নেত্রকোনা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক ছাত্রী অন্তঃসত্তা,গর্ভপাত করাতে নানা কৌশল

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কওমী মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক ধর্ষণেৃর শিকার হয়ে অন্তঃসত্তা ৫ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে গর্ভপাত করাতে নানা কৌশল। অবশেষে শিক্ষাথীটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সুপার আ. হালিম সাগর (৩৫) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর থেকে স্বপরিবারে এলাকা থেকে পলাতক সেই সুপার।

ওই সুপার জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চর আমতলা কোনাবাড়ী গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েক বছর আগে রোয়াইলবাড়ী বাজার সংলগ্ন রোয়াইল বাড়ি কওমী মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সুপারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালের ওসিসি সূত্র ও অভিযোগকারীরা জানান, শিশুটি রোয়াইল বাড়ি কওমী মহিলা মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণিতে পড়তো। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার ২ সন্তানের জনক আ. হালিম সাগর (৩৫) গত প্রায় চারমাস পূর্বে ধর্ষন করে। এই ব্যাপারে কাউকে না বলতে মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করে।

পরবর্তীতে মেয়েটি অন্তঃস্বত্তা হলে সুপার তাকে গত দুমাস পূর্বে কৃমি নাশক ট্যাবলয়েড খাওয়ান। পরবর্তীতে গত পরশুদিন পুনরায় শিশুটিকে কলা খাওয়ালে তার গর্ভপাত ঘটে। এরপর থেকে মেয়েটির অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণ শুরু হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হলে প্রথমে পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায় ও পরে গত রবিবার রাতে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকালে ডাক্তার এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং হাসপাতলের নারী বান্ধব পর্যক্ষেক্ষকরা কাউন্সিলিং শুরু করেন। শিশুটির মা গত চারবছর পূর্বে মারা যাওয়ায় বাবা ও বড় বোনই তাকে লালন পালন করছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাবা কেন্দুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে অভিযুক্ত সুপার এলাকা থেকে পলাতক রয়েছে।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রইসিস সেন্টারের (ওসিসি) প্রোগ্রাম অফিসার এস এম এ সেলিম জানান , তারা ভিকটিম সাপোর্টে কাজ করে যাচ্ছেন।

হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরএমও একরামুল হাসান বলেন, তারা সার্বক্ষণিক পর্যব্ক্ষেণ করছেন। শারিরীক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে। এছাড়া মানসিক অবস্থার জন্য কাউন্সিলিং করছেন।

কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মাদ্রাসা সুপার বাড়ী ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছে। অভিযুক্ততে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক ছাত্রী অন্তঃসত্তা,গর্ভপাত করাতে নানা কৌশল

আপডেট : ০৬:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কওমী মাদ্রাসার সুপার কর্তৃক ধর্ষণেৃর শিকার হয়ে অন্তঃসত্তা ৫ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে গর্ভপাত করাতে নানা কৌশল। অবশেষে শিক্ষাথীটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে বর্তমানে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সুপার আ. হালিম সাগর (৩৫) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর থেকে স্বপরিবারে এলাকা থেকে পলাতক সেই সুপার।

ওই সুপার জেলার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের চর আমতলা কোনাবাড়ী গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েক বছর আগে রোয়াইলবাড়ী বাজার সংলগ্ন রোয়াইল বাড়ি কওমী মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে সুপারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালের ওসিসি সূত্র ও অভিযোগকারীরা জানান, শিশুটি রোয়াইল বাড়ি কওমী মহিলা মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণিতে পড়তো। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার ২ সন্তানের জনক আ. হালিম সাগর (৩৫) গত প্রায় চারমাস পূর্বে ধর্ষন করে। এই ব্যাপারে কাউকে না বলতে মেরে ফেলার হুমকী প্রদান করে।

পরবর্তীতে মেয়েটি অন্তঃস্বত্তা হলে সুপার তাকে গত দুমাস পূর্বে কৃমি নাশক ট্যাবলয়েড খাওয়ান। পরবর্তীতে গত পরশুদিন পুনরায় শিশুটিকে কলা খাওয়ালে তার গর্ভপাত ঘটে। এরপর থেকে মেয়েটির অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণ শুরু হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হলে প্রথমে পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায় ও পরে গত রবিবার রাতে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকালে ডাক্তার এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং হাসপাতলের নারী বান্ধব পর্যক্ষেক্ষকরা কাউন্সিলিং শুরু করেন। শিশুটির মা গত চারবছর পূর্বে মারা যাওয়ায় বাবা ও বড় বোনই তাকে লালন পালন করছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাবা কেন্দুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে অভিযুক্ত সুপার এলাকা থেকে পলাতক রয়েছে।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রইসিস সেন্টারের (ওসিসি) প্রোগ্রাম অফিসার এস এম এ সেলিম জানান , তারা ভিকটিম সাপোর্টে কাজ করে যাচ্ছেন।

হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরএমও একরামুল হাসান বলেন, তারা সার্বক্ষণিক পর্যব্ক্ষেণ করছেন। শারিরীক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো আছে। এছাড়া মানসিক অবস্থার জন্য কাউন্সিলিং করছেন।

কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মাদ্রাসা সুপার বাড়ী ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছে। অভিযুক্ততে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।