রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আমাদের নিয়মিত আপডেট খবর পেতে এখনই ওয়েব পেজটি সাবস্ক্রাইব করুন। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সহঅবস্থান হচ্ছে বাংলাদেশ

মোঃ শহিদুল ইসলাম আঙ্গুর
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩ মে, ২০২০, ৯:৫০ অপরাহ্ন
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্টের দিক থেকে ভারতীয়রা হচ্ছে অষ্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।বিভিন্ন দেশ থেকে বানিজ্য করতে আসা মানুষগুলো ভারতীয় সুন্দরী রমনীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ব হয়ে এখানেই স্হায়ীভাব বসবাস শুরু করে।ক্রমান্বায়ে এদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে যায় মিশ্র প্রজাতির। ফলে এরা ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, বর্নের- মানুষের পরিচয় ভুলে গিয়ে নিজেদের সম্পর্কের বন্ধনকেই দৃঢ় করে তুলে। তাই সম্প্রীতির সম্পর্কই ভারতীয়দেরকে বিশ্ব ইতিহাসের দৃষ্টান্ত স্হাপনে স্মরনীয় করে রাখে।

সেই সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শ্রেষ্ট পিঠস্হানে পরিচিত হয়ে উঠে ভারতবর্ষ। অবশেষে সকল পথ পরিক্রমার অবসান ঘটিয়ে প্রায় পৌনে দুই শত বছরের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের নামে শোষনের হাত থেকে মুক্তির দুর্বার আকাংখা ভারতীয়দেরকে অস্হির করে তুলে – সেখান থেকেই রাজনৈতিক সংগঠনের সৃষ্টি – মুক্তি -আর বিভক্তির উদ্ভব।ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় কংগ্রেস পরবর্তী ক্রান্তিকাল ভারতের দুর্ভাগ্যকে তরান্বিত করেছে।

বঙ্গভঙ্গের মতো নৈতিক দাবী উপেক্ষিত হওয়ায়, বিম্ববরেণ্য ব্যাক্তিত্ব রবি ঠাকুরের মতো মানুষের বিতর্কিত ভুমিকায় – মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ – বঙ্গভঙ্গের দাবীকে যেমন জোড়ালো করে,তেমনি সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়ে গোটা ভারতবর্ষকে অস্হির করে তুলেছিলো – যার চরম পরিনতি দেখে গান্ধীজীর মতো নেতা হতাশা ব্যাক্ত করেছিলেন। মাঝেমধ্যেই ইতিহাসের দৃষ্টান্ত আমাদেরকে স্মরন করিয়ে দেয় ,এই -অবিভক্ত বিশাল বাংলা অবশেষে ভেঙ্গে দুই টুকরো হয়েও শেষ হলো না, — আবারো ২১ বছরের শোষনের বিরুদ্ধে লড়াই, সংগ্রামের পরিনতি – ত্রিশলাখ শহীদ,— বিনিময়ে —- একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলাদেশ। যার অগ্রপথিক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। যার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি- উনার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় সফলতার শেষ প্রান্তে।

কিন্তুু প্রায়শই পরিলক্ষিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিকারীরা এখনো তাদের ষড়যন্ত্রের শিকর সমাজের স্তরে স্তরে রোপন করে রেখেছে। ওদের দ্বারা এখনো মাঝে মধ্যে ঘোপটি মেরে থাকা অপশক্তির অপব্যাখায় বিভিন্ন এলাকা অস্হির হয়ে উঠে। কখনো মসজিদের উপস্হিতির অপব্যাখা, ত্রান বিতরনে অনিয়মের অপব্যাখা,উদ্দেশ্য সাধনে কারো কাব্যিক ব্যাখাকে অপব্যাখায় রুপান্তরিত করে ধর্মীয় চেতনায় আঘাত দিয়ে আওয়ামী লীগের লেবাস দারীরাই বর্তমান পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। একটি অসাম্প্রদায়িক দলের সহযোগী সংগঠনের দ্বারা এটা কখনো কাম্য হতে পারে না।

