নেত্রকোনা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি না অযুক্তি

আট বিলিয়ন মানুষের বসবাস এই পৃথিবীতে অথচ মুষ্টিমেয় সামান্য কিছু মানুষ অর্থে, স্বার্থে, জ্ঞানে, গুণে এবং ক্ষমতার জোরে পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে শাসন, শোষণ এবং গণতন্ত্রের ভাষণ দিয়ে। মেনিপুলেট করছে সারা জাহানের মানুষ জাতিকে। যার ফলে আমরা দিনে দিনে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি।,’

১৯৪০ সালে The Great Dictator কমেডি ছবিতে এডলফ হিটলারকে ব্যঙ্গ করে চমৎকার একটি ভাষণ দিয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। ৮৪ বছর পার হয়ে যাবার পরেও কথাগুলো আজও অতি প্রয়োজনীয়। যদিও হিটলার এ ধরনের কোনো বক্তৃতা দেননি। তবে হিটলারের মেধা বুঝবার জন্য তার দুটি জনপ্রিয় কথাই যথেষ্ট। যেমন – Make the lie big, make it simple, keep saying it, and eventually they will believe it. এবং Great liars are also great magicians.

আজ এই প্রযুক্তির যুগে গোটা বিশ্ব জুড়ে কেবল নতুন নতুন হিটলারের মতো গুণভাজনদের দেখছি, যারা মনের অজান্তেই সেই হিটলারকে অনুসরণ করে যাচ্ছে। তাহলে কি হিটলার জানতেন যে তার আইডোলজি সারা বিশ্ববাসীর জন্য আজীবন থেকে যাবে? তা না হলে কীভাবে হিটলার বলে গেলেন- Sooner will a camel pass through a needle’s eye than a great man be ‘discovered’ by an election.

যাইহোক চার্লি চ্যাপলিন কী বলেছিলেন তার ভাষণে?

আমি দুঃখিত! আমি কোনো সম্রাট হতে চাই না। ওটা আমার কাজ নয়। আমি শাসন করতে কিংবা দখল করে নিতেও চাই না কাউকে। যদি সম্ভব হয়, আমি চাই সবাইকে সহযোগিতা করতে, হোক সে ইহুদি কিংবা অন্য কেউ, কালো কিংবা সাদা। আমরা সবাই চাই আসলে একে অপরকে সহযোগিতা করতে, মানবজাতি ওভাবেই তৈরি। আমরা বাঁচতে চাই একে অপরকে আনন্দে রেখে, অন্যকে কষ্টে রেখে নয়। ‘আমরা চাই না একে অপরকে ঘৃণা ও অপমান করতে।,

এই পৃথিবীতে সকলের জন্যেই পর্যাপ্ত স্থান আছে। এই ধরণী বিপুল ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ আর সবারই দেখভাল করতে সক্ষম। বেঁচে থাকাটা হতে পারে স্বাধীন এবং সুন্দর। কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। লোভ মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত করে তুলেছে, পৃথিবীকে ঢেকে ফেলেছে ঘৃণার চাদরে, আমাদেরকে টেনে নিয়ে গেছে দীনতা ও রক্তপাতের দিকে।,

আমরা গতি অর্জন করেছি, কিন্তু বেঁধে ফেলেছি আমাদের মনকে। যন্ত্ররা আমাদের প্রাচুর্যে ভরিয়ে দিয়েও ফেলে রেখেছে অভাবের ভেতরে।আমাদের জ্ঞান করে তুলেছে আমাদের হতাশাবাদী। চতুরতা করে তুলেছে কঠিন এবং রূঢ়। আমরা খুব বেশি ভাবি অথচ অনুভব করি খুব কম। যন্ত্রের থেকেও বেশি প্রয়োজন আমাদের মানবতা। চতুরতার থেকেও বেশি দরকার আমাদের মমতা এবং ভদ্রতা। ‘এই গুণগুলো ছাড়া জীবন হয়ে উঠবে হিংস্র আর হারিয়ে যাবে সবকিছু।’

