নেত্রকোনা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ভার, শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, ব্যবস্থাও নিতে হবে

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপিদের তালিকা এবং ব্যাংক থেকে পরিচালকদের নেয়া ঋণের তথ্য প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সংসদে আগে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের তথ্য এই প্রথম প্রকাশ করা হল। এতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫৫টি ব্যাংক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছেন, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের ১১ দশমিক ২১ শতাংশ।

ভালো হতো কোন্ পরিচালক কোন্ ব্যাংক থেকে কী পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন, যদি সে তথ্য উল্লেখ করা হতো। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যে তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালকরা অন্য ব্যাংক ছাড়াও নিজ ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছেন, যার পরিমাণ মোট ঋণের শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালকরা নিজ ব্যাংক থেকে তাদের মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারেন না। অনেক ব্যাংক পরিচালকের শেয়ারের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা নিজ ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে পারেন না। তাই তারা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন।

তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হল, ব্যাংক পরিচালকরা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং যোগসাজশের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেয়া অধিকাংশ ঋণের টাকা আর ফেরত দেন না।

এর ফলে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাত তথা অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক না হলে আরও বেশি আস্থা সংকটে পড়বে ব্যাংকিং খাত। বলা যায়, ভেঙে পড়বে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা।

অর্থমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী, দেশে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ হাজার ২৩৮। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো অর্থ আদায় হয়নি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মাত্র ২৫ হাজার ৮৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

সন্দেহ নেই, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশের ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি সৃষ্টির জন্য দায়ী। এদের কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। কাজেই আর কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের আদায় বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমরা মনে করি, সংসদে শুধু তথ্য প্রকাশ নয়; ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতিবাজ, ঋণ জালিয়াত ও খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার এখনই সময়। এ খাতে দুর্নীতির জন্য প্রথমত দায় বর্তায় পরিচালনা পর্ষদের ওপর। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাও জোরালো নয়।

বেসরকারি খাতের যেসব ব্যাংকের মালিক রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও থাকতে হবে। তা না হলে লুটপাট ও খেলাপি ঋণের বর্তমান প্রবণতা বন্ধ হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ভার, শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, ব্যবস্থাও নিতে হবে

আপডেট : ১১:৫০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপিদের তালিকা এবং ব্যাংক থেকে পরিচালকদের নেয়া ঋণের তথ্য প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, সংসদে আগে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের তথ্য এই প্রথম প্রকাশ করা হল। এতে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৫৫টি ব্যাংক থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালকরা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছেন, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের ১১ দশমিক ২১ শতাংশ।

ভালো হতো কোন্ পরিচালক কোন্ ব্যাংক থেকে কী পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন, যদি সে তথ্য উল্লেখ করা হতো। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যে তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের পরিচালকরা অন্য ব্যাংক ছাড়াও নিজ ব্যাংক থেকেও ঋণ নিয়েছেন, যার পরিমাণ মোট ঋণের শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। উল্লেখ্য, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক পরিচালকরা নিজ ব্যাংক থেকে তাদের মোট শেয়ারের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারেন না। অনেক ব্যাংক পরিচালকের শেয়ারের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা নিজ ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিতে পারেন না। তাই তারা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন।

তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও অর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি হল, ব্যাংক পরিচালকরা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং যোগসাজশের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে নেয়া অধিকাংশ ঋণের টাকা আর ফেরত দেন না।

এর ফলে মন্দ ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাত তথা অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক না হলে আরও বেশি আস্থা সংকটে পড়বে ব্যাংকিং খাত। বলা যায়, ভেঙে পড়বে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা।

অর্থমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকা অনুযায়ী, দেশে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ হাজার ২৩৮। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো অর্থ আদায় হয়নি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মাত্র ২৫ হাজার ৮৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

সন্দেহ নেই, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোও দেশের ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি সৃষ্টির জন্য দায়ী। এদের কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ২৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অশনিসংকেত। কাজেই আর কোনো ঋণ যাতে খেলাপি না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের আদায় বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমরা মনে করি, সংসদে শুধু তথ্য প্রকাশ নয়; ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতিবাজ, ঋণ জালিয়াত ও খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার এখনই সময়। এ খাতে দুর্নীতির জন্য প্রথমত দায় বর্তায় পরিচালনা পর্ষদের ওপর। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাও জোরালো নয়।

বেসরকারি খাতের যেসব ব্যাংকের মালিক রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও থাকতে হবে। তা না হলে লুটপাট ও খেলাপি ঋণের বর্তমান প্রবণতা বন্ধ হবে না।