নেত্রকোনা ১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

স্টেশনের প্লাটফর্মে পড়ে থাকা বৃদ্ধা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

নেত্রকোনা সাতপাই বড় রেল স্টেশন প্লাটফর্মে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সোমবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে শিশু ছায়ার মো. সায়ন, আরিফ খানসহ তরুণেরা মৃত প্রায় অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে সংগঠনটির উপদেষ্টা সাংবাদিক আলপনা বেগম এবং জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সমাজসেবা কর্মকর্তার সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালেই সেবা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় প্রায় ৮০ বছরের অজ্ঞাত বৃদ্ধার শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বয়স্কজনিত এবং কিডনিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলেও জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এদিকে বৃদ্ধার সেবায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারী ও স্টেশনের পাশে থাকা মাফিয়া নামের দুজন স্বেচ্ছায় সার্বক্ষনিক তার পাশে থাকছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত প্রায় একবছর ধরে অজ্ঞাত বৃদ্ধা শহরের সাতপাই বড় স্টেশনের প্লাটফর্মে থাকতেন। কে বা কারা রেখে গেছে কেউ জানেন না। সেখানেই বৃদ্ধা ভিক্ষাবৃত্তি করে বেঁচে ছিলেন। বৃদ্ধার ভিক্ষার টাকা, কম্বল অন্য আরেক মধ্যবয়সী নারী নিয়ে নিতেন। সেই সাথে বৃদ্ধাকেও কিছুটা দেখতেন। কিন্তু গত ক’দিন ধরে সেই নারীও রাখছেন না খোঁজ। এদিকে শীতজনিত এবং অভূক্ত থেকে প্লাটফর্মেই মৃতের মতো পড়েছিলেন। হঠাৎ সোমবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধাকে মৃত পড়ে থাকার মতো দেখে শিশু ছায়ার তরুণেরা এগিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামকে জানালে তিনি সমাজেসেবা কার্যলয়ের আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নির্দেশ দেন।

এদিকে সংবাদকর্মী আলপনা বেগম সিভিল সার্জন এবং হাসপাতলের তত্বাধায়কের কাছে সহযোগিতা চেয়ে রাতেই বৃদ্ধাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সকলের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়।

হাসপাতালে তত্বাধায়ক মাহবুবুর রহমান জানান, নিশ্চই সন্তানেরা বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে গেছে। তবে এখন কিছুটা শারিরীক উন্নতি হয়েছে। তাকে সকল সেবা দেয়া হবে। প্রয়োজনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

স্টেশনের প্লাটফর্মে পড়ে থাকা বৃদ্ধা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

আপডেট : ০৫:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

নেত্রকোনা সাতপাই বড় রেল স্টেশন প্লাটফর্মে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সোমবার রাতে ওই বৃদ্ধাকে শিশু ছায়ার মো. সায়ন, আরিফ খানসহ তরুণেরা মৃত প্রায় অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে সংগঠনটির উপদেষ্টা সাংবাদিক আলপনা বেগম এবং জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সমাজসেবা কর্মকর্তার সহযোগিতায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালেই সেবা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় প্রায় ৮০ বছরের অজ্ঞাত বৃদ্ধার শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বয়স্কজনিত এবং কিডনিতে কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলেও জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এদিকে বৃদ্ধার সেবায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারী ও স্টেশনের পাশে থাকা মাফিয়া নামের দুজন স্বেচ্ছায় সার্বক্ষনিক তার পাশে থাকছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত প্রায় একবছর ধরে অজ্ঞাত বৃদ্ধা শহরের সাতপাই বড় স্টেশনের প্লাটফর্মে থাকতেন। কে বা কারা রেখে গেছে কেউ জানেন না। সেখানেই বৃদ্ধা ভিক্ষাবৃত্তি করে বেঁচে ছিলেন। বৃদ্ধার ভিক্ষার টাকা, কম্বল অন্য আরেক মধ্যবয়সী নারী নিয়ে নিতেন। সেই সাথে বৃদ্ধাকেও কিছুটা দেখতেন। কিন্তু গত ক’দিন ধরে সেই নারীও রাখছেন না খোঁজ। এদিকে শীতজনিত এবং অভূক্ত থেকে প্লাটফর্মেই মৃতের মতো পড়েছিলেন। হঠাৎ সোমবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধাকে মৃত পড়ে থাকার মতো দেখে শিশু ছায়ার তরুণেরা এগিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামকে জানালে তিনি সমাজেসেবা কার্যলয়ের আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নির্দেশ দেন।

এদিকে সংবাদকর্মী আলপনা বেগম সিভিল সার্জন এবং হাসপাতলের তত্বাধায়কের কাছে সহযোগিতা চেয়ে রাতেই বৃদ্ধাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সকলের সহযোগিতায় মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়।

হাসপাতালে তত্বাধায়ক মাহবুবুর রহমান জানান, নিশ্চই সন্তানেরা বৃদ্ধাকে ফেলে রেখে গেছে। তবে এখন কিছুটা শারিরীক উন্নতি হয়েছে। তাকে সকল সেবা দেয়া হবে। প্রয়োজনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হবে বলেও জানান তিনি।