নেত্রকোনা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী

  • আপডেট : ০৬:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ২৫৪

কাজল তালুকদার, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর  ইউনিয়নের নাগনিচারিকুমপাড়া গ্রামে এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেছিল তার পরিবার। আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনার খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ছাত্রীর বাল্য বিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করে তার অভিভাবকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই মেয়েটি নাগনিচারিকুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.১৭ পেয়ে পাশ করেছে। বর্তমানে সে হরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৩ বছর।

আগামী (২০ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বিকেলে একই উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সন্নাসীপাড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল। আজ শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীমকে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে যান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে বিয়ের প্রস্তুতি করা বন্ধ হয়। আর এরই দায়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে তা আদায় করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বিয়ের সকল প্রস্তুতি বন্ধ করা হয়েছে এবং বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়ায় মেয়ের অভিভাবককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর অধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী

আপডেট : ০৬:৫৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাজল তালুকদার, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার সদর  ইউনিয়নের নাগনিচারিকুমপাড়া গ্রামে এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করেছিল তার পরিবার। আজ শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনার খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ছাত্রীর বাল্য বিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করে তার অভিভাবকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই মেয়েটি নাগনিচারিকুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.১৭ পেয়ে পাশ করেছে। বর্তমানে সে হরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জন্ম সনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৩ বছর।

আগামী (২০ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বিকেলে একই উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সন্নাসীপাড়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল মজিদের সঙ্গে তার বিয়ের কথা ছিল। আজ শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ইসলাম মীমকে নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে যান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে বিয়ের প্রস্তুতি করা বন্ধ হয়। আর এরই দায়ে ওই ছাত্রীর অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে তা আদায় করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ওই ছাত্রীর পরিবারকে বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বিয়ের সকল প্রস্তুতি বন্ধ করা হয়েছে এবং বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়ায় মেয়ের অভিভাবককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর অধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।