নেত্রকোনা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে অনুমতি ছাড়াই স্কুলের গাছ বিক্রি

  • আপডেট : ০৯:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ২৪৬

নাঈম আলীঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের জানাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমদ্যে দুটি গাছ কেটেও ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে জানাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের দুটি গাছ কেটে সীমানা প্রাচীরের মাঠে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গাছের কিছু অংশ স্কুলের লাগুয়া ধান খেতে রয়েছে।

জানাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি আবু মিয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, প্রধান শিক্ষিক আমাদের সাথে কোন আলোচনা না করেই হেলাল মিয়া নামের একজনের কাছে গাছগুলো বিক্রি করে দেন। ইতোমধ্যে হেলাল মিয়া দুটি গাছ কেটে ফেলেছেন। তারা বলেন, এই গাছগুলো স্কুলের সম্পত্তি, আমরা যখন এই স্কুলে পড়তাম তখন গাছগুলো লাগানো হয়েছিলো।

গাছের ক্রেতা হেলাল মিয়া বলেন, গাছগুলো আমি গত দুইমাস আগে ক্রয় করি। কাল আমি গাছগুলো কেটেছি। গাছের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আলী ও প্রধান শিক্ষকের জানা আছে। আমি তাদের কাছে গাছের দাম বাবদ ছয় হাজার টাকা দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক কানিজ ফাতেমা বলেন, আমি এই গাছ কাটার সাথে জড়িত নই। এই বিষয়ে আমার কোন জানা নেই। কারা গাছ কিনলো, কে বেচলো আমি কিছুই জানি না। আর গাছগুলোতে পোকা ছিলো। গাছ কাটায় ভালোই হয়েছে।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আলী বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করেই গাছ বিক্রয় করেছি। তবে উপজেলা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা আমাদের ঠিক হয় নি। আমরা মুলত স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েই গাছ কেটেছিলাম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের এই গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। আমি খবর পাওয়ামাত্রই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়েছি। গাছ কাটার ব্যাপারে তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। যে কারনে আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাটা গাছগুলো এখন প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

শ্রীমঙ্গলে অনুমতি ছাড়াই স্কুলের গাছ বিক্রি

আপডেট : ০৯:২১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নাঈম আলীঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের জানাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমদ্যে দুটি গাছ কেটেও ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার সকালে জানাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের দুটি গাছ কেটে সীমানা প্রাচীরের মাঠে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। গাছের কিছু অংশ স্কুলের লাগুয়া ধান খেতে রয়েছে।

জানাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি আবু মিয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, প্রধান শিক্ষিক আমাদের সাথে কোন আলোচনা না করেই হেলাল মিয়া নামের একজনের কাছে গাছগুলো বিক্রি করে দেন। ইতোমধ্যে হেলাল মিয়া দুটি গাছ কেটে ফেলেছেন। তারা বলেন, এই গাছগুলো স্কুলের সম্পত্তি, আমরা যখন এই স্কুলে পড়তাম তখন গাছগুলো লাগানো হয়েছিলো।

গাছের ক্রেতা হেলাল মিয়া বলেন, গাছগুলো আমি গত দুইমাস আগে ক্রয় করি। কাল আমি গাছগুলো কেটেছি। গাছের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আলী ও প্রধান শিক্ষকের জানা আছে। আমি তাদের কাছে গাছের দাম বাবদ ছয় হাজার টাকা দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক কানিজ ফাতেমা বলেন, আমি এই গাছ কাটার সাথে জড়িত নই। এই বিষয়ে আমার কোন জানা নেই। কারা গাছ কিনলো, কে বেচলো আমি কিছুই জানি না। আর গাছগুলোতে পোকা ছিলো। গাছ কাটায় ভালোই হয়েছে।

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ সভাপতি আব্দুল আলী বলেন, আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করেই গাছ বিক্রয় করেছি। তবে উপজেলা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা আমাদের ঠিক হয় নি। আমরা মুলত স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েই গাছ কেটেছিলাম।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের এই গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। আমি খবর পাওয়ামাত্রই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠিয়েছি। গাছ কাটার ব্যাপারে তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। যে কারনে আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাটা গাছগুলো এখন প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় থাকবে।