বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আমাদের নিয়মিত আপডেট খবর পেতে এখনই ওয়েব পেজটি সাবস্ক্রাইব করুন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে।

 ‘সড়ক ও জনপদের কোটি টাকা বরাদ্দ ফেরত, ফেরিঘাটে চরম দুর্ভোগ’

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক;
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০, ৫:৪০ অপরাহ্ন
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

বরগুনার দুটি ফেরিঘাটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সংস্কারের অভাবে উভয় পাড়ের সংযোগ সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে পন্টুনে যানবাহন ও যাত্রী আসা-যাওয়া এবং উঠা-নামায় পোহাতে হয় দুর্ভোগ। এ অবস্থায় কাজ না করিয়েই প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা দপ্তরে ফেরত পাঠিয়েছে সড়ক ও জনপদের (সওজ) বরগুনা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ বরগুনার বরইতলা-বাইনচটকী ফেরিঘাটের সংস্কার ও মেরামতের জন্য ২৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন হয়। কিন্ত ওই প্রাক্কলনের দরপত্র আহ্বান করেনি সওজ বরগুনা কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই কাজ আর আলোর মুখ দেখেনি। বরং জুন মাসে ওই টাকাসহ সড়ক মেরামত ও সংস্কারের জন্য বরাদ্দ প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ ফেরত পাঠায় বরগুনা সওজ কর্তৃপক্ষ।

বরাদ্দ ফেরতের বিষয়টি স্বীকার করে সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দারুজ্জামান বলেন, ‘করোনার কারণে টেন্ডার করা হয়নি। এছাড়াও করোনার কারণে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

ফেরিঘাটে চরম দুর্ভোগ
সওজ বরগুনার আওতায় বরগুনা-বাইনচটকি ও পুরাকাটা-আমতলী দুটি ফেরিঘাট। সওজ বরগুনার তথ্যমতে, ২০১৮ সালে সবশেষ উভয় ঘাটের উভয় পাড়ের সংযোগ সড়ক সংস্কারের করা হয়। কিন্ত প্রমত্তা পায়রা ও বিষখালীর জোয়ারের প্রবল স্রোতের তোড়ে বরইতলার উভয় পাড়ের সংযোগ সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ে। বিষখালী নদীর বরইতলা ও বাইনচটকী ঘাটের অংশে বালুর বস্তা ফেলে পাইলিং দেওয়া হলেও ভাঙন রোধ সম্ভব হয়নি। জোয়ারে তোড়ে সংযোগ সড়ক বারবার প্লাবিত হওয়ায় ইট সুড়কি ভেসে গিয়ে রাস্তার উচ্চতাও কমে গিয়েছে।

এছাড়াও যানবাহন ও যাত্রীদের চাপে সড়কটি রীতিমত খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে পুরাকাটা-আমতলী ঘাটে পন্টুনের ও সড়কে সঙ্গে গ্যাঙওয়ে বসিয়ে যাত্রী ও যানবাহন চলাচলেও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্ত সড়কের প্রান্তের গ্যাংওয়ের অংশ দেবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ারেই চলাচল ব্যহত হয়। ফেরিতে যানবাহন উঠতে যেমন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়, তেমনি খেয়া পারাপারের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

বরইতলা ঘাটে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘এইখানে কোনো কর্তৃপক্ষ আদৌ আছে বলে আমাদের বিশ্বাস হয়না। যদি থাকত, তবে এমনভাবে কেউ ঘাট ফেলে রাখতে পারেনা। যাচ্ছেতাই চলছে সবখানেই, আমরা কার কাছে এই সড়ক ও ঘাটের সংস্কার চাইব?’

একই বক্তব্য আমতলী-পুরাকাটা এলাকারও কয়েকজন যাত্রীর। দ্রুত ঘাটের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।

নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন নির্বাহী প্রকৌশলী

২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর হায়দারুজ্জামান বরগুনা সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। হায়দারুজ্জামান বিরুদ্ধে অনিয়মিত অফিস করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। সওজ’র নিয়মিত ঠিকাদারি কাজ করেন এমন কয়েকজন ঠিকাদার জানান, সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়মিত অফিস করেননা। তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। আর এদিকে প্রাক্কলন হওয়ার পরও বরইতলা ফেরিঘাটের টেন্ডার না করিয়েই বরাদ্দ ফেরত পঠানো হয়েছে।

জামাল হোসেন নামের একজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলীকে আমরা কাজের জন্য কখনোই পাইনি। তিনি বরগুনায় খুব কমই অবস্থান করেন। ফলে সওজ’র কাজ না করিয়েই বরাদ্দের অর্থ ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

একই অভিযোগ মিরাজ নামের একজন ঠিকাদারের। তিনি বলেন, ‘যোগদানের পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায়ই বরগুনার বাইরে অবস্থান করেন। তিনি দির্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর ৩০ জুন জুন ক্লোজিংয়ের জন্য অফিসে আসেন ও বরাদ্দ ফেরত পাঠান। এরপর আবার বরগুনার বাইরে চলে যান। ফের একটি ভিডিও কনফারেন্সে যোগদানের জন্য ২৩ আগস্ট এসে ২৪ আগস্ট  চলে যান এবং ৩০ আগস্ট আবার অফিসে আসেন। তার এই অনুপস্থিতির কারণে সওজ’র উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়। আমরা বিভিন্ন কাজে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি মুঠোফোনে সওজ’র স্টেনো মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার অনিয়মিত অফিস করার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। অফিসের এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।’

অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দারুজ্জামান মুঠোফানে বলেন, ‘আমি করোনয়া আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ থাকার কারণে অফিস করতে পারিনি। এখনও আমি অসুস্থবোধ করছি, তারপরও কাজে যোগদান করেছি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে দাপ্তরিক কাজে বাইরে অবস্থান করেছি।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পটুয়াখালী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাইদ মুঠোফানে বরাদ্দ ফেরতে বিয়ষটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী কিছু টাকা ফেরত পাঠিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খোঁজ নেব। এছাড়াও তিনি যদি অনিয়মিত অফিস করেন, তবে খোঁজ নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে।’

Source link

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আজকের এই দিনে

রেডিও পূর্বকন্ঠ

©২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | পূর্বকন্ঠ
কারিগরি সহযোগিতায়- Shahin প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

Notice: Undefined index: config_theme in /home/purbakantho/public_html/wp-content/themes/LatestNews/include/root.php on line 33
themesba-lates1749691102