বিমান এবং রেডিও আমাদের সবাইকে খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এই আবিষ্কারগুলো চিৎকার করে বলছে মানুষের ভালোবাসার কথা, তাদের ভ্রাতৃত্ববোধের কথা, তাদের একতার কথা। এমনকি এই মুহূর্তেও আমার কণ্ঠ গিয়ে পৌঁছাচ্ছে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে। লক্ষ লক্ষ হতাশাগ্রস্ত নারী, পুরুষ আর শিশুদের কাছে, যারা এমন এক ব্যবস্থার শিকার যেখানে মানুষ আরেক নির্দোষ মানুষকে নির্যাতন ও বন্দী করে। যারা আমার কথা শুনতে পাচ্ছো, তাদের বলছি, “নিরাশ হয়ো না”।

যে দুর্ভোগ আমাদের আজ পোহাতে হচ্ছে, সেটা লোভের পরিণতি ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা মানবজাতির উন্নতিতে ভয় পায় তাদের তিক্ত মনের কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষের মনের ঘৃণা এক সময় মিলিয়ে যাবে, সেই স্বৈরশাসক মারা যাবে, আর মানুষের থেকে যে ক্ষমতা সে কেড়ে নিয়েছিল সেটা ফিরে যাবে সাধারণ মানুষের হাতে। ফলে যতদিন মানুষের মৃত্যু ঘটবে, ততদিন স্বাধীনতার কখনো বিনাশ ঘটবে না।
সৈনিকেরা, পশুদের হাতে তোমাদের তুলে দিও না। সেই সব মানুষদের হাতে যারা তোমাকে তাচ্ছিল্য করে, ক্রীতদাস করে, নিয়ন্ত্রণ করে তোমার জীবন; তোমাকে বলে চলে- কী করতে হবে, কী ভাবতে হবে, কী অনুভব করতে হবে; যারা তোমাকে চরিয়ে বেড়ায়, বাছ-বিচার করে খাওয়ায়, গবাদিপশুর মতো তোমাকে গণ্য করে, খরচের খাতায় থাকা জিনিসের মতো ব্যবহার করে। তোমাদের তুলে দিও না সেই সব অপ্রকৃতস্থ মানুষের হাতে। যন্ত্র মানবদের হাতে, যাদের মগজ যান্ত্রিক আর হৃদয়ও যান্ত্রিক। তোমরা যন্ত্র নও। তোমরা গবাদিপশুও নও। তোমরা মানুষ। তোমাদের হৃদয়েও আছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তোমরা তো কাউকে ঘৃণা করো না। শুধু ভালোবাসা বঞ্চিতরাই ঘৃণা করে। ভালোবাসা বঞ্চিত ও অপ্রকৃতিস্থরা। সৈনিকেরা, দাসত্বের কারণে লড়াই কোরো না। লড়াই করো স্বাধীনতার জন্যে। সেইন্ট লুকের সপ্তদশ অধ্যায়ে বলা আছে, “ঈশ্বরের সাম্রাজ্য রয়েছে মানুষেরই ভেতরে”। শুধু একটা মানুষের ভেতরে নয়, শুধু একদল মানুষের ভেতরে নয়, বরং তোমাদের সবার ভেতরে; তোমার ভেতরেও। তোমাদের মানুষদেরই আছে ক্ষমতা, যন্ত্র তৈরির ক্ষমতা, সুখ তৈরির ক্ষমতা। তোমাদেরই আছে এই জীবনটাকে মুক্ত ও সুন্দর করার ক্ষমতা, জীবনটাকে এক অসাধারণ অভিযান বানানোর ক্ষমতা। তাহলে চলো গণতন্ত্রের খাতিরেই আমরা সেই ক্ষমতাটাকে ব্যবহার করি। চলো আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই!এসো আমরা এক নতুন পৃথিবী গড়তে লড়াই করি, এক সুন্দর পৃথিবী যা মানুষকে দেবে কর্মের সুযোগ, শিশুদের দেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আর বয়স্কদের দেবে নিরাপত্তা। এসব দেবার ওয়াদা করেই পশুরা উঠেছিলো ক্ষমতার শিখরে।‘ কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছিল।’

