শনিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

স্বনির্ভরতার সৃজনশীলতায় আশ্রায়ন প্রকল্পের অসহায়ত্ব

মোঃ এমদাদুল হক বাবুল :  |  আপডেট ৬:২৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  | 344

স্বনির্ভরতার সৃজনশীলতায় আশ্রায়ন প্রকল্পের অসহায়ত্ব

গ্রীকবীর আলেকজান্ডার বাংলাদেশের ঋতু পরিবর্তনে প্রকৃতির ভিন্নতায় -বিস্মিত হয়েছিলেন -চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ও মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে অভিভূত হয়েছিলেন–সেই সাথে মুগ্দ্ব হয়েছিলেন বঙ্গালীর আতিথিয়েতায়,তাইতো তারা এই অঞ্চলের মানুষ, প্রকৃতি,মানুষের সহাবস্থানের কথা লিখতে কৃপণতা করেন নাই।

মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান,তুর্কীবীর তৈমুর লং,পারশ্যের নাদির শাহ,মোগল সম্রাট আকবরও বাংলার স্পর্শে মুগ্ধ হয়েছিলেন। এই বাংলা কখনো স্বাধীন, কখনো পরাধীন ছিল।পরাধীনতাকে জয় করে বরাবরই বিশ্বাঘাতকরা সিরাজের মতো দেশপ্রেমিককে আশাহত করে ব্রিটিশদেরকে শাসকের মানদন্ডে পরিনত করেছে বারবার। অপার সম্ভাবনার এই দেশকে বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে গ্রহন করে বৃটিশরা ক্রমান্বয়ে গোটা ভারতবর্ষে পৌনে দুইশত বৎসর শাসনের নামে চালায় শোষন। অবশেষে শৃঙ্খল ভেঙ্গে ৪৭সালে মুক্ত হয় ভারতবর্ষ। সৃষ্টি হয় হিন্দুস্তান -আর পাকিস্তান নামের দুটি রাষ্ট্র।এরপরও বাঙ্গালির মুক্তি আসতে ২১টি বছর অপেক্ষা আর একসাগর রক্তের বন্যাকে বরন করে নিতে হয়েছে। রক্তের বন্যায় সকল অন্যায়কে একটি গনঅভ্যুত্থানের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়ে বাঙ্গালিরা আইয়ুব,ইয়াহিয়ার গদিকে তছনছ করে দেয়।


অতঃপর “হক,ভাসানী,সোহরাওয়ার্দীর” স্নেহধন্য, বাঙ্গালির প্রানপুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবের নেতৃত্বে অবিস্মরণীয় অর্জন -যার নাম-“বাংলাদেশ”। অষ্ট্রোলয়েড নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলের মানুষগুলো মিশ্রপ্রজাতির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। ফলে জাতীয়তাবাদের তীব্র বিকাশে যে সময় লেগেছিল তারই মাঝখানে অনেকগুলো ষড়যন্ত্রের বিকাশ বাংলাকে করেছিল রক্তাক্ত । তাইতো বাংলাদেশ একটি রক্তাক্ত ইতিহাসের নাম। ৫২’র বীজ ‘৭১এ সৃষ্টি —যা বিনির্মানে ৩০লাখ শহীদ আর ৩লাখ মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে। আর এই ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই বাংলার ইতিহাসকে আবার রক্তে রঞ্জিত করা হলো।

