শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

হরিণাকুণ্ডুতে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

রির্পোটারের নাম:
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০, ৫:২২ অপরাহ্ন
  • ১৩৬ বার পঠিত
খেজুর রস সংগ্রহ করছেন এক গাছি।
দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার খ্যাত ঝিনিইদহের হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলে শীতের আগমনী বার্তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে খেজুরের রস সংগ্রহের লক্ষে গাছীদের ব্যস্ত সময় পার।



খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য এখনই গাছের মাথায় বিশেষ পদ্ধতিতে ডালকটে রস সংগ্রেহের পূর্ব প্রস্ততিপর্ব। আর  ক‘দিন পরই গাছে লাগানো হবে মাটির পাতিল। সেই পাতিলে সংগ্রহ করা হবে সুমিষ্ট রস। যা দিয়ে তৈরি হবে দেশের সর্বত্র লোভনীয় মিষ্টি নলানী পাটালী এবং মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর সুস্বাদু গুড়।



ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু অঞ্চলের প্রয়ই সর্বত্রই চোখে পড়ে খেজুর গাছ। উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে উপজেলাতে খেজুর গাছের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের মত। বিভিন্ন রাস্তার আশে পাশে, অনাবাদী জমিসহ চাষযোগ্য জমির চৌহদ্দির আইল নামক সীমানার চতুর্দিকে খেজুর গাছের আবাদ করে গ্রামের কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার নারায়নকান্দী, সিঙ্গা, বলরামপুর, কুলবাড়িয়া, কালাপাহাড়িয়া, গাড়াবাড়িয়া, শিতলী, পারদখলপুর, সোনাতনপুর, গাগেন্না, ভাতুড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে খেজুরের গাছের সংখ্যা অন্য এলাকার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বলে জানা যায়।



শীত মৌসূমের শুরু থেকে এসব গ্রামে খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ চলে পুরাদমে।  গাড়াবাড়িয়া গ্রামের চাঁন আলীর খেজুর গাছ রয়েছে ১৭০টি। নারায়নকান্দী গ্রামের জুলহাক আলীর ১২০টি এবং পারদখলপুর গোলজার হোসেন ভাগে গাছ কাটে ৮০টির মতো। রস সংগ্রহের জন্য তারা এখন খেজুর গাছের আগা ঝোড়া, চাঁছা ছোলা ও নলি মারায় ব্যস্ত। শীত মৌসুম  জুড়ে প্রায় চার মাস তারা বাড়িতে খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করে মৌসূমী একটি ভাল উপার্জণ করে থাকে। এসময় তাদের প্রতিদিনের আয় হয়ে থাকে এক থেকে দুই হাজার টাকার মত।



খেজুর গাছ কাটা গাছিদের দৈনন্দিন শ্রমিক হিসেবে পাওয়া যায় ৫’শ থেকে ৭০০’শ টাকা মজুরিতে। শীত মৌসুমের আগমনে গ্রামের অনেক শ্রমজীবী ব্যক্তি খেজুর গাছ কেটে বাড়তি উপার্জন করে থাকে । হরিণাকুণ্ডুর পারবর্তীপুর, ভবানীপুর, মান্দিয়া, জোড়াদহ এবং পাশ্বর্বতী ডাকবাংলা, দশমাইল ও সরোজগঞ্জ বাজারে গুড়ের হাট বসে। অনেকে এসব হাট থেকে খেজুরের গুড় ও পাটালি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়ে থকে।



অনেক সময় দেশের বাইরেও পাঠান হয় এসব লোভনীয় শখের মৌসূমী ভোগ্যপন্য। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ হাফিজ হাসান জানান, হরিণাকুণ্ডুতে প্রায় দশ হাজরের মত খেজুর গাছ আছে। এ উপজেলার খেজুরের গুড় পাটালীর সুনাম দেশজুড়ে। বানিজ্যিক ভাবে খেজুর রস এবং গুড় পা্টালী উৎপাদন করার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহনের উদ্যোগের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করা হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। সেই সাথে নিপা ভাইস থেকে খেজুর রস মুক্ত রাখার লক্ষে প্লাস্টিকের স্থায়ী ঢাকনা ব্যবহারের বিষয়টি জনপ্রিয় করে তোলবার প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে তিনি জানান।
এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর



© All rights reserved © 2016 purbakantho
কারিগরি সহযোগিতায়- Shahin প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২