নেত্রকোনা ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অবশেষে মদনে অপরিকল্পীত সুইচ গেট ও বাধঁ নির্মাণ কাজ বন্ধ

নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওর এলাকা বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গনেশ হাওরে অপরকিল্পীত সুইচ গেট ও বেরি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ জনগনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বন্ধ করে দিল স্থানীয় এমপি রেবেকা মমিন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাইকার অর্থায়নে ২ কোটি ৭৭ লাখ ব্যয়ে এ কাজের কার্যদেশ পান আতাউর রহমান খান লি ঃ নামীয় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কোন পরামর্শ না করে কাজ শুরু করলে কৃষকগণ ক্ষতির কথা বলে ¯ø্ইুজ গেট ও বাঁধ নির্মাণ করতে নিষেধ করেন।

এ নিয়ে এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেন দরবার ও বানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কৃষকদের দাবি এ স্থানে অপরকিল্পীত ¯øুইজ গেট ও বেরিবাধঁ নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই প্রায় শতাধিক হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এ প্রকল্পটি কৃষকের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ হবে না।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান রোববার এক পত্রের মাধ্যমে এমপির বরাত দিয়ে এ কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ খবরের প্রেক্ষিতে সোমবার সরজমিনে গেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারী লোকজনের বসবাসের ঘরটিও তালা বদ্ধ রয়েছে। খোলা আকাশের নীচে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে রয়েছে।

এ সময় কৃষক মজনু মিয়া,আব্দুর রাজ্জাক, আবুল কালাম,দিলোয়ার,শফিকুল ইসলাম,বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান,এখানে ¯øুইজ গেট ও বেরিবাধঁ নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই বোরো জমি তলিয়ে যাবে। এখানে প্রায় তিন হাজার একর জমি রয়েছে। আমরা ঠিকাদারী লোকজনকে বার বার নিষেধ করলেও তারা আমাদের কথা মানেনি। এ নিয়ে কয়েকবার দেনদরবার হয়েছে। আমরা মানববন্ধন করেছি। অবশেষে এমপি রেবেকা মনিনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা এ ক্ষতি থেকে রক্ষা পেল।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দিপংকর সরকার মোবাইল ফোনে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পত্রের মাধ্যমে কাজটি বন্ধ রেখেছেন। এমপি সাহেবের সাথে যোগাযোগ হয়েছে এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে অচিরেই বাকি কাজ শুরু করা হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান বলেন,কার্য এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। এলাকাটি শান্ত রাখার স্বার্থে এবং কাজটি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগন যেন ক্ষতি গ্রস্ত না হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত কাজটি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে এমপি মহোদয়ের দিক নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

অবশেষে মদনে অপরিকল্পীত সুইচ গেট ও বাধঁ নির্মাণ কাজ বন্ধ

আপডেট : ০৫:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওর এলাকা বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গনেশ হাওরে অপরকিল্পীত সুইচ গেট ও বেরি বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ জনগনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বন্ধ করে দিল স্থানীয় এমপি রেবেকা মমিন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাইকার অর্থায়নে ২ কোটি ৭৭ লাখ ব্যয়ে এ কাজের কার্যদেশ পান আতাউর রহমান খান লি ঃ নামীয় ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কোন পরামর্শ না করে কাজ শুরু করলে কৃষকগণ ক্ষতির কথা বলে ¯ø্ইুজ গেট ও বাঁধ নির্মাণ করতে নিষেধ করেন।

এ নিয়ে এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেন দরবার ও বানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কৃষকদের দাবি এ স্থানে অপরকিল্পীত ¯øুইজ গেট ও বেরিবাধঁ নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই প্রায় শতাধিক হেক্টর বোরো জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এ প্রকল্পটি কৃষকের ক্ষতি ছাড়া কোন লাভ হবে না।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান রোববার এক পত্রের মাধ্যমে এমপির বরাত দিয়ে এ কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ খবরের প্রেক্ষিতে সোমবার সরজমিনে গেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারী লোকজনের বসবাসের ঘরটিও তালা বদ্ধ রয়েছে। খোলা আকাশের নীচে নির্মাণ সামগ্রী পড়ে রয়েছে।

এ সময় কৃষক মজনু মিয়া,আব্দুর রাজ্জাক, আবুল কালাম,দিলোয়ার,শফিকুল ইসলাম,বেলায়েত হোসেন বেলাল জানান,এখানে ¯øুইজ গেট ও বেরিবাধঁ নির্মাণ করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই বোরো জমি তলিয়ে যাবে। এখানে প্রায় তিন হাজার একর জমি রয়েছে। আমরা ঠিকাদারী লোকজনকে বার বার নিষেধ করলেও তারা আমাদের কথা মানেনি। এ নিয়ে কয়েকবার দেনদরবার হয়েছে। আমরা মানববন্ধন করেছি। অবশেষে এমপি রেবেকা মনিনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হওয়ায় কৃষকরা এ ক্ষতি থেকে রক্ষা পেল।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি দিপংকর সরকার মোবাইল ফোনে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পত্রের মাধ্যমে কাজটি বন্ধ রেখেছেন। এমপি সাহেবের সাথে যোগাযোগ হয়েছে এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে অচিরেই বাকি কাজ শুরু করা হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান বলেন,কার্য এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। এলাকাটি শান্ত রাখার স্বার্থে এবং কাজটি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগন যেন ক্ষতি গ্রস্ত না হয় সেই বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত কাজটি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে এমপি মহোদয়ের দিক নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।