সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
কমলগঞ্জে জুবেদা খাতুন ফাউন্ডেশন ট্রাষ্টের উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ আটপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ নৌকায় ভোট দিন দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিন, আটপাড়ায় নির্বাচনী সভায় -অধ্যাপিকা অপু উকিল ঝিনাইগাতীতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, গ্রেফতার ৪ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের পদত্যাগ কুষ্টিয়ায় নেশা জাতীয় ঔষধ বিক্রয় না করার অঙ্গীকার ঔষধ ব্যবসায়ীদের নেত্রকোনায় ওমেরা এল পি গ্যাস ব্যবসায়ীদের নিয়ে রিটেইলার সম্মেলন গৌরীপুরে শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি সভা কলমাকান্দায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির নগদ অর্থ বিতরণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল প্রকাশ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০১৯, ১১.৩৭ এএম
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

মীর আব্দুল গণি: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলিকে অবশ্যই বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নীতি অনুসরণ করে যানবাহন চালাতে হয়। যে নিয়মনীতিকে আমরা যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ আইন বা ট্রাফিক ল বলে থাকি। বিশ্বের যে কোন দেশেই সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়-

দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো:

চালক ট্রাফিক আইন জানেন না অথবা যথাযত অনুসরণ করেন না।

অর্থাৎ দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো

ট্রাফিক আইন না জানা ও ট্রাফিক আইন অনুসরণ না করা।

অতএব দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে অবশ্যই চালককে

ট্রাফিক আইন যথাযত শিক্ষা দেয়া এবং  সঠিক ভাবে শিক্ষা দেয়ার পর চালককে  ট্রাফিক আইন অনুসরণে তাকে বাধ্য করা।

প্রশ্ন হলো- ২। চালককে ট্রাফিক আইন অনুসরণে বাধ্য করার উপায় কি?

এবং একই সঙ্গে বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে মানুষ ভুলেরও উর্ধে নয়।

অতএব কারও ভুলেদুর্ঘটনা ঘটলে

 মিমাংসার যথাযত ব্যবস্থা থাকতে হবে

অর্থাৎ এপর্যায়ে দেখা যায়-

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে যে সকল বিষয় বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে সে সকল বিষয় হলো-

যেমন

১। চালককে সঠিকভাবে ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেয়া।             

২। ট্রাফিক আইন অনুসরণে চালককে বাধ্য করার যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

                                                                                                  

৩। যদি কার ভুলে দুর্ঘটনা ঘটে তবে ক্ষতিগ্রস্তকে যথাযত ক্ষতিপূরণের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

 

উপরোক্ত আলোচনায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও প্রতিকারে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে আমরা জানতে পারলাম।

প্রশ্ন হলো উক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণের যথাযত প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি কি?

দুটি উপায়ে আমরা উক্ত ব্যবস্থাসমূহ প্রয়োগের গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি পেতে পারি।

যেমন

১। অনুসন্ধান

২। অনুসরণ বা অনুকরণ

১। অনুসন্ধান

অনুসন্ধান হলো- সমস্যার মূল বা উৎপত্তিস্হলকে অনুসন্ধান করে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অনুসন্ধাণে অনেক মূল্য ও সময় দিতে হয় এবং প্রয়োজন হয় উপকরণ, মেধা ও সক্ষমতার।

যাহা সকল জাতি মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

সহজ হলো

২। অনুসরণ বা অনুকরণ

অনুসরণ বা অনুকরণ হলো কোন সমস্যা সমাধাণের অতি সহজ উপায়। কারণ বর্তমান বিশ্বে অনেক সমস্যার সমাধাণ ইতিপূর্বেই আবিষ্কৃত হয়েছে।

কোন সমস্যার আবিষ্কৃত সমাধাণ নতুন করে নিজেরা অনুসন্ধান না করে কোনও দেশের গৃহিত ব্যবস্থা অনুসরণ করলে অতি সহজ ও সঠিক হয়।

