মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সোমেশ্বরী থেকে ভিজা বালু পরিবহন: শহরের রাস্তা খালে পরিনত

 |  আপডেট ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  | 133

সোমেশ্বরী থেকে ভিজা বালু পরিবহন: শহরের রাস্তা খালে পরিনত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী থেকে ভিজা বালু পরিবহন করায় শহরের রাস্তা খালে পরিনত হয়েছে। আর সোমেশ্বরীর বালু এখন অভিশাপ হয়ে ওঠেছে। বালু ব্যবসায়ীরা বে-পরোয়াভাবে তাদের বালুর ব্যবসা পরিচালনা করছেন। পৌরশহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সোমেশ্বরী নদীটি এক সময় ছিল অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য লীলাভূমি। ওই নদীর চড়ে থাকা বালু সরকারি ইজারায় বিক্রি করা হলেও কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদারগণ বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে ড্রেজিং করে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদী থেকে গত কয়েক বছর ধরে বালু উত্তোলনের নামে চলছে বালুদস্যুতা। ভিজা বালু পরিবহনের কারনে পরিপাটি পৌরশহর সবসময়ই কাঁদা পানিতে ভরে থাকে। নদীর পানি সড়কের ওপর পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা সোমেশ্বরী নদীকে করছে ক্ষতবিক্ষত। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল ব্যাপকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী ও নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। সরকার পাচ্ছে নামে মাত্র রাজস্ব। ভিজাবালু পরিবহনে রাস্তা ভাঙ্গনের কারনে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় ৩ শ ১৬ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থান দেবে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।


কেবলমাত্র প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অসাধুতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে পৌরবাসীর জনজীবন। মুনাফালোভী এই সম্প্রদায়ের দৌরাত্বের কারণে লড়ি-ট্রাকগুলোতে অতিরিক্ত বালু বোঝাই থেকে শুরু করে সড়কে চলে অদক্ষ চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। পৌর শহরের ভিতর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে দুর্গাপুরের প্রতিটি সড়কে বেহালদশা বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত সড়কে ঝড়ছে প্রাণ। সড়ক দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। বালুবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ২০২০ সালে ঝড়ে গেছে শিক্ষার্থীসহ ৮২জনের প্রাণ। আহত হয়েছেন প্রায় ২শ জনের মতো। এর আগেও আরও ৪ শিশু মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুর্গাপুরের বিভিন্ন স্থানে লড়ি ও ট্রাকের চাপায় মারা যায়। সব মৃত্যুই বেদনাদায়ক, কিন্তু এ ধরনের অপমৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। নিরাপত্তার দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্প্রতি লাগাতার আন্দোলন করলেও টনক নড়েনি স্থানীয় প্রশাসন ও বালু ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় প্রশাসনকে কব্জায় রেখে বালু ব্যবসায়ীরা তাদের কর্মকান্ড চালাচ্ছে বীরদর্পে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক নদীর চরের বালু ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেয়ার কথা থাকলেও দিনের পর দিন বাংলা ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে উত্তোলন করছে বালু ও পাথর। এ যেন জনগনের সাথে চলছে চোর-পুলিশ খেলা। জেনেও না জানার ভান করছে স্থানীয় প্রশাসন।

দুর্গাপুরকে স্থানীয়রা একসময় শান্তির জনপথ বলে গর্ববোধ করতো। সেই জনপদে এখন ভয়ের রাজত্ব চলছে। ঘর থেকে বের হলে বালুবাহী ট্রাক-লড়ির চাপায় পিষ্ট হওয়ার ভয়, আবার ঘাতকদের বিরুদ্ধে কথা বললেও সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হুমকি- ধামকি, অত্যাচার, নির্যাতন, লাঞ্চিতের শিকার হওয়ার ভয়, দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়ার ভয়। গত কয়েকদিন আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে প্রকাশ্যে হামলা করে ৭ শিক্ষার্থীকে মারাত্মকভাবে আহত করে কতিপয় বালুখেকো সন্ত্রাসী। এ সবের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুওে বেড়ালেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। এ সময়ে পর্যটকদের ভিড়ে পৌরশহরের দোকান গুলোতে আদিবাসী পোষাক কেনার ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু বর্তমানে রাস্তায় কাঁদা থাকার কারনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভ্রমন পিপাষুরা। শহরের দোকান গুলো ক্রেতাশুন্য অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। গুটিকয়েক পরিচিত বালু খেকোদের কবলে পড়ে এ জনপদ যেনো এক মগের মুল্লুকে পরিনত হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারী শহরের সকল ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবীতে ধর্মঘট শুরু করেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন বাইপাস সড়ক দিয়ে বালু পরিবহন করার আশ^াশ প্রদান করলে বন্ধ হয় ধর্মঘট। মাত্র কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফের শুরু হয় ভেজা বালু পরিবহন।

সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষা দুর্গাপুর ও সোমেশ্বরী নদী দেশের জাতীয় সম্পদ। পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনাময় এমন সম্পদ ইচ্ছেমত সিন্ডিকেটের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ ও সোমেশ্বরী নদীর দুর্দশা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।সোমেশ্বরী নদীর ১নং বালু মহালের ইজারাদারের প্রতিনিধি ফারুক মিয়া বলেন, আমরা সরকারের কাছ থেকে বালু মহাল ইজারা নিয়েছি ব্যবসা করার জন্য। সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা বালু পরিবহন করছি। বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পরিবেশবাদী অহিদুর রহমান বলেন, দুর্গাপুরের প্রকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হয়ে –
যাচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রন করা উচিত। তা না হয়ে কিছুদিনের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিবে। নদীর তলদেশের ভারসাম্যতা বিনষ্টের কারনে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

এ দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম এ প্রতিনিধি কে বলেন, বালু পরিবহনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরী করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্ধ পেলেই খুব দ্রæত কাজ শুরু করা হলে শহরের ভিতর দিয়ে বালু পরিবহন বন্ধ হবে। গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষা দুর্গাপুর ও সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনাময় এমন সম্পদ ইচ্ছেমত সিন্ডিকেটের হাতে ছেড়ে দেয়া যায় না। দুর্গাপুরের সৌন্দর্য্যরে প্রতিক সোমেশ্বরী নদীর দুর্দশা নিরসনে যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী। বিক্ষুব্ধরা বলেন, সোমেশ্বরী নদীর বালু ইজারা বন্ধ করা হউক। আমরা চাইনা নতুন করে আর একটি প্রাণ অকালে ঝরুক। দেখতে চাই না অন্যায়, অত্যাচার, লুটতরাজ। আমরা চাই সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার। নয়তো ফের আন্দোলন করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নাই।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com