সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উন্নয়ন বিড়ম্বনায় ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :  |  আপডেট ৪:৫৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  | 181

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উন্নয়ন বিড়ম্বনায় ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মাটির রাস্তা,ছোট-ছোট ঘর,এখনও শিক্ষার্থীরা বাঁশ বাগানের ভেতর দিয়ে চলাচল করে এই গ্রামে, একটা বেশ লম্বা আর আরেকটা ছবি আঁকা ঘরের একঘরের মতো, দু’টোই ঝাঁঝরা টিনের টিনশেড, অল্প কিছু শিক্ষার্থী, দৃশ্যমান ৫-৭ জন শিক্ষক। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গ্রাম ধর্মদহের ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নব্বইয়ের দশকে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে অযতœ,অবহেলা আর অনিয়মের আবরনে স্যাতস্যাত করছে জ্ঞানের আলোর মশাল।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের গণসাক্ষরিত একটি চিঠি পৌছে যায় কুষ্টিয়া জেলা ও দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের বড় কর্তাদের কাছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলীর নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কথা। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে। খুঁজে পাওয়া যায় খোদ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় যেমন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,উপজেলা-জেলা শিক্ষা অফিসার এমনকি জেলা প্রশাসক কে বিবাদী করে করা মামলা-মোকদ্দমার কাগজপত্র। যার বাদী বিদ্যালয়টির ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদপ্রার্থী ওবাইদুল হক, ঘটনা আরও বেশি জমে ওঠে আরেক কাগজে,যেখানে বর্তমান প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলীকে দায়িত্ব থেকে নামিয়ে দেয়ার সরকারি আদেশ। যদিও পরবর্তীতে রুস্তম আলীর পুনরায় বহাল কিংবা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বৈধতার নথী দেখাতে প্রতিবেদকের কাছে ব্যার্থতা প্রকাশ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক রুস্তম আলী।


প্রতিবেদনের প্রয়োজনে সরেজমিনে বেশ দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করা হয় বিদ্যালয়টির কার্যক্রম। কথা বলা হয় বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠির মানুষের সাথে। অভিযোগের তীর রুস্তম আলীর দিকে রেখে বিভিন্ন দিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা প্রায় সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী জানাতে থাকেন বিদ্যালয়ের অযতœ-অবহেলার কথা।

জনশ্রæত রয়েছে প্রধান শিক্ষক রুস্তম আলী স্কুল কে দেয়া বরাদ্দের টয়লেটেও স্পষ্ট দুর্নীতি করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রায় সকল অবকাঠামো উন্নয়নে। দেখা যায়, ১৫ বছর আগের টাকায় দেড় লাখের বরাদ্দের ঘরের বেহাল দশা,যদিও শোনা যায় বিশেষ বরাদ্দের ঐ ঘরটিতে দেয়া টিনগুলোও আলাদা অনুদান থেকে নেয়া।

হঠাৎ-হঠাৎ এসে হাজিরা খাতায় নিজের স্বাক্ষর করা। অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকা। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা যেমন নিয়মিত জাতীয় সঙ্গীত,শপথ বাক্য পাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক রুস্তম আলীর সুনির্দিষ্ট অবহেলার প্রমান পাওয়া গেছে। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাগজপত্র অফিসে না রেখে নিজের আওতায় রাখার বিষয়ে ওঠা শিক্ষকদের অভিযোগের যথাযথ উত্তর মেলেনি রুস্তম আলীর কাছে।

এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রুস্তম আলী দাবি করেন– সব চক্রান্ত। কিন্তু কেন! এমন প্রশ্নে বেরিয়ে আসে আরও ভেতরের খবর। তথ্য পাওয়া যায়, স্কুলটির ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে শিক্ষক রুস্তম আলীর সমর্থিত প্রার্থী আগেই আলোচনা করা প্রশাসন বিরোধী মামলার বাদী ওবাইদুল হক। সম্প্রতি কমিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রশাসন নির্বাচন কার্যক্রম স্থবির করে সুষ্ঠু পথ বিচারের জন্য সময় নিলে সভাপতি প্রার্থী ওবায়দুল হক এবং শিক্ষক রুস্তম আলী যশোরের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে প্রিজাইডিং অফিসার কে বাদ রেখেই কাগজপত্র করিয়ে নেয়ার দৌড়ঝাপ করেন।

ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনে অনিয়মের দায়ে রুস্তম আলীকে অভিযুক্ত করে স্কুলের শিক্ষকদের বেতন বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা অফিস।

সার্বিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিউত্তরে যৌক্তিক তেমন কিছু দাড় করাতে পারেননি অভিযুক্ত শিক্ষক রুস্তম আলী। তবে সভাপতি প্রার্থী ওবায়দুল হক জানিয়েছেন তার সভাপতিত্ব নিশ্চিত করতে তিনি দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবেন।

এলাকার আরেক সভাপতি প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন,সাবেক একাধিক সভাপতি,স্থানীয় বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে কথা বললে তারাও এসব প্রসঙ্গের সাথে সহমত জানান। তবে, শিক্ষক রুস্তম আলী এবং সভাপতি প্রার্থী ওবায়দুল প্রশাসন-স্থানীয় এমপি কাউকেই খুব একটা তোয়াক্কা করেন না জানিয়ে স্থানীয়রা জানান– তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সবাই মামলা-হামলার ভয় পায়।

অন্যদিকে রুস্তম আলী এবং ওবায়দুল হকের বিড়ম্বনায় ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির সুব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অর্থনৈতিক সুবিধা আর ক্ষমতার লোভের কাছে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নাজেহাল হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com