উপমা স্বরূপ উল্লেখ করা যায়

যেমন অনেক রোগ আছে যার নিরাময়ের ঔষুধ কোনও এক জাতি মানুষ আবিষ্কার করেছেন কিন্তু বিশ্বের সকল জাতি মানুষই ঐ ঔষুধ ব্যবহার করে আরোগ্য লাভ করছে।

ঔষধটি গ্রহণ করাকে আমরা বলবো-

(রোগ) সমস্যা সমাধাণের পদ্ধতি বা ব্যবস্থা অনুসরণ করা।

আমরা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধব্যবস্থা অনুসরণ করতে আগ্রহী হলে

বিশ্বের যে দেশটির গৃহিত যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সর্বোত্তম সেটাই অনুসরণ করা হবে একান্ত উচিৎ।

যানবাহণ নিয়ন্ত্রণে জার্মানির গৃহিত ব্যবস্থা অনুসরণ করাই হবে অতি উত্তম। (সর্বোত্তম বলেই বিশ্বে অধিকাংশ দেশ অনুসরণ করে থাকে।) ৩০ বৎসরের অধিক সময় জার্মানিতে গাড়ী চালানর

 

বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে জার্মানির যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাতিয়ার অতি সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

জার্মানির যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়

১।  ট্রাফিক আইন ও  ড্রাইভিং যথাযত প্রক্রিয়ায় শিক্ষা দেয়া হয়।

২। ট্রাফিক আইন অনুসরণে চালককে বাধ্য করার যৌক্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

৩। যদি কার ভুলে দুর্ঘটনা ঘটে তবে ক্ষতিগ্রস্তকে যথাযত ক্ষতিপূরণের যৌক্তিক ব্যবস্থা রয়েছে।

জার্মানিতে গৃহিত উক্ত ব্যবস্থাসমূহ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করলেই যথার্থতা বুঝতে সহজ হবে-

১। সঠিকভাবে ড্রাইভিং ও ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেয়ার জন্য ব্যক্তিমালিকানায় বহু ড্রাইভিং স্কুল রয়েছে।

সেখানে শিক্ষানিবার পর যানবান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা  নিয়ে থাকেন। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ভাবে পাশ করলে তবেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়ে থাকে।

ট্রাফিল ল ও ড্রাইভিং শিক্ষাদান প্রক্রিয়া এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। শুধু উল্লেখ করব কোনরূপ ত্রুটিই গ্রহণযোগ্যতা পায় না।

২। ট্রাফিক আইন অনুসরণে চালককে বাধ্য করার যৌক্তিক ব্যবস্থা।

ট্রাফিক আইন অনুসরণে চালককে বাধ্য রাখতে জার্মানিতে রয়েছে আইনি বাধ্যবাধকতা, বিধিনিষেধ ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা।

যেমন-

নতুন লাইসেন্স ধারির জন্য প্রথম শর্তই থাকে লাইসেন্সটি হলো দুই বৎসরের জন্য পরীক্ষামূল।

কেউ দুই বৎসরের মধ্যে কোন  দুর্ঘটনা ঘটালে বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় রাস্তার বিশেষ বিশেষ স্থানে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়ে থাকে। কোন চালক নির্দিষ্ট গতিবেগ অতিক্রম করলে চালক ও তার গাড়ীর ছবি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই উঠে থাকে।

যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও কখনও কখনও ক্যামেরা নিয়ে রাস্তার কোথাও কোথাও গোপণে গতিবেগ পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।

আইন ভঙ্গ করলে আইনটি ভঙ্গের জন্য পূর্ব নির্ধারিত পরিমান জরিমানা তাকে অবশ্যই দিতে হয়। এবং তার গাড়ীবীমার ইন্স্যুরেন্সের পার্সেনষ্টেজের আর্থিক পরিমান বেড়ে যায়।

