শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২:১৮ অপরাহ্ন

ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে বছরের পর বছর চলছে একই কমিটি দিয়ে

রির্পোটারের নাম:
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০, ৯:১১ পূর্বাহ্ন
  • ৭২ বার পঠিত

ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটে বছরের পর বছর চলছে একই কমিটি দিয়ে। এতে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি সাংগঠনিক চেইনও ভেঙে পড়েছে। 

কেন্দ্রের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতির দূরত্ব, যথাযথ সাংগঠনিক কমান্ডের অনুপস্থিতি আর গতিশীল রাজনীতির অনুপস্থিতি তৃণমূল ছাত্রলীগকে করে দিয়েছে স্থবির।  ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। এই সুযোগে সংগঠনে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারী। এতে ঐতিহ্য হারানোর সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব তৈরিতেও ব্যর্থ হচ্ছে প্রাচীন এই ছাত্র সংগঠন।



জানা গেছে, ছাত্রলীগের জেলা ইউনিটগুলো কমিটি গঠনে বছরের পর বছর চলে যাওয়ার রীতি উপজেলা পর্যায়ে আরও ব্যাপক এবং বিস্তৃত। জেলা কমিটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গতিশীল না হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে উপজেলা ইউনিটগুলোতে। মাঠ পর্যায়ের মতো ঢাকার থানা ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিগুলোরও একই অবস্থা। কোনো কোনো উপজেলার ছাত্রলীগের কমিটি ১৫-১৬ বছর পার করছে, কিন্তু নতুন কমিটি হয়নি।

উপজেলার ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। বিয়ে করেছেন, সন্তান আছে। অনেকে আবার ছাত্রলীগের পদে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগেও নাম লিখিয়েছেন, হয়েছেন জনপ্রতিনিধি, কিন্তু ছাত্রলীগের শীর্ষ পদও ধরে রেখেছেন।

পাবনার চাটমোহর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির বয়স ১২বছর। কমিটি শীর্ষ দুই পদের একজন বিয়ে করেছেন অনেক আগে। আছে সন্তানও। মাদারীপুর রাজৈর উপজেলায় কমিটি হয় না ১৫ বছর।  বগুড়ার ধুপচাচিয়া উপজেলার কমিটি নেই ৬ বছর। রাজশাহীর বাঘমারা এবং গাইবান্ধার কোনো উপজেলাতেই নেই ছাত্রলীগের কমিটি। চট্টগ্রামের বেশিরভাগ উপজেলায় কমিটি নেই। বগুরার ৪টি উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে ৪ বছর আগে। সেখানে বারবার সম্মেলন দেওয়ার কথা বলা হলেও কেন্দ্রের নির্দেশ আমলে নেওয়া হয়নি। উপজেলার চেয়ে আরও এগিয়ে জেলা ছাত্রলীগ। এক বছর মেয়াদী বগুড়ার জেলা কমিটি চলছে পাঁচ বছর। জেলা কমিটি মেয়াদই ফুরিয়েছে চার বছর আগে। পাবনার ভাঙুরা উপজেলা এবং ফদিপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ বছর কমিটি নেই। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কমিটি হয়েছিল ২০১২ সালে। লোহাগড়া পৌর কমিটির বয়সও হয়েছে ৮ বছর।



তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে দক্ষ, যোগ্য এবং মেধাবী নেতৃত্বের বদলে উঠে আসে অদক্ষ, সংগঠনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নয় এবং স্বার্থপর নেতৃত্ব। এজন্য যেখানেই কমিটি হয় তা নিয়েই ঝামেলা তৈরি হয়। যোগ্য, জনপ্রিয় এবং সাংগঠনিক দক্ষ নেতৃত্বে আসলে এই সাংগঠনিক সমস্যা তৈরি হতো না। তাদের মতে, জেলার ছাত্র রাজনীতি গতিশীল হলে উপজেলার রাজনীতিও গতিশীল হতো।

উপজেলা চেয়ে আরও ভয়াবহ ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে। ছাত্রলীগের এসব ইউনিটে কবে কমিটি হয়েছে তা ভুলেই গেছেন অনেক এলাকার নেতাকর্মীরা। কমিটি গঠনের এই দীর্ঘসূত্রিতা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িতদের হতাশ করছে প্রতিনিয়ত।



এ সম্পর্কে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, জেলা কমিটিগুলো দ্রুত করে উপজেলায় হাত দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

সুত্র: রাইজিংবিডি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর



© All rights reserved © 2016 purbakantho
কারিগরি সহযোগিতায়- Shahin প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২