তারা কখনোই সেই ওয়াদা পূর্ণ করেনি, কখনো করবেও না। স্বৈরাচারেরা মুক্ত করেছে শুধু নিজেদেরকেই, আর ক্রীতদাস বানিয়েছে জনগণকে। এখন এসো আমরা একত্রে লড়াই করি সেই ওয়াদা পূরণে। এসো একসাথে লড়াই করি পৃথিবীটাকে মুক্ত করতে; সমস্ত জাতীয় সীমানার, সমস্ত লোভের, সমস্ত ঘৃণার এবং অসহনশীলতার ইতি টানতে। এসো একসাথে লড়াই করি একই লক্ষ্যের পৃথিবী গড়তে, এমন এক পৃথিবী যেখানে বিজ্ঞান ও উন্নয়ন মানুষকে নিয়ে যাবে সুখী জীবনের দিকে। সৈনিকেরা! গণতন্ত্রের নামে এসো: আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই!

৮৪ বছর পার হয়ে গেল অথচ আমরা এর কিছুই দেখতে পারলাম না। গণতন্ত্র বিলুপ্তির পথে। একনায়কতন্ত্র শাসনতন্ত্রের হাতে ক্ষমতা, ক্যাপিটালিস্টদের দিকনির্দেশনা চলছে পৃথিবী, প্রযুক্তি ডোমিনেট এবং ম্যানিপুলেট করছে আমাদের। আমাদের দিনকাল চলছে অনেকটা ধর, মার, কর, খাও নইলে মর, ‘এমন একটি আতঙ্কের মধ্য দিয়ে!’

যুক্তির মধ্যে দিয়ে এসেছে প্রযুক্তি কী করে তাকে অযুক্তির মধ্যদিয়ে এতবছর পরে বলব যে প্রযুক্তি আমাদেরকে পরনির্ভরশীল করতে শুরু করেছে। অনেক দিন ধরে প্রযুক্তির ওপর ভেবেছি। আমার অনেক কথা লেখার আছে, আমিও চাই সবার মনে প্রশ্ন জাগুক, সমাজের সবাই জেগে উঠুক, ‘সবার মনে ঝড় উঠুক আমার মতো করে এবং সেই ঝড় বয়ে আনুক নতুন দিগন্ত সবার মনের ঘরে।,’

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

প্রযুক্তি না অযুক্তি

আপডেট : ১০:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

আট বিলিয়ন মানুষের বসবাস এই পৃথিবীতে অথচ মুষ্টিমেয় সামান্য কিছু মানুষ অর্থে, স্বার্থে, জ্ঞানে, গুণে এবং ক্ষমতার জোরে পুরো পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে শাসন, শোষণ এবং গণতন্ত্রের ভাষণ দিয়ে। মেনিপুলেট করছে সারা জাহানের মানুষ জাতিকে। যার ফলে আমরা দিনে দিনে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি।,’

১৯৪০ সালে The Great Dictator কমেডি ছবিতে এডলফ হিটলারকে ব্যঙ্গ করে চমৎকার একটি ভাষণ দিয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। ৮৪ বছর পার হয়ে যাবার পরেও কথাগুলো আজও অতি প্রয়োজনীয়। যদিও হিটলার এ ধরনের কোনো বক্তৃতা দেননি। তবে হিটলারের মেধা বুঝবার জন্য তার দুটি জনপ্রিয় কথাই যথেষ্ট। যেমন – Make the lie big, make it simple, keep saying it, and eventually they will believe it. এবং Great liars are also great magicians.

আজ এই প্রযুক্তির যুগে গোটা বিশ্ব জুড়ে কেবল নতুন নতুন হিটলারের মতো গুণভাজনদের দেখছি, যারা মনের অজান্তেই সেই হিটলারকে অনুসরণ করে যাচ্ছে। তাহলে কি হিটলার জানতেন যে তার আইডোলজি সারা বিশ্ববাসীর জন্য আজীবন থেকে যাবে? তা না হলে কীভাবে হিটলার বলে গেলেন- Sooner will a camel pass through a needle’s eye than a great man be ‘discovered’ by an election.

যাইহোক চার্লি চ্যাপলিন কী বলেছিলেন তার ভাষণে?