একই সঙ্গে হতে পারে আর্থিক জরিমানা, লাইসেন্সের পয়েন্ট বিয়োগ, সাময়িক বা পরিপূর্ণ রূপে লাইসেন্স বাতিল বা উভয় বিধ।

চালককে সতর্ক বা সংযত রাখা হয় তার কৃতকর্মের দায়ভার বহণে আইনি বাধ্যবাধকতার দ্বারা।

কোন ব্যক্তিকে তার কৃত কর্মের দায়ভার থেকে মুক্তি দিলে তাকে সংযত রাখা সম্ভব হয় না।

উক্ত ক্ষেত্রসমূহে আইন প্রয়োগে কোন শৈতিল্য থাকে না।

অপরদিকে মানুষ ভুলেরও উর্ধে নয়। যদি কার ভুলে দুর্ঘটনা ঘটে তবে রয়েছে

৩। ক্ষতিগ্রস্তকে যথাযত ক্ষতিপূরণের যৌক্তিক ব্যবস্থা।

একজনের ভুল বা অবহেলার কারণে অপর জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে কাম্য হতে পারে না।

ভুল যে করবে ক্ষতির দায়ভার তাকেই নিতে হবে। দায়ভার তার উপর না বর্তালে সে সতর্ক বা ভুল সংসোধণে কখনই আগ্রহী হবে না।

কিন্তু যানবাহন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বিশাল যাহা কোন ব্যক্তির পক্ষে পুরণ করা সম্ভব নয়।

জার্মানির গৃহিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উক্ত ক্ষেত্রেই দেখা যায়-

ক্ষতিগ্রস্তের ক্ষতিপূরণের যৌক্তিক সমাধাণ কল্পে রয়েছে বাধ্যতা মূলক গাড়ীবীমাব্যবস্থা।

বীমা সংস্থা দুর্ঘটনা কবলিত নির্দোষ ক্ষতিগ্রস্তকে ক্ষতি পুরণ দিয়ে থাকে এবং উক্ত বীমা সংস্থার বিশেষ ব্যবস্থা-প্রক্রিয়ার কারণে চালক সংযত থাকতে বাধ্য হয়।

উক্ত বীমা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য ও তার প্রয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করলে

৩। ক্ষতিগ্রস্তকে যথাযত ক্ষতিপুরণ দেওয়ার যৌক্তিক ব্যবস্থা ও

২। ট্রাফিক আইন অনুসরণে চালককে বাধ্য করার যৌক্তিক ব্যবস্থা উভয়ই বুঝতে সহজ হবে।

 

‘বাধ্যতামূলক গাড়ী বীমাকে (জার্মান ভাষায় বলা হয়-

হোফ্ট ফ্লিষ্ট ক্রাফ্ট ফারসোউগ ফারসিসারং।)

আমরা বাধ্যতা মূলক গাড়ীবীমা বলে উল্লেখ করতে পারি।

ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও গাড়ীবীমা ব্যতিত কোন ব্যক্তি গাড়ী চালাবার অধিকার পান না।

অর্থাৎ জার্মানিতে গাড়ী চালাতে হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীবীমা অবশ্যই থাকতে হবে।

‘‘বাধ্যতামূলক গাড়ীবীমার‘‘ প্রয়োগ প্রক্রিয়া বা বৈশিষ্ট্য অতি সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

গাড়ী বীমার বৈশিষ্ট্য

ক) ড্রাইভিং লাইসেন্স যার নতুন তার (ইন্স্যুরেন্স বা গাড়ীবীমার) বীমা-অর্থের পরিমাণ-

মনে করি বাৎসরিক ২২৫‍‍‍‌‌পার্সেন্ট। (টাকায় মনে করি বছরে ২৫,০০০।)

নতুন লাইসেন্স ধারীর জন্য প্রথম দুই বছর পরীক্ষা মূলক, ঐ সময়ে কোন রূপ দুর্ঘটনা ঘটালে তার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়।                                 ৪

 

লাইসেন্স পেতে হলে তাকে পুনরায় বহু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হয় যা বেশ ব্যয় বহুল।