সম্প্রতি পুর্বধলা উপজেলায় মনি রাণীর লিখা একটি কবিতা ফেইসবুকে প্রকাশিত হয় — প্রকাশিত কবিতাটিকে কেন্দ্র করে ফেইসবুকেই প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বিষয়টি মানুষের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষন করেছে – বিভিন্ন ফেইসবুক পোস্টে দেখা যাচ্ছে, — এরই মধ্যে একদল মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আলোচিত মহিলার কুশপুত্তলিকা দাহ করে তার বিচার দাবী – সহ তার পদত্যাগ দাবী করছে। উল্লেখ্য যে মনি রানী — সদ্য জাতীয় মহিলা সংস্হা, পূর্বধলা উপজেলার চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে – রাস্তায় দাঁড়িয়ে পদত্যাগ ও বিচার প্রার্থী কারা -? বলা হচ্ছে – এরা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন – ওলামা লীগের নেতৃবৃন্দ। আজ দেশের এই সংকটময় মুহুর্তে আপনাদের স্ববিরোধী আচরন মানুষকে আশাহত করছে বারবার। আপনার দলের মনোনয়নকে আপনি চ্যালেন্জ করে রাস্তায় কেন ? আপনি আপনার চ্যালেন্জটা দলের উর্ধতন নেতৃত্বকে জানান, প্রতিকার চান – আর যদি সেটা সার্বজনীন দাবী হয় তাহলে সেখানে সাধারন মানুষের উপস্হিতি নিশ্চিত করেন- কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছা সহজ হবে।

জীবন/জীবিকা নির্বাহে অনেক মানুষ অনেক পথে হাটে, তবে সেটাই ভালো,– যেটার উদ্দেশ্য মহৎ। —-কারো হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা নিঃসন্দেহে মহৎ উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করা। যদি কোন ব্যাক্তি ধর্মীয় অনুভুতির প্রতি আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে- নিঃসন্দেহে তা গর্হিত এবং অন্যায়। কারন এই মহিলাটি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে সমাজকে তার কাব্যিক ব্যাখা বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে, –তার নিজস্ব ফেইসবুক পেইজে ক্ষমা প্রার্থনা করেও ব্যর্থ হয়,, -অতঃপর আরো শক্তিশালী প্রচার মাধ্যম প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেন -কিন্তু তাতেও হলো না- আর সেটা হওয়াও উচিত না — কারন ধর্মীয় অনুভূতি যেখানে অনুপস্থিত সেখানে বিবেকতো ঘুমন্ত।

সুতারং শেষপর্যন্ত বিচারতো হতেই হবে।কিন্তুু একজন বিচার প্রার্থীর আবেদনে সেটাওতো বিচারাধীন। তাহলে — ওলামালীগ রাস্তায় কেন -?দলের নিকট প্রাপ্তির প্রত্যাশায় যদি অস্হির হয়ে যান, তাহলে মূল্যায়নের মাপকাঠিতো ভেঙ্গে যেতে পারে। অনুগ্রহপুর্ক অপেক্ষা করুন – দল যদি আপনার হয়ে থাকে – আপনি যদি অনুপ্রবেশকারি না হয়ে থাকেন, – দল অবশ্যই আপনাকে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করবে (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী)।

আর তা নাহলে – – গান্ধীজির হতাশার সাথে আজকের বিশ্বমানবতার নেত্রী আমাদের অহংকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও কখনো বিব্রত এবং আশাহত হতে পারেন।কিন্তুু আমরা কখনো সেটা শুনতে চাই না,– আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে — বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হবে সকল ধর্ম,বর্ণের মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল। সুতারাং যে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ৫২ র ভাষা আন্দোলন, ৭১র মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো– সেই চেতনাকে প্রতিষ্টা করেই সোনার বাংলা কায়েম করতে হবে ৷ কোন অনুপ্রবেশকারীর হটকারী সিদ্ধান্ত কখনোই কাম্য হতে পারে না – এদের বিরুদ্ধে দল – এবং- সরকারকে কঠোর ভুমিকায় অবর্তীন হতে হবে।

লেখকঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম আঙ্গুর, সাবেক ছত্রনেতা। পুর্বধলা, নেত্রকোনা।

বিঃদ্রঃ- মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

নামাজের সময় সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
  • ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
  • ৮:১১ অপরাহ্ণ
  • ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ



© All rights reserved © 2020 purbakantho
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102