আমি দুঃখিত! আমি কোনো সম্রাট হতে চাই না। ওটা আমার কাজ নয়। আমি শাসন করতে কিংবা দখল করে নিতেও চাই না কাউকে। যদি সম্ভব হয়, আমি চাই সবাইকে সহযোগিতা করতে, হোক সে ইহুদি কিংবা অন্য কেউ, কালো কিংবা সাদা। আমরা সবাই চাই আসলে একে অপরকে সহযোগিতা করতে, মানবজাতি ওভাবেই তৈরি। আমরা বাঁচতে চাই একে অপরকে আনন্দে রেখে, অন্যকে কষ্টে রেখে নয়। ‘আমরা চাই না একে অপরকে ঘৃণা ও অপমান করতে।,

এই পৃথিবীতে সকলের জন্যেই পর্যাপ্ত স্থান আছে। এই ধরণী বিপুল ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ আর সবারই দেখভাল করতে সক্ষম। বেঁচে থাকাটা হতে পারে স্বাধীন এবং সুন্দর। কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। লোভ মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত করে তুলেছে, পৃথিবীকে ঢেকে ফেলেছে ঘৃণার চাদরে, আমাদেরকে টেনে নিয়ে গেছে দীনতা ও রক্তপাতের দিকে।,

আমরা গতি অর্জন করেছি, কিন্তু বেঁধে ফেলেছি আমাদের মনকে। যন্ত্ররা আমাদের প্রাচুর্যে ভরিয়ে দিয়েও ফেলে রেখেছে অভাবের ভেতরে।আমাদের জ্ঞান করে তুলেছে আমাদের হতাশাবাদী। চতুরতা করে তুলেছে কঠিন এবং রূঢ়। আমরা খুব বেশি ভাবি অথচ অনুভব করি খুব কম। যন্ত্রের থেকেও বেশি প্রয়োজন আমাদের মানবতা। চতুরতার থেকেও বেশি দরকার আমাদের মমতা এবং ভদ্রতা। ‘এই গুণগুলো ছাড়া জীবন হয়ে উঠবে হিংস্র আর হারিয়ে যাবে সবকিছু।’

বিমান এবং রেডিও আমাদের সবাইকে খুব কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এই আবিষ্কারগুলো চিৎকার করে বলছে মানুষের ভালোবাসার কথা, তাদের ভ্রাতৃত্ববোধের কথা, তাদের একতার কথা। এমনকি এই মুহূর্তেও আমার কণ্ঠ গিয়ে পৌঁছাচ্ছে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে। লক্ষ লক্ষ হতাশাগ্রস্ত নারী, পুরুষ আর শিশুদের কাছে, যারা এমন এক ব্যবস্থার শিকার যেখানে মানুষ আরেক নির্দোষ মানুষকে নির্যাতন ও বন্দী করে। যারা আমার কথা শুনতে পাচ্ছো, তাদের বলছি, “নিরাশ হয়ো না”।

