নেত্রকোনা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত, পদ্মায় হু হু করে বাড়ছে পানি

  • আপডেট : ০৪:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯
  • ১২২০ বার পঠিত

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া \

ভারতের ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ায় ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। গত ২৪ ঘন্টায় এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টমিটার।

যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অব্যহত ভাবে পানি বৃদ্ধির কারনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৪০টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যবহত থাকলে হঠাৎ বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে কুষ্টিয়ায়।

ভারত সরকার হঠাৎ করেই ফারাক্কা বাঁধের সব লকগেট খুলে দেয় সোমবার। এতে মুর্শিদাবাদের একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। ভেড়ামারা, দৌলতপুর সহ পদ্মা নদী বেষ্টিত অঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকারের হঠকারী এমন সিদ্ধান্তে প্রমত্তা পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির বিপদ সীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্ট্রিমিটার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির লেবেল ছিল ১৪ দশমিক ১০ সেন্ট্রিমিটার। বিপদসীমা শূন্য দশমিক ১৫ সেন্ট্রিমিটার পানি কম ছিল এ পয়েন্টে।

কিন্তু ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ার কারনে গত ২৪ ঘন্টায় এখানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্ট্রিমিটার। আজ (১লা অক্টোবর) দুপুর ৩টায় পানির লেভেল ছিল ১৪ দশমিক ২৭ সেন্ট্রিমিটার। যা বিপদসীমার ২ সেন্ট্রিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর, সোলেমানিয়া, ঢাকাপাড়া, ইসলামপুর, কাজীপাড়া, রায়টা ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম সহ দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর, মরিচা ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে, ভেড়ামারা শহর রক্ষা রাঁধ ছাড়াও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ঘর-বাড়ী, গাছপালা, পান বরজ, উঠতি পাট, কলা বাগান এবং সবজি ক্ষেত। পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার হুমকির মুখে থাকা এলাকা গুলো পরিদর্শন করেছেন, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। তিনি জানিয়েছেন, ভেড়ামারার মসলেমপুর গ্রামের প্রায় ১৫০ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। রায়টা বাঁধ পানি ছুই ছুই করছে। যে কোন সময় পানি ডুকে পড়তে পারে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন হুমকির মুখে থাকা এলাকা এবং পানি বন্দী গ্রাম গুলো পরিদর্শন করেছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানিয়েছেন, ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ায় হঠাৎ করেই আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে পানি। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে ২সেন্ট্রিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির লেবেল ছিল ১৪ দশমিক ২৭ সেন্ট্রমিটার। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্ট্রিমিটার। এ ধারা অব্যহত থাকলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। পানি বন্দী হয়ে যেতে পারে হাজার হাজার মানুষ। তবে এখনো আশংকাজনক তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নিমাঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বন্যা আতঙ্ক। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাবার, পানি এবং গবাদিপশুর খাবারে দেখা দিয়েছে সংকট। গত ২৪ ঘন্টায় এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মানদীর পানি বেড়েই চলেছে। আতঙ্কে রয়েছে পানিবন্দী লাখো মানুষ।

মঙ্গলবার(১অক্টোবর) বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবাদী ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর লোকালয়ের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনা পানিশুন্য ছিল, এখন সেখানে পদ্মার পানি থৈ থৈ করছে। যেদিকে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চলাচলের সব রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০হাজারেরও বেশী মানুষ পানিবন্দী হয়ে ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। নৌকায় তাদের চলার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাড়িয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত, পদ্মায় হু হু করে বাড়ছে পানি

আপডেট : ০৪:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া \

ভারতের ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ায় ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। গত ২৪ ঘন্টায় এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টমিটার।

যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অব্যহত ভাবে পানি বৃদ্ধির কারনে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, দৌলতপুর উপজেলায় প্রায় ৪০টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যবহত থাকলে হঠাৎ বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে কুষ্টিয়ায়।

ভারত সরকার হঠাৎ করেই ফারাক্কা বাঁধের সব লকগেট খুলে দেয় সোমবার। এতে মুর্শিদাবাদের একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। ভেড়ামারা, দৌলতপুর সহ পদ্মা নদী বেষ্টিত অঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকারের হঠকারী এমন সিদ্ধান্তে প্রমত্তা পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির বিপদ সীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্ট্রিমিটার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির লেবেল ছিল ১৪ দশমিক ১০ সেন্ট্রিমিটার। বিপদসীমা শূন্য দশমিক ১৫ সেন্ট্রিমিটার পানি কম ছিল এ পয়েন্টে।

কিন্তু ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ার কারনে গত ২৪ ঘন্টায় এখানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্ট্রিমিটার। আজ (১লা অক্টোবর) দুপুর ৩টায় পানির লেভেল ছিল ১৪ দশমিক ২৭ সেন্ট্রিমিটার। যা বিপদসীমার ২ সেন্ট্রিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর, সোলেমানিয়া, ঢাকাপাড়া, ইসলামপুর, কাজীপাড়া, রায়টা ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম সহ দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর, মরিচা ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে, ভেড়ামারা শহর রক্ষা রাঁধ ছাড়াও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ঘর-বাড়ী, গাছপালা, পান বরজ, উঠতি পাট, কলা বাগান এবং সবজি ক্ষেত। পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার হুমকির মুখে থাকা এলাকা গুলো পরিদর্শন করেছেন, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। তিনি জানিয়েছেন, ভেড়ামারার মসলেমপুর গ্রামের প্রায় ১৫০ পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। রায়টা বাঁধ পানি ছুই ছুই করছে। যে কোন সময় পানি ডুকে পড়তে পারে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন হুমকির মুখে থাকা এলাকা এবং পানি বন্দী গ্রাম গুলো পরিদর্শন করেছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জানিয়েছেন, ফারাক্কার সব কটি লকগেট খুলে দেওয়ায় হঠাৎ করেই আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে পানি। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে ২সেন্ট্রিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গত সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির লেবেল ছিল ১৪ দশমিক ২৭ সেন্ট্রমিটার। গত ২৪ ঘন্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্ট্রিমিটার। এ ধারা অব্যহত থাকলে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। পানি বন্দী হয়ে যেতে পারে হাজার হাজার মানুষ। তবে এখনো আশংকাজনক তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নিমাঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বন্যা আতঙ্ক। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় খাবার, পানি এবং গবাদিপশুর খাবারে দেখা দিয়েছে সংকট। গত ২৪ ঘন্টায় এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ সেন্টমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মানদীর পানি বেড়েই চলেছে। আতঙ্কে রয়েছে পানিবন্দী লাখো মানুষ।

মঙ্গলবার(১অক্টোবর) বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবাদী ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর লোকালয়ের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনা পানিশুন্য ছিল, এখন সেখানে পদ্মার পানি থৈ থৈ করছে। যেদিকে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চলাচলের সব রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০হাজারেরও বেশী মানুষ পানিবন্দী হয়ে ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। নৌকায় তাদের চলার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাড়িয়েছে।