খ) দুর্ঘটনা মুক্ত থাকলে প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট হারে তার বীমার পার্সেন্টটেজ ও টাকার পরিমান কমতে থাকে। এবং শেষাবধি হয়তো ৩৭ পার্সেন্টসর্ব নিম্নপর্যায়ে টাকা দিতে হয়।

চালক ইচ্ছা করলে তার বীমার বাৎসরিক মোট টাকা এক কিস্তিতে বা ষান্মাসি বা ত্রয়মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারেন।

 (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বীমার পরিমাণ ও পার্সেন্ট বীমাসংস্থায় অভিজ্ঞ কয়েকজন ব্যক্তির

মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।)

চালককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাড়ী বীমার ভূমিকা

ক) কেউ কখনও দুর্ঘটনা ঘটালে তার বীমার আর্থিক পরিমাণ তার ঐ সময়ের পার্সেন্টের অনুপাতে বেড়ে যায়।

নিজের ভুলের কারণে আর্থিক ক্ষতি গ্রস্ত যাতে না হতে হয় সেই কারণে চালক সর্বদা সতর্ক থাকে ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমে যায়।

অপর দিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তকে (গাড়ী, ব্যক্তি বা অন্য যে সম্পদই হউক) আর্থিক ক্ষতিপূরণ দুর্ঘটনা সংঘটনকারীর বীমা সংস্থা দিয়ে থাকে তা সে যে পরিমাণ অর্থই হউক।

অবশ্য প্রতিটি বীমা সংস্থার নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ থাকে কি ধরণের এবং কি ক্ষতি সাধিত হলে কি পরিমাণ ক্ষতি পূরণ দিবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে দেখা যায় সর্বোচ্চ পরিমাণ।

গাড়ীর বা অন্য কোন সম্পদের ক্ষেত্রে নির্ভর করে মেরামত খরচ বা তার বর্তমান মূল্যের উপর।

গাড়ী বীমার উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করলে দেখা যায়-

খ) বীমার পার্সেন্ট বৃদ্ধি হলে চালক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে কারণে গাড়ী চালাতে সে যতেষ্ট সতর্কতা অবলম্বণ করে থাকেন।

অর্থাৎ গাড়ী বীমার কারনে চালক নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকেন। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমে যায়।

যাঁরা গাড়ী ব্যবহার করেন বিলাসিতা বা ব্যবসার জন্য, ভোগ বা লাভ তাঁদের। তাদের দ্বারা সাধিত কোন ক্ষতির দায়ভার তাঁদেরই নিতে হবে।

উক্ত বীমা সংস্থা তাদের সেই দায়ভার নিয়ে থাকে। এবং উভয় পক্ষই বিপর্যায় হতে রক্ষা পেয়ে থাকে।

একটি উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি তুলে ধরা যায়-

যেমন- গ ও ঘ দুই জন চালক। মনে করি গ এর ভুলে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং ঘ ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। মনে করি ক্ষতির পরিমাণ এত বিপুল অর্থ যা প্রদান গ-এর পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়।

অপর দিকে ঘ তার সর্ব্বস্ব হাড়ায়েছে ফলে উভয়ের ক্ষেত্রেই অস্তিত্বের সঙ্কট দেখা দেয়।

গাড়ী বীমা উক্ত সঙ্কট থেকে উভয়কে রক্ষা করে থাকে।

ভুলের কারণে উক্ত ক্ষেত্রে গ এর বীমার পার্সেন্ট একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি পায় এবং ঘ-এর ক্ষতির যথাযত পরিমাণ অর্থ বীমা সংস্থা দিয়ে থাকে।

উক্ত ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় গাড়ী বীমা চালকমালিক  ক্ষতিগ্রস্ত সভার জন্যই মঙ্গল জনক