যে দুর্ভোগ আমাদের আজ পোহাতে হচ্ছে, সেটা লোভের পরিণতি ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা মানবজাতির উন্নতিতে ভয় পায় তাদের তিক্ত মনের কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষের মনের ঘৃণা এক সময় মিলিয়ে যাবে, সেই স্বৈরশাসক মারা যাবে, আর মানুষের থেকে যে ক্ষমতা সে কেড়ে নিয়েছিল সেটা ফিরে যাবে সাধারণ মানুষের হাতে। ফলে যতদিন মানুষের মৃত্যু ঘটবে, ততদিন স্বাধীনতার কখনো বিনাশ ঘটবে না।
সৈনিকেরা, পশুদের হাতে তোমাদের তুলে দিও না। সেই সব মানুষদের হাতে যারা তোমাকে তাচ্ছিল্য করে, ক্রীতদাস করে, নিয়ন্ত্রণ করে তোমার জীবন; তোমাকে বলে চলে- কী করতে হবে, কী ভাবতে হবে, কী অনুভব করতে হবে; যারা তোমাকে চরিয়ে বেড়ায়, বাছ-বিচার করে খাওয়ায়, গবাদিপশুর মতো তোমাকে গণ্য করে, খরচের খাতায় থাকা জিনিসের মতো ব্যবহার করে। তোমাদের তুলে দিও না সেই সব অপ্রকৃতস্থ মানুষের হাতে। যন্ত্র মানবদের হাতে, যাদের মগজ যান্ত্রিক আর হৃদয়ও যান্ত্রিক। তোমরা যন্ত্র নও। তোমরা গবাদিপশুও নও। তোমরা মানুষ। তোমাদের হৃদয়েও আছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তোমরা তো কাউকে ঘৃণা করো না। শুধু ভালোবাসা বঞ্চিতরাই ঘৃণা করে। ভালোবাসা বঞ্চিত ও অপ্রকৃতিস্থরা। সৈনিকেরা, দাসত্বের কারণে লড়াই কোরো না। লড়াই করো স্বাধীনতার জন্যে। সেইন্ট লুকের সপ্তদশ অধ্যায়ে বলা আছে, “ঈশ্বরের সাম্রাজ্য রয়েছে মানুষেরই ভেতরে”। শুধু একটা মানুষের ভেতরে নয়, শুধু একদল মানুষের ভেতরে নয়, বরং তোমাদের সবার ভেতরে; তোমার ভেতরেও। তোমাদের মানুষদেরই আছে ক্ষমতা, যন্ত্র তৈরির ক্ষমতা, সুখ তৈরির ক্ষমতা। তোমাদেরই আছে এই জীবনটাকে মুক্ত ও সুন্দর করার ক্ষমতা, জীবনটাকে এক অসাধারণ অভিযান বানানোর ক্ষমতা। তাহলে চলো গণতন্ত্রের খাতিরেই আমরা সেই ক্ষমতাটাকে ব্যবহার করি। চলো আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই!এসো আমরা এক নতুন পৃথিবী গড়তে লড়াই করি, এক সুন্দর পৃথিবী যা মানুষকে দেবে কর্মের সুযোগ, শিশুদের দেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আর বয়স্কদের দেবে নিরাপত্তা। এসব দেবার ওয়াদা করেই পশুরা উঠেছিলো ক্ষমতার শিখরে।‘ কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছিল।’

তারা কখনোই সেই ওয়াদা পূর্ণ করেনি, কখনো করবেও না। স্বৈরাচারেরা মুক্ত করেছে শুধু নিজেদেরকেই, আর ক্রীতদাস বানিয়েছে জনগণকে। এখন এসো আমরা একত্রে লড়াই করি সেই ওয়াদা পূরণে। এসো একসাথে লড়াই করি পৃথিবীটাকে মুক্ত করতে; সমস্ত জাতীয় সীমানার, সমস্ত লোভের, সমস্ত ঘৃণার এবং অসহনশীলতার ইতি টানতে। এসো একসাথে লড়াই করি একই লক্ষ্যের পৃথিবী গড়তে, এমন এক পৃথিবী যেখানে বিজ্ঞান ও উন্নয়ন মানুষকে নিয়ে যাবে সুখী জীবনের দিকে। সৈনিকেরা! গণতন্ত্রের নামে এসো: আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই!

৮৪ বছর পার হয়ে গেল অথচ আমরা এর কিছুই দেখতে পারলাম না। গণতন্ত্র বিলুপ্তির পথে। একনায়কতন্ত্র শাসনতন্ত্রের হাতে ক্ষমতা, ক্যাপিটালিস্টদের দিকনির্দেশনা চলছে পৃথিবী, প্রযুক্তি ডোমিনেট এবং ম্যানিপুলেট করছে আমাদের। আমাদের দিনকাল চলছে অনেকটা ধর, মার, কর, খাও নইলে মর, ‘এমন একটি আতঙ্কের মধ্য দিয়ে!’

যুক্তির মধ্যে দিয়ে এসেছে প্রযুক্তি কী করে তাকে অযুক্তির মধ্যদিয়ে এতবছর পরে বলব যে প্রযুক্তি আমাদেরকে পরনির্ভরশীল করতে শুরু করেছে। অনেক দিন ধরে প্রযুক্তির ওপর ভেবেছি। আমার অনেক কথা লেখার আছে, আমিও চাই সবার মনে প্রশ্ন জাগুক, সমাজের সবাই জেগে উঠুক, ‘সবার মনে ঝড় উঠুক আমার মতো করে এবং সেই ঝড় বয়ে আনুক নতুন দিগন্ত সবার মনের ঘরে।,’

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন।