নেত্রকোনা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না- আবরারের মা

  • আপডেট : ০৩:২১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯
  • ১৩০৫ বার পঠিত

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নিজ জেলা কুষ্টিয়া এখন এক আতঙ্কের নগরী। বিশেষ করে আবরারের মৃত্যুর পর তার পরিবার, কুমারখালীর রায়ডাঙ্গাবাসী ও তার নিজ স্কুল কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভীতিকর এক অবস্থার মাঝে দিনযাপন করছে।

আবরারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি কিছুই বলতে চাই না। আবরারের মায়ের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে কতটা হুমকির মাঝে রয়েছে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবরারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলের জন্য সব ছেলেরা রাজপথে নেমেছে। আমি চাই না আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। আমার এক ছেলে নেই, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছেলেরা আমার সন্তান। তাদের ওপর যেন অত্যাচার না হয়।

তিনি বলেন, যে ভিসি আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দিতে পারল না, সে ভিসি কিভাবে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েদেরকে নিরাপত্তা দেবে? আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। আমি এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি আমার ছোট ছেলে আবরার ফায়াজের নিরাপত্তা চাই।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই। তাদের বুয়েট থেকে বহিষ্কার চাই। আমার বড় ছেলেকে সবচেয়ে বড় ডিগ্রি নিতে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না। আমার সেই স্বপ্ন যেন ছোট ছেলেকে দিয়ে পূরণ করতে পারি সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এদিকে, দ্রæত বিচার আইনে মামলার বিচারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, প্রিয় সন্তানকে যারা বাঁচতে দেয়নি তাদেরও কঠিন পরিণতি দেখে কবরে যেতে চাই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের বরকত উল্লাহ বলেন, দ্রæত চার্জশিটের পাশাপাশি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি দ্রæত বিচার আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

তিনি বলেন, মামলার আসামি বাদেও হত্যাকান্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে বের করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেবেন, আমি তার কথার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হোক। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। সেই সঙ্গে এমন মেধাবী ছাত্ররা যেন অকালে ঝরে না পড়ে।

গত রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চক বাজার থানায় মামলা করেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ জনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না- আবরারের মা

আপডেট : ০৩:২১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০১৯

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের নিজ জেলা কুষ্টিয়া এখন এক আতঙ্কের নগরী। বিশেষ করে আবরারের মৃত্যুর পর তার পরিবার, কুমারখালীর রায়ডাঙ্গাবাসী ও তার নিজ স্কুল কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভীতিকর এক অবস্থার মাঝে দিনযাপন করছে।

আবরারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি কিছুই বলতে চাই না। আবরারের মায়ের এ বক্তব্যই প্রমাণ করে কতটা হুমকির মাঝে রয়েছে পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আবরারের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলের জন্য সব ছেলেরা রাজপথে নেমেছে। আমি চাই না আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। আমার এক ছেলে নেই, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছেলেরা আমার সন্তান। তাদের ওপর যেন অত্যাচার না হয়।

তিনি বলেন, যে ভিসি আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দিতে পারল না, সে ভিসি কিভাবে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েদেরকে নিরাপত্তা দেবে? আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। আমি এক ছেলেকে হারিয়েছি, আরেক ছেলেকে হারাতে চাই না। আমি আমার ছোট ছেলে আবরার ফায়াজের নিরাপত্তা চাই।

তিনি বলেন, আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই। তাদের বুয়েট থেকে বহিষ্কার চাই। আমার বড় ছেলেকে সবচেয়ে বড় ডিগ্রি নিতে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। সেই স্বপ্ন আমার পূরণ হলো না। আমার সেই স্বপ্ন যেন ছোট ছেলেকে দিয়ে পূরণ করতে পারি সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এদিকে, দ্রæত বিচার আইনে মামলার বিচারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, প্রিয় সন্তানকে যারা বাঁচতে দেয়নি তাদেরও কঠিন পরিণতি দেখে কবরে যেতে চাই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের বরকত উল্লাহ বলেন, দ্রæত চার্জশিটের পাশাপাশি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি দ্রæত বিচার আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

তিনি বলেন, মামলার আসামি বাদেও হত্যাকান্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তদন্ত করে বের করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেবেন, আমি তার কথার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হোক। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। সেই সঙ্গে এমন মেধাবী ছাত্ররা যেন অকালে ঝরে না পড়ে।

গত রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে চক বাজার থানায় মামলা করেন তার বাবা বরকত উল্লাহ। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৩ জনের নাম মামলার এজাহারে রয়েছে।