শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

পূর্বধলায় ভূমিদস্যু কর্তৃক সরকারি জমিতে ভূমিহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণে বাধা

রির্পোটারের নাম:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০, ১১:২৯ অপরাহ্ন
  • ৩২৯ বার পঠিত
গৃহ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী ভূমিদস্যু বুলবুল মীরের বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে ভূমিহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে বাধা ও ভূমি অফিসের লোকজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি কাজে বাধা ও হুমকীর ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় ওই ভূমিদস্যু বুলবুল মীরের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের ভূমি ও গৃহহীন ৯ পরিবারের জন্য হোগলা বাজারের পাশে ৮৯০৫নং দাগের সরকারি ৬৪শতাংশ জমিতে গৃহ নির্মাণের উদ্যোগে নেওয়া হয়।

ওই জমিতে ভূমি অফিসের উদ্যোগে মাটি ভরাট করতে গেলে হোগলা বাজারের বাসিন্দা সুরুজ আলী মীরের ছেলে বুলবুল মীর বাধা দেন। এ সময় ভূমি অফিসের লোকজনকে তিনি দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গাটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন।

হোগলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৬৪শতাংশ জমি ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৫০ সালে সূর্যকান্ত আচার্য্য ও শশীকান্ত আচার্যের কাছ থেকে প্রজাস্বত্ব আইনমূলে জমিটির মালিকানা সরকারের কাছে আসে। পরবর্তীতে জমিটি ময়মনসিংহ কালেক্টরেট পুর্ব পাকিস্থানের নামে ও বিআরএস রেকর্ডে ১৭২২৫ দাগে ৩০শতক ও ১৭২২৬ দাগে ৩৪ শতক সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, বুলবুল মীর এলাকায় চিহ্নত সন্ত্রাসী। সে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানান অপকর্ম ও স্থানীয়দের হয়রানি করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু বলেন, সরকার জমিটির মালিক হওয়া সত্যেও স্থানীয় আদম মীর ও বাদল মীর নামে দুই ব্যক্তি ১৯৭৬ সালে আদালতে মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৭ অক্টোবর সরকারের পক্ষে রায় আসে। পরবর্তীতে নেত্রকোনা জেলা যুগ্ম জজ আদালতে আপিল করলে আদালত সরকারের পক্ষে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

তবে বুলবুল মীরের দাবি, জমিটির মালিকানা নিয়ে ১৮ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। এবং তা এখনও চলমান।

পূর্বধলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে তার বাধা উপেক্ষা করে গৃহ নির্মাণের জন্য ওই স্থানে মাটি ভরাটের কাজ চলতে থাকলে বুলবুল মীর শ্রমিকদের কাজে বাধা ও হুমকী-ধমকী দিয়ে যাচ্ছেন।

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, জমিটির বৈধ মালিক সরকার। এটি অবৈধ ভাবে দখল করতে বুলবুল মীর নামের স্থানীয় এক দুস্কৃতিকারী অপকৌশল চালাচ্ছে। আমি গতকাল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছি।

শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবেনা এই প্রতিশ্রুতি পূরণে আমরা বদ্ধ পরিকর। সরকারি কাজে কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে পূর্বধলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন, থানায় বুলবুল মীরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় পৃথক দুইটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর



© All rights reserved © 2016 purbakantho
কারিগরি সহযোগিতায়- Shahin প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২