গাড়ীবীমাসংস্থার গঠণ প্রক্রিয়া

জার্মানি ও উন্নত প্রতিটি দেশে একাধিক গাড়ী বীমা সংস্থা রয়েছে। বীমা সংস্থাগুলি সরকারের

অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতেই গড়ে উঠে (আমাদের দেশে যেমন রয়েছে জীবন বীমা সংস্থা)।

সরকার বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগীতা করে থাকে, কোন অর্থ সহায়তা দেয় না।

বরং গাড়ী বীমা সংস্থাগুলি হতে সরকার ভ্যাট হিসাবে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন।

(বাংলাদেশ সরকার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে যে যতসামান্য ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকেন তাতে প্রতিয়মাণ হয়-

সুবিধা ভোগ করবেন গাড়ীর মালিক এবং তার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ভার বহণ করবেন সরকার। দায়ভার সরকার বহণ করলে কাউকে সংযত রাখা কখনই সম্ভব হবে না। যার ভুল দায়ভার বহণে তাকেই বাধ্য করতে হবে।)

গাড়ী বীমা গাড়ীর মালিকের জন্যও যথেষ্ট নিশ্চয়তা মূলক একটি ব্যবস্থা।

চালক ও মালিক উভয়ের মধ্যে গাড়ী বীমার ক্ষেত্রে কি ভাবে সমঝোতা স্থাপিত হবে তারও গ্রহণ যোগ্য উপায় জার্মানির গাড়ী-বীমা ব্যস্থা অনুসরণ করলেই পাওয়া যায়।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চালক নির্দোষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ীর যথাযত ক্ষতিপুরণ পাওয়ারও নিশ্চয়তা উক্ত বীমা ব্যবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য জার্মানির গৃহিত যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে অতি উত্তম

উক্ত ক্ষেত্রে উত্তম হবে কয়েকজন ব্যক্তিকে জার্মানিতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জণের সুযোগদিয়ে তাঁদের দ্বারা

অথবা

বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাঁরা জার্মানিতে গাড়ী ব্যবহার করেনতাদের সহযোগীতা নিয়ে

অথবা

জার্মান সরকারের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সরাসরি সহযোগীতা নিয়ে জার্মানির আদলেনীতিগত  প্রয়োগ মুখী বাধ্যতামূলক গাড়ী বীমাসহ যানবাহণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলা

 

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার বাড়তি কিছু কারণ

বাংলাদেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাড়তি কিছু সমস্যা হলো নছিমন, করিমন, ভটভটি বা ঐ ধরণের অত্যান্ত নিম্ন মাণের যন্ত্র যান।

যাকে বলা যায় যান্ত্রিক যুগে যন্ত্রের অপব্যবহার।

যাঁরা উক্ত যানবাহণ চালান তারা রাস্তা চলাচলের নিয়ম কানুন সম্পর্কে যেমন অজ্ঞ তেমনি যান্ত্রিক ত্রুটির ভয়াবহতা সম্পর্কেও জ্ঞানহীণ।  সাধারণ জনগনের জীবন নিয়ে মরণ খেলা করার অধিকার সভ্য সমাজ কখনই অনুমোদন করতে পারে না।

জনগনের জীবন রক্ষার জন্য যথাযত কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে

১। উক্ত রূপ যানবাহণ চলাচল সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেওয়া

অথবা

২। উক্তরূপ যানবাহণ রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলার প্রকৌশলগত উন্নয়ণ সাধণ এবং বাধ্যতা মূলকভাবে চালককে ড্রাইভিং শিখতে ও গাড়ী বীমার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

পরিশেষে বলবো আমরা যদি সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে চাই তবে অবশ্যই উচিৎ হবে একটি উন্নত দেশে গৃহিত আধুনিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ করা। এবং এখন হতেই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে রাস্তা চলাচল ও পারাপারের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। যার কোনই বিকল্প নাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..


themesbazarpurbakantho411245
© All rights reserved © 2019 Purbakantho
Design & Developed BY Purbakantho.Com
error: Content is protected !!