স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৫ই আগষ্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশের ইতিহাসকে করা হলো কলংকিত। ইনডেমনিটি সহ নানান ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলা আর বাঙ্গালী সকল পথ পরিক্রমার অবসান ঘটিয়ে ২০০৮সালে গনতন্ত্রের যাত্রায় স্বপ্ন পুরনে নতুন ধারা সুচিত করলো –আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার ঘোষিত ভিশন-২০২১ অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছেছে,-রূপকল্প -২০৪১ বাস্তবায়নের পথে—–যুক্তহলো আর একটি মহেন্দ্রক্ষন, — ১।-“স্বাধীনতার সুবর্ণজযন্তী। ২।- জাতির পিতার জন্মশতবর্ষিকী, –সুচনালগ্নেই আমরা জাতিসংঘের সুপারিশ প্রাপ্ত হলাম উন্নয়ন শীল রাষ্ট্রের তালিকায়,স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মান নিজস্ব অর্থায়নে আজ দৃশ্যমান, কোভিটের মতো মহামারি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ,। মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকায় সকল কর্মসুচী স্থগিত হলেও মানবিক উন্নয়নের সৃজনশীল কর্মসুচীগুলো চলমান রয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজযন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শকে স্মরনীয় করে রাখার কর্মসুচীগুলো মানব কল্যানের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এর অন্যতম একটি হচ্ছে -আশ্রযন প্রকল্প,-ঘোষিত হলো মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবেনা,কেউ থাকবে না ভূমিহীন, দেশ হবে ভিক্ষুক মুক্ত। লক্ষ অর্জনে সরকারের কাজের ব্যাপকতায় শতভাগ সফলতা দাবী মোটেও যৌক্তিক হবে কি? একেবারেই না,–কারন যেখানে গনতন্ত্র বিদ্যমান সেখানে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রত্যাশিত। তবে সেটি শোভনীয় হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বর্তমান বাংলাদেশের সবচাইতে আলোচিত সাফল্যগাথা একটি প্রকল্প চলমান সেটি নিয়ে নানা মুখরোচক কথা চলছে–প্রশ্ন হচ্ছে প্রকল্পটির নির্মান কৌশল ও এর মহৎ উদ্দেশ্য সকলের জানা আছে তো ?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃক– স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশের ভুমিহীনদের ভুমির মালিকানা সহ গৃহনির্মাণ করে তাদের স্বনির্ভর করার একটি দৃশ্যমান বিকাশই “আশ্রয়ন প্রকল্প”। যেখানে সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন একটি বাড়ি এবং বাড়ির দলিল। এটি একটি সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ হিসাবে বিশ্বে ইতিমধ্যে সমাদৃত হয়েছে–যেটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল অর্জনের সাক্ষী হয়ে থাকবে। লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে -সারাদেশে কিছু প্রকল্প নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ ঊঠলে এটি যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়—এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়– “যেহেতু এই প্রকল্প গুলোর সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবেগ জড়িয়ে আছে, সুতারাং কোন রকমের অনিয়ম প্রমানীত হলে ব্যবস্হা গৃহীত হবে”। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে,এরপরও কিছু ব্যক্তি/প্রতিষ্টান তাদের প্রচারনাগুলো অব্যাহত রেখেছেন। এইসমস্ত প্রচারনায় জমায়েত কারীরা সংবদ্বভাবে যা বলে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এরা একাধিক সুবিধাভোগী, যেটি বিদ্যমানে আইনে সমর্থিত নয়।

এমতাবস্হায় যদি কোন ব্যক্তিগত প্রচার/প্রচারনায় আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রিত মানুষগুলো বিভ্রান্ত হয়,তাহলে এর দায়তো কাউকে না কাউকে নিতেই হবে। সেই দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সকলকে প্রচারনায় সতর্ক থাকা উচিত। সেই সাথে “যারা এই মুহুর্তে আশ্রায়ন প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী তাদের ব্যাপারে সরকারি অনুসন্ধান জরুরী।কারন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে সুবিধা ভোগীদের মধ্যে যারা কথা বলেছিলেন- -তাদের কথা শোনে বাংলাদেশ সেদিন আবেগ তাড়িত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানের ব্যক্তিগত প্রচারনায় অংশ গ্রহনকারীদের কথাবার্তায় সাংঘর্ষিক অবস্থা বিদ্যমান।যদি এটি অব্যাহত থাকে তাহলে– ইবনেবতুতা,আলেকজান্ডার,রবি ঠাকুর, হক,ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে মীরজাফর, মুশতাকের অনুসারীরা নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে।

লেখকঃ মোঃ এমদাদুল হক বাবুল, প্রভাষক,ইতিহাস বিভাগ,পূর্বধলা সরকারি কলেজ, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com