বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন বাংলা বাংলা English English
ঘোষনা :
৥ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আপনিও চাইলে পূর্বকন্ঠ অনলাইন প্রকাশনায় লিখতে পারেন কলাম অথবা মতামত ৥ আপনার গঠনমূলক লেখা ছাপা হবে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ৥ অবশ্যই সম্পাদনা সহকারে ৥ প্রয়োজনে : ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ৥
পূর্বধলায় থেমে গেছে অলৌকিক আগুন ! বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য
/ ৫৯০ বার পড়া হয়েছে।
আপডেট : বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
আগুন

নেত্রকোনার পূর্বধলায় সেই গৃহস্থের বাড়িতে গত ৫দিন ধরে ঘরের চালে,বিছানায়, শোকেসে, ধানের মাচায় ও খড়ে ক্ষণে ক্ষণে অলৌকিকভাবে আগুন লাগার প্রকৃত রহস্য অবশেষে বেরিয়ে এসেছে।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাড়ির ও পাশের গ্রামের ৩ নারীসহ ৫জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকের পর অলৌকিকভাবে আগুন লাগার ঘটনা একে বারেই থেমে গেছে। ভেস্তে গেছে ঘটনার সাথে জড়িতদের মিশন। বেরিয়ে এসেছে আসল রহস্য।



মঙ্গলবার(২৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে দশটার দিকে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তাদের সংগ্রহকৃত আলামত ও তদন্ত রির্পোটের মূল তথ্য মুটোফোনে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।

অপরদিকে স্থানীয় লোকজনসহ এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বললেও মিলে চমকপ্রদ তথ্য।



পূর্বধলা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মো. আবুল কালাম খান পাঠান বলেছেন, ধাতব সোডিয়াম, পটাশিয়াম বা ফসফরাস এই মৌল গুলি যে কোনো জায়গায় রাখলে বাতাস বা অক্সিজেনের সংস্পর্শ পেলেই আগুন জ্বলবে। এ ছাড়া অলৌকিক আগুন জ্বলার আর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যা নেই।

রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষকের এ তথ্যটি যোক্তিক হলেও এ অগ্নিকান্ডটি ভিন্ন প্রক্রিয়ায় ঘটানো হয়েছে বলে দাবী সিআইডি পুলিশের।



সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির লাল মিয়ার মেয়ে লাকি আক্তার (১২), ছেলে মাসুদ (১৯), পাশের বাড়ির আছমত বেপারীর ছেলে আজাদ মিয়া (২৯) ও আগুন দেখতে আসা পাশ্ববর্তী কোচখালী গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের স্ত্রী খোদেজা খাতুন (৫০) এবং একই গ্রামের রুস্তম আলীর স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪০) নামের যে ৫ জনকে আটক করে ছেড়ে দিয়েছিল। এদের মধ্য আজাদ মিয়া, লাকি আক্তার ও জহুরা খাতুন এই ৩ জন ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এমনটিই জানিয়েছেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বিশেষ স্বার্থ হাসিল অর্থাৎ মাজার করার জন্য ওরা ক্ষণে ক্ষণে অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।



কেননা আমাদের উপস্থিতিতে হঠাৎ বাড়ির লাল মিয়ার একটি ঘর থেকে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু হলে তাৎক্ষণিক আমরা দৌঁড়ে গিয়ে দেখি ঘরে একটি শোকেসের উপর কিছু বইয়ে আগুন জ্বলছে। এ সময় ওই ঘরে লাকি আক্তার ও আজাদ মিয়াকে আটক করার পর তাদের কাছে দুটি গ্যাস ম্যাচ পাওয়া যায়। অর্থাৎ জহুরা খাতুন এবং এলাকার এক কবিরাজের প্রলোভনে পড়ে ওরা দফায় দফায় অগ্নিকান্ড গঠিয়েছে ও তাৎক্ষণিক নিভিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি এমনটিই জানিয়ে বলেন, বিশেষ স্বার্থ হাসিলের জন্য এক বা একাধিক ব্যক্তি এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছিল।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হাসান জানান, ওই বাড়িতে এক নারী কবিরাজ আছে। আমরা শুনেছি তিনি মাজার করার প্রয়াসে মানুষের আস্থা অর্জনে এ পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।



তবে পূর্বধলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান আটককৃত ৫জনকে ছেড়ে দেওয়ার সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা ৫ ব্যক্তির কাছ থেকে আগুন লাগানোর বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের মৃত গুঞ্জর আলীর ছেলে লাল মিয়া ও শহিদুলের বাড়িতে অলৌকিক অগ্নিকান্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ২৬ ডিসেম্বর সকালে ময়মসিংহ থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেসন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি), ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের লোকজন। আর এ অলৌকিক আগুন দেখার জন্য ওই বাড়িতে ভিড় করে শতশত লোক। পরে পুলিশ ৫জনকে আটকের পর থেকেই থেমে যায় অলৌকিক বা রহস্যজনক আগুন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও সংবাদ
আমাদের ফেসবুক পেইজ