নেত্রকোনা ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুর সীমান্তে বর্ডার হাট চান আদিবাসীরা

  • আপডেট : ০৭:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৬২৩

তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)থেকে : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করা আদিবাসী নারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করেই চলছে তাঁদের জীবন। এ কষ্ট থেকে পরিত্রানের জন্য সীমান্তবর্তী বাজার এর চান পাহাড়ী আদিবাসী নারীরা।

এ নিয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, এপারে বাংলাদেশের উত্তর ভবানীপুর গ্রাম, ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা উপ-শহর। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম দুইটির আশপাশে দীর্ঘদিন কোনো বর্ডার হাট না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে যেতে হতো দূরের কোনো গঞ্জে বা শহরে। এ দুর্ভোগের কারণে এসব এলাকার সীমান্তে চোরাচালানের ঘটনাও বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু সে দুর্ভোগ বা চোরাচালানের দৃশ্যপট এখন সবই পাল্টে গেছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের আন্তরিকতায় বাংলাদেশ থেকে শাকসব্জি, মাছ, মুরগী, সাবান, সিগারেট আর ওপার থেকে বিস্কুট, চিনি, ডাল, লবন, কসমেটিক ও জিরা আনা নেয়ার কাজ করে কোন রকম দিন পার করছে স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা। স্থানীয় আদিবাসী মহিলা প্রমিলা হাজং বলেন, ‘‘মলা তো গুরিব মানুষ, উন্য বিবুসা কুরিবো ট্যাংকা কুবায় পায়’’ (আমরা গরীব মানুষ, জীবন জীবিকার জন্য অন্য ব্যবসা করতে টাকা কোথায় পাবো। মাঝে মধ্যে খুব কষ্টে পড়তে হয় আমাদের, ওপারের দোকানীরা সুযোগ বুঝে আমাদের মাল গুলো বাকিতে রাখতে চায়, আমরা একদিন কাজ না করলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। বেঁচাকেনা শেষে কোন দিন ৫শ কোন দিন ৪শ টাকা লাভ হয়। এদিয়েই কোন রকম চলে আমাদের সংসার। মাটি কাটার কাজে মহিলা শ্রমিকদের চেয়ে পুরুষদের চাহিদা বেশী থাকায় আমরা এ ব্যবসা করছি। মালামাল পারাপারের জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হয় কিনা জিজ্ঞাসা করলে জানান, আগে এক টুকরী প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে ১শ টাকা দিতে হতো, এখন আর কাউকে টাকা দিতে হয় না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবি সদস্য বলেন, আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে সীমান্তে টহল দিচ্ছি, আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় আদিবাসীরা জীবন জীবিকার তাগিদে যে কাজটি করে খাচ্ছে তা দোষের কিছু নয়। তবে কোন প্রকার মাদক পেলে কাউকে ছাড় হয় না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি।

এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, বর্ডার হাট এবং এলাকা দিয়ে এলসি খোলা সহ নানা বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের সিলং এ দু‘দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। আশাকরি অল্প কিছু দিনের মধ্যে এসব প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া আদিবাসী শ্রমিদের দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘোব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

দুর্গাপুর সীমান্তে বর্ডার হাট চান আদিবাসীরা

আপডেট : ০৭:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)থেকে : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করা আদিবাসী নারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করেই চলছে তাঁদের জীবন। এ কষ্ট থেকে পরিত্রানের জন্য সীমান্তবর্তী বাজার এর চান পাহাড়ী আদিবাসী নারীরা।

এ নিয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, এপারে বাংলাদেশের উত্তর ভবানীপুর গ্রাম, ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাঘমারা উপ-শহর। দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম দুইটির আশপাশে দীর্ঘদিন কোনো বর্ডার হাট না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে যেতে হতো দূরের কোনো গঞ্জে বা শহরে। এ দুর্ভোগের কারণে এসব এলাকার সীমান্তে চোরাচালানের ঘটনাও বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু সে দুর্ভোগ বা চোরাচালানের দৃশ্যপট এখন সবই পাল্টে গেছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের আন্তরিকতায় বাংলাদেশ থেকে শাকসব্জি, মাছ, মুরগী, সাবান, সিগারেট আর ওপার থেকে বিস্কুট, চিনি, ডাল, লবন, কসমেটিক ও জিরা আনা নেয়ার কাজ করে কোন রকম দিন পার করছে স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা। স্থানীয় আদিবাসী মহিলা প্রমিলা হাজং বলেন, ‘‘মলা তো গুরিব মানুষ, উন্য বিবুসা কুরিবো ট্যাংকা কুবায় পায়’’ (আমরা গরীব মানুষ, জীবন জীবিকার জন্য অন্য ব্যবসা করতে টাকা কোথায় পাবো। মাঝে মধ্যে খুব কষ্টে পড়তে হয় আমাদের, ওপারের দোকানীরা সুযোগ বুঝে আমাদের মাল গুলো বাকিতে রাখতে চায়, আমরা একদিন কাজ না করলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। বেঁচাকেনা শেষে কোন দিন ৫শ কোন দিন ৪শ টাকা লাভ হয়। এদিয়েই কোন রকম চলে আমাদের সংসার। মাটি কাটার কাজে মহিলা শ্রমিকদের চেয়ে পুরুষদের চাহিদা বেশী থাকায় আমরা এ ব্যবসা করছি। মালামাল পারাপারের জন্য কাউকে কোন টাকা দিতে হয় কিনা জিজ্ঞাসা করলে জানান, আগে এক টুকরী প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে ১শ টাকা দিতে হতো, এখন আর কাউকে টাকা দিতে হয় না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবি সদস্য বলেন, আমরা অত্যন্ত সতর্কভাবে সীমান্তে টহল দিচ্ছি, আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় আদিবাসীরা জীবন জীবিকার তাগিদে যে কাজটি করে খাচ্ছে তা দোষের কিছু নয়। তবে কোন প্রকার মাদক পেলে কাউকে ছাড় হয় না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি।

এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, বর্ডার হাট এবং এলাকা দিয়ে এলসি খোলা সহ নানা বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারতের সিলং এ দু‘দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। আশাকরি অল্প কিছু দিনের মধ্যে এসব প্রস্তাবনা গুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া আদিবাসী শ্রমিদের দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘোব হবে।