকে একবিঘা জমির ধান বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এ লাভের কারণেই অনেকে জমিতে অন্য ফসল না করে পাট চাষাবাদ করছেন তারা।, 
পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজ করেন সাধারণত গ্রামের নারী ও ছোটরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবসর পেলে পুরুষরাও হাত লাগান। পাটকাঠি ব্যবহৃত হয় জ্বালানি হিসেবে। আর এ কারণে পাটের এ মৌসুমে গ্রামের নারীরাসহ অনেকেই আঁশ ছড়ানোর কাজ করে থাকেন। কারণ, এ কাজে আঁশ ছড়নো পাটকাঠিই পরিশ্রমিক, আর মালিকের থাকে পাট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, জেলার একটি অর্থকরী ফসল হলো পাট। জেলায় গত বছর ৩ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছিল। এবার ৩ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হবে। কিছুটা দেরিতে কাটা হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ পাটই কাটা শেষ হয়েছে।,
তিনি আরও জানান, পাটের দাম হিসাব করলে গত বছর ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ। তবে এ বছর তা শুরুই হয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা মণ। এ দাম আগামীতে আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি। বাজারে ভাল দাম ও দ্রুত পাট বিক্রির টাকা ঘরে তুলতে পারায় দিন দিন পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন জেলার কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও তাদের সবধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এই কর্মকর্তা। ,
 The post appeared first on Sarabangla http://dlvr.it/SZbZ6R