সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনডেমনিটি’ নাটক প্রদর্শিত

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩.১৫ পিএম
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মামুনুর রশিদ,ত্রিশাল,ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাািডজ বিভাগের পরিবেশনায় নাটকটি ওয়ান বাংলাদেশ এর প্রযোজনায় ও প্রফেসর ড. মাহবুব বোরহানের সার্বিক তত্বাবধানে ‘ইনডেমনিটি’ নাটকটি বিশ^বিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’-এর বেদীতে বৃহস্পতিবার বিকালে
প্রদর্শিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায় নিয়ে রচিত নাটক ‘ইনডেমনিটি’। নাটকটি রচনা করেছেন মান্নান হীরা, নির্দেশনা দিয়েছেন ড. মো. কামাল উদ্দীন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. জালাল উদ্দিন, প্রক্টর উজ্জ্বল কুমার প্রধান, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সাহাবউদ্দিন, নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ইশমত আরা ইলাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলী,কর্মকর্তা , কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

ইনেডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঘৃণ্যতম কালো আইন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ঘাতকরা জবাবদিহিতা থেকে বাঁচার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সাথে পুনরায় কুচক্রে লিপ্ত হয়।

এর প্রেক্ষিতে ঘাতকদের প্ররোচনায় ও ক্ষমতার লোভে রক্ষাকবজ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন খন্দকার মোশতাক। মূলত এই অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে উক্ত হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত কারও বিরুদ্ধে কোর্ট বা আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না।

এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও না এবং রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সাথে জড়িত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। ১৯৭৫ সালের পর ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল ইনেডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। ফলে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। অতঃপর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সংসদে ইনডেমনিটি বিল বাতিল করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় ১৫ আগস্টের ঘাতকদের বিচার কার্যক্রম এই হচ্ছে নাটকের মূল বিষয়বস্তু।

এ প্রসঙ্গে নাটকের নির্দেশক ড. মো. কামাল উদ্দীন এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘ইনডেমনিটি’ কালো অধ্যায়টিকে পথনাটক আকারে উপস্থাপন করেছি। নাটকের উদ্দেশ্য অনুাযায়ী অনেকগুলো সাঙ্কেতিক নাম ও ঘটনার উল্লেখ আছে এ নাটকে। অভিনয়ে বর্ণনাত্মক ও চরিত্রাভিনয় উভয় রীতির সংমিশ্রণ রয়েছে।

কাজেই সঙ্গীত, বাদ্য, নৃত্য, সংলাপ হচ্ছে এই নাটকের প্রাণ। আমি আশাকরি, এই নাটকের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম বিশেষত আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইনডেমনিটি নামক কালো অধ্যায়টি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণ লাভ করবে।

ভালো লাগছে আমরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুখ্যাত দায়মুক্তি আইন বিষয়ক নাটক ইনডেমনিটি উপস্থাপন করে ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরেছি।

থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাািডজ বিভাগের এম এ ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অভিনয় শাখার শিক্ষার্থীরা নাটকে অভিনয় করেছেন ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..


themesbazarpurbakantho411245
© All rights reserved © 2019 Purbakantho
Design & Developed BY Purbakantho.Com
error: Content is protected !!