বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English
ঘোষনা :
৥ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আপনিও চাইলে পূর্বকন্ঠ অনলাইন প্রকাশনায় লিখতে পারেন কলাম অথবা মতামত ৥ আপনার গঠনমূলক লেখা ছাপা হবে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ৥ অবশ্যই সম্পাদনা সহকারে ৥ প্রয়োজনে : ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ৥
বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করছে বাংলাদেশ
/ ৪৬ বার পড়া হয়েছে।
আপডেট : শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০, ৭:৩৯ অপরাহ্ন

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। ‘নতুন স্বাভাবিক’ এর মধ্যে গেল কয়েক মাসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ আলোচনা তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সহযোগিতামূলক ঐকমত্য রয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে দুই দেশই নিজ নিজ অর্থনীতিকে আরো সংহত করতে পারে। দুদেশের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতাকে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই।

অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী ও দৃঢ় করার বিষয়টি আমার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথমদিন থেকে অগ্রাধিকার পেয়েছে। চলমান এই বছরটি মহামারির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে এরমধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা অনেক ভালো ছিল।

এদিন, সকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জ্বালানি, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিসহ সাতটি বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে সাতটি কাঠামো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল শীর্ষ বৈঠকের আগেই এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

একইদিন মরিশাসের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সড়কের নামফলক উন্মোচনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভিডিওবার্তা পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বার্তায় বলেন, মরিশাসের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ও হাতে হাত রেখে এক সঙ্গে পথচলতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সড়কের নামফলক উন্মোচন করেন মরিশাসের উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আনোয়ার হুসনু ও পোর্ট লুইসের মেয়র মাহফুজ মুসা।

এর আগে গেল ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী। সাক্ষাতের সময় তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেন। শেখ হাসিনাও হাইকমিশনারের মাধ্যমে ইমরান খানকে শুভেচ্ছা জানান।

সাক্ষাতকালে পাকিস্তানের অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তা ভুলে যেতে পারে না বাংলাদেশ। একাত্তরের ঘটনাগুলো ভোলা যায় না। সেই ক্ষত চিরদিন রয়ে যাবে।

এসময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক ফোরামগুলোর নিষ্ক্রিয়তার বিষয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনস্যুলেশন সক্রিয় করতে শেখ হাসিনার সহযোগিতাও চান। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাওয়ায় এখানে কোনও বাধা নেই। ইমরান আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে কোনও রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।

এর আগের দিন (৩ ডিসেম্বর) সুইডিশ এবং স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতরা গণভবনে পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা সুইডেন এবং স্প্যানিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে ইতিবাচক আশ্বাস দেন।

একইদিন আবার বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার নবনিযুক্ত হাইকমিশনার হাজনাহ বিনতি মো. হাসিম, শ্রীলংকার হাইকমিশনার সুধর্শন দিপাল সুরেশ সেনেভিরান্তে এবং মিশরের রাষ্ট্রদূত হাইথাম গোবাসি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। নতুন দূতরা বঙ্গভবনে এসে পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাদের গার্ড অব অনার দেয়।

নতুন দূতদের স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা এবং মিশরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্কন্নোয়নকে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার দেয়। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দূতরা দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।

সাক্ষাতকালে মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা এবং মিশরের নতুন দূতরা বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদারে সার্বিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন। তারা দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তারা করোনা মহামারি মোকাবেলা এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

গেল ২৬ নভেম্বর সৌদি আরবের নতুন রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসেফ আল-দুহাইলান গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশিদের হৃদয়ে সৌদি আরবের জন্য বিশেষ স্থান রয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত এবং বাংলাদেশ সব সময় এই সম্পর্ককে মূল্য দেয়। প্রধানমন্ত্রী সৌদি সহযোগিতায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উন্নয়নের কথাও স্মরণ করেন এবং দেশের জনশক্তির সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরবে কৃষিশ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসেফ আল-দুহাইলান বলেন, সৌদি আরবে ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কাজ করছে। তারা কঠোর পরিশ্রমী এবং সৌদি অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। সৌদি আরবে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও করেন।

একইদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টসিল। এসময় দুই দেশের পারস্পারিক সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

তার আগে ২৪ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিনদে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো দি ওসিস বেনেতিজ সালাস এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত অ্যাসপেন রিকতার সেভেন্দসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে তিনটি দেশের রাষ্ট্রদূতের কাছে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরেন মন্ত্রী।

বৈঠককালে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের তিন বছর হলেও একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। কারণ মিয়ানমার ফিরিয়ে নেয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করেনি। এ সময় তিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবেন বলে আশ্বস্ত করেন। বৈঠকে ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জোনে বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রদূতদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া হাইটেক পার্কে আইসিটি খাতে বিনিয়োগের জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ১৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শিউআখ। সাক্ষাতের সময় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, কোভিডের সময়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসন ইস্যু, এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর আদেল আল জুবাইরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর অফিসে রাষ্ট্রদূতকে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবাইর। রাষ্ট্রদূতের সব কর্মকাণ্ডের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। মেগা প্রকল্পসহ নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সবরকম সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য সুত্র: বাংলাদেশ জার্নাল।

Print Friendly, PDF & Email
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও সংবাদ
আমাদের ফেসবুক পেইজ