বুধবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ক্লাস না করেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ মেলে রাবির ফোকলোর বিভাগে

 |  আপডেট ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট  | 197

ক্লাস না করেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ মেলে রাবির ফোকলোর বিভাগে

আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বাড়তি সমর্থন পেতে বিএনপিপন্থী সভাপতির নিয়মবহির্ভুতভাবে এ অনুমোদন-

মেহেদী হাসান,রাবি সংবাদদাতা:


নিয়ম বহির্ভুতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সারাবছর ক্লাস না করা অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে জানা গেছে। এছাড়া আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী শিক্ষকদের নিকট বাড়তি সমর্থন পেতে বিভাগের বিএনপিপন্থী সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন নিয়ম বহির্ভুতভাবে এ অনুমোদন প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে নিয়মিত ক্লাস করে বিভাগের এমন শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে- চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ক্লাসে অবশ্যই ন্যুনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। তবে কোনো কারণবশত উপস্থিতি ৬০-৭৫ শতাংশের মধ্যে হলে জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু উপস্থিতি ৬০ শতাংশের কম হলে কোনোভাবেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হিসাব অনুযায়ি প্রথম বর্ষের ৭৫জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৪জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১৪জন, দ্বিতীয় বর্ষের ৫৪জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ২০জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১০জন, তৃতীয় বর্ষে ৫৫জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ৯জন ও ডিস-কলেজিয়েট ১২জন, চতুর্থ বর্ষের ৫০জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৬জন ও ডিস-কলেজিয়েট ৮জন এবং মাস্টার্সের ৫৬ জনের মধ্যে নন-কলেজিয়েট ১৬জন ও ডিস-কলেজিয়েট হয় ১২জন। সবমিলিয়ে দেখা যায় বিভাগের মোট ২৯০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এ বছর নন-কলেজিয়েট হয়েছে প্রায় ২৬শতাংশ এবং ডিস-কয়েজিয়েট হয়েছে প্রায় ২৫শতাংশ। এসব ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২জন সারাবছরে ১০শতাংশ ক্লাসও করেন নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ বছর অনার্সের চারটি বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষার ফরম-ফিল-আপের পূর্বে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়টি হিসেব করে দেখা যায় ডিস-কলেজিয়েটদের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রলীগ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন পদে থাকা বিভাগের আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন শিক্ষক সভাপতিকে ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদন দিতে বলেন। পরবর্তীতে একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে এ নিয়ে কথা হলে উপস্থিত ১৩জন শিক্ষকের মদ্যে চারজন শিক্ষক উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া যেতে পারে উল্লেখ করে ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে ঘোর বিরোধীতা করেন। কিন্তু মিটিংয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতির ভিত্তিতে উপস্থিতি ১ শতাংশেরও কম রয়েছে এমন শিক্ষার্থীসহ সব ডিস-কলেজিয়েটদের পরীক্ষা দেওয়ার হয়।

বিভাগ সুত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ০২ ডিসেম্বর বিভাগের বিএনপিপন্থী অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ০২ ডিসেম্বর তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে এবং আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক মোস্তফা তারিকুল আহসান সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মেয়াদ শেষে কেউ যাতে কোনো বিষয়ে অভিযোগ তুলতে না পারে সেজন্য আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের হাতে রাখতে তাদের কথামতো ডিস-কলেজিয়েটদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে পূর্ণসমর্থন জানান। অন্যদিকে ডিসকলেজিয়েটদের পরীক্ষায় সম্মতি প্রদানকারী শিক্ষকদের অধিকাংশই বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে বড্ড অনিহা থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনও আছে এদের কয়েকজন সারাবছরে মাত্র ১-২টি ক্লাস নিয়েছেন। তবে অধিকাংশই একটি বর্ষে সারাবছরে ১২-১৩টির বেশি ক্লাস নেন নি। পরীক্ষার হলে ঠিকমতো দায়িত্বপালন না করা, ঠিকমত পরীক্ষার খাতা না দেখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অনেকটা নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিতেই ডিস-কলেজিয়েটদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা শিক্ষার্থীদের।

২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, আমাদের ক্লাসের আমিসহ দুইজন ডিস-কলেজিয়েট ছিলাম। পলিটিক্যাল পাওয়ার না থাকায় আমাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। ওই বছর চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী গর্ভবতী থাকায় ডিসকলেজিয়েট হয়। এজন্য তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরের বছর পরীক্ষা দিয়ে মাস্টার্স না করেই চলে যান তিনি। এর আগে দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালে আমাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল, কিন্ত তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে এখন নাকি উপস্থিতি একেবারে না থাকলেও পরীক্ষা দেওয়া যায়।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আখতার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন একটি নিয়ম আছে তেমনি বিভাগের একাডেমিক কমিটিরও একটা নিজস্ব ক্ষমতা আছে। তাই ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়টি একাডেমিক কমিটিকে জানাই। আর একাডেমিক কমিটির সভায় অধিকাংশ শিক্ষকের সমর্থনে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন সভাপতি হিসেবে আমি তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কোনো বিভাগ চাইলে ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু ফোকলোর বিভাগের বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছে কিনা সেটি নথি দেখে বলতে হবে।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com