নেত্রকোনা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে ফিরলো আব্দুর রহিমের লাশ

মৃত্যুর ৯ মাস পর সৌদি আরব থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুর রহিমের লাশ পৌঁছায় নিজ বাড়িতে। সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন হারানোর কষ্টে আপনজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। শোকে তারা কাতর।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বড়বাজু পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত নসকর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫২) প্রায় ১৭ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। কঠোর পরিশ্রম করে রোজগারের টাকা বাড়িতে নিয়মিত পাঠাতে থাকেন। তিনি কয়েক বছর পরপর দেশে আসতেন। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ৩ মেয়ে নিয়ে স্ত্রী লিলি বেগম স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছিলেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের ১৭ মে সিলিন্ডার বিস্ফোরনে কর্মক্ষেত্রে আব্দুর রহিম মারা যান। পরিবারের সদস্যদের জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। একমাত্র ভরসার ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী সন্তানদের আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়।

নিহত আব্দুর রহিমের মেয়ের জামাতা নাহিদ সরকার বলেন মারা যাওয়ার দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর আমরা ওনার লাশ ফিরে পেয়েছি। তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখান থেকে কোন আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই। তদুপরি লাশ ফিরে পেতে দূতাবাসসহ বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করতে আমাদের ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

আব্দুর রহিমের বড় মেয়ে সাবিনা আক্তার পপি গাজীপুরের একটি গামের্ন্টস কারখানায় কাজ করেন, মেঝ মেয়ে পলি খাতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করেছেন এবং ছোট মেয়ে গৃহিনী। পুরো পরিবারের দেখভাল এবং দায়িত্ব ছিল তার উপরই।

লাশ ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করতে করতে বলছেন এমন ভাগ্য যেন আর কারো কপালে না জুটে। কান্না আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি সরকারের মাধ্যমে যদি কিছুটা আর্থিক সাহায্য কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেত , তাহলে তাদের অনেক উপকার হতো।

এ বিষয়ে কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন পরিবারের আর্থিক দূরাবস্থা ঘুচাতে কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। মর্মান্তিকভাবে তিনি মারা যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। সরকার কিংবা কর্মকালীন সৌদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে পরিবারটা বাঁচতে পারবে। তিনি আরো বলেন স্থানীয় দেউপুর পশ্চিমপাড়া কবরস্থানে আব্দুর রহিমের লাশ দাফন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে ফিরলো আব্দুর রহিমের লাশ

আপডেট : ০২:২৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

মৃত্যুর ৯ মাস পর সৌদি আরব থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আব্দুর রহিমের লাশ পৌঁছায় নিজ বাড়িতে। সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন হারানোর কষ্টে আপনজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। শোকে তারা কাতর।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বড়বাজু পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত নসকর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫২) প্রায় ১৭ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। কঠোর পরিশ্রম করে রোজগারের টাকা বাড়িতে নিয়মিত পাঠাতে থাকেন। তিনি কয়েক বছর পরপর দেশে আসতেন। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ৩ মেয়ে নিয়ে স্ত্রী লিলি বেগম স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছিলেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের ১৭ মে সিলিন্ডার বিস্ফোরনে কর্মক্ষেত্রে আব্দুর রহিম মারা যান। পরিবারের সদস্যদের জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। একমাত্র ভরসার ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী সন্তানদের আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়।

নিহত আব্দুর রহিমের মেয়ের জামাতা নাহিদ সরকার বলেন মারা যাওয়ার দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর আমরা ওনার লাশ ফিরে পেয়েছি। তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখান থেকে কোন আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই। তদুপরি লাশ ফিরে পেতে দূতাবাসসহ বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করতে আমাদের ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

আব্দুর রহিমের বড় মেয়ে সাবিনা আক্তার পপি গাজীপুরের একটি গামের্ন্টস কারখানায় কাজ করেন, মেঝ মেয়ে পলি খাতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করেছেন এবং ছোট মেয়ে গৃহিনী। পুরো পরিবারের দেখভাল এবং দায়িত্ব ছিল তার উপরই।

লাশ ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করতে করতে বলছেন এমন ভাগ্য যেন আর কারো কপালে না জুটে। কান্না আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি সরকারের মাধ্যমে যদি কিছুটা আর্থিক সাহায্য কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেত , তাহলে তাদের অনেক উপকার হতো।

এ বিষয়ে কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন পরিবারের আর্থিক দূরাবস্থা ঘুচাতে কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। মর্মান্তিকভাবে তিনি মারা যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। সরকার কিংবা কর্মকালীন সৌদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে পরিবারটা বাঁচতে পারবে। তিনি আরো বলেন স্থানীয় দেউপুর পশ্চিমপাড়া কবরস্থানে আব্দুর রহিমের লাশ দাফন করা হয়েছে।