নেত্রকোনা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় চিকিৎসা সহায়তার চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে আঞ্জুমান স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • আপডেট : ০৫:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৯
  • ৪১৭

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা আঞ্জুমান সরকারী আদর্শ স্কুলের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সড়কে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির আহমেদ রাফির চিকিৎসার জন্য গত দুদিন ধরে চাঁদা উঠাচ্ছে স্বজন, পাঠিসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে কিছু টাকা তুলে বুধবার রাফির বাবার হাতে দেন প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু বৃহস্পতিবার স্কুলের তহবিল থেকে এক লাখ টাকা দাবী ও প্রত্যায়ন পত্র চাইলে স্কুলের নিয়ম কানুন বর্হিভূত ভাবে দেয়া যাবে না জানালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা স্কুলের সামনের সড়কের গাড়ী আটকিয়ে দেয়। স্কুলের গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন করে টাকার ব্যবস্থার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থী সোয়াদ জানায়, আমরা যখন টাকা চাইছি আমাদেরকে তারা স্কুল থেকে বের করে দেয়। পরে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আমরা ভালোভাবে বলেছি স্কুলের ফন্ডেই অনেক টাকা আছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এই পর্যন্ত কোন টাকা কাউকে দিতে হয়নি। তাহলে টাকাগুলো কোথায় গেলো। আমরা সেখান থেকে টাকা চেয়েছি। আমরা তো রাজপথ ছাড়া কোন উপায় দেখিনা বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন জানান, গত দুদিন ধরে স্কুলে ডে মনিং শিফট থেকে বাচ্চারা চাঁদা নিচ্ছে। আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকেও কিছু তুলে দেয়া হয়েছে। গত বুধবার সেই টাকাগুলো একত্র করে আমি রাফির বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। স্কুলের ফান্ড থেকেও ১০ হজার টাকা দেয়ার ব্যাবস্থা করেছি। কিন্তু তারা একলাখ টাকা দাবী করেছে। এখন এতো টাকা তো আমি একা দিতে পারবো না। নিয়ম কানুন আছে। সেগুলো মেইনটেইন করে দিতে হবে।

এর মাঝে সিক্সের দুটো ছেলে গত তিনদিন আগে রাস্তায় চাঁদা তোলা নিয়ে ঝামেলা করেছে। তাদের কথা শুনছিলাম ওদের অভিভাবকদের ডেকে। এর মাঝে এই ছেলেরা এসে প্রত্যায়ন পত্র চাইছে বাইরে টাকা তুলতে। কিন্তু সেটা তো এই সরকারী স্কুল থেকে দেয়া যায় না। স্কুলের ভেতর থেকে নিয়েছে আমরাও দিয়েছি। কিন্তু বাহিরেরটা আমি কেমন করে দেই। এটা না করাতেই তারা স্কুলের সব শিক্ষার্থীকে ডেকে বের করে ফেলে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

নেত্রকোনায় চিকিৎসা সহায়তার চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে আঞ্জুমান স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৫:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০১৯

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা আঞ্জুমান সরকারী আদর্শ স্কুলের এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সড়কে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির আহমেদ রাফির চিকিৎসার জন্য গত দুদিন ধরে চাঁদা উঠাচ্ছে স্বজন, পাঠিসহ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে কিছু টাকা তুলে বুধবার রাফির বাবার হাতে দেন প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু বৃহস্পতিবার স্কুলের তহবিল থেকে এক লাখ টাকা দাবী ও প্রত্যায়ন পত্র চাইলে স্কুলের নিয়ম কানুন বর্হিভূত ভাবে দেয়া যাবে না জানালে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা স্কুলের সামনের সড়কের গাড়ী আটকিয়ে দেয়। স্কুলের গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এবং প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্কুল কর্তৃপক্ষ আবেদন করে টাকার ব্যবস্থার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থী সোয়াদ জানায়, আমরা যখন টাকা চাইছি আমাদেরকে তারা স্কুল থেকে বের করে দেয়। পরে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আমরা ভালোভাবে বলেছি স্কুলের ফন্ডেই অনেক টাকা আছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এই পর্যন্ত কোন টাকা কাউকে দিতে হয়নি। তাহলে টাকাগুলো কোথায় গেলো। আমরা সেখান থেকে টাকা চেয়েছি। আমরা তো রাজপথ ছাড়া কোন উপায় দেখিনা বলেও জানায় শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন জানান, গত দুদিন ধরে স্কুলে ডে মনিং শিফট থেকে বাচ্চারা চাঁদা নিচ্ছে। আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকেও কিছু তুলে দেয়া হয়েছে। গত বুধবার সেই টাকাগুলো একত্র করে আমি রাফির বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। স্কুলের ফান্ড থেকেও ১০ হজার টাকা দেয়ার ব্যাবস্থা করেছি। কিন্তু তারা একলাখ টাকা দাবী করেছে। এখন এতো টাকা তো আমি একা দিতে পারবো না। নিয়ম কানুন আছে। সেগুলো মেইনটেইন করে দিতে হবে।

এর মাঝে সিক্সের দুটো ছেলে গত তিনদিন আগে রাস্তায় চাঁদা তোলা নিয়ে ঝামেলা করেছে। তাদের কথা শুনছিলাম ওদের অভিভাবকদের ডেকে। এর মাঝে এই ছেলেরা এসে প্রত্যায়ন পত্র চাইছে বাইরে টাকা তুলতে। কিন্তু সেটা তো এই সরকারী স্কুল থেকে দেয়া যায় না। স্কুলের ভেতর থেকে নিয়েছে আমরাও দিয়েছি। কিন্তু বাহিরেরটা আমি কেমন করে দেই। এটা না করাতেই তারা স্কুলের সব শিক্ষার্থীকে ডেকে বের করে ফেলে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।