নেত্রকোনা ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে রকি হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার 

শ্রীমঙ্গলে গত ১৪ জানুয়ারি খুন হওয়া মো.ইব্রাহিম মিয়া রকি ও সাব্বির মিয়া একে অপরের বন্ধু। আনুমানিক ১ মাস পূর্বে তাদের দুই জনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে ঝামেলা বাধেঁ যা হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে প্রতিপক্ষ বন্ধুর সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরীত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তীতে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। এতে বলা হয়, বিগত এক মাস পূর্বে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র  শহরের ভানুগাছ রোড়ের মাংস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে নিহত ইব্রাহিম মিয়া রকির সাথে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে উপজেলার পশ্চিম খাসগাঁও গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে বন্ধু সাব্বিরের সাথে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে ঝগড়া হয়। এনিয়ে রকি সাব্বিরকে চর থাপ্পর মারে।
১ মাস পর সাব্বির ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গত ১৩ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৬ টায় তার আরেক বন্ধু উপজেলার পশ্চিম খাসগাঁও গ্রামের মোখলেছ মিয়ার ছেলে ফয়সলকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশনে বসে রকিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে সাব্বির রকিকে ফোন করে তার অবস্থান জানতে চায়। রকি জানায়, সে ভানুগাছ সড়কের রেল গেইটে রয়েছে। এরপর সাব্বির ও ফয়সল রকিকে এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে রকিকে ভুরভুরিয়া চা বাগানের ভেতর নিয়ে যায়। এরপর সাব্বির ও ফয়সল রেকসিন সদৃশ্য স্কচটেপ দিয়ে রকির মুখ ও গলা পেঁচিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বুকের উপর বসে থাকে।
এতে রকি নিস্তেজ হয়ে পড়লে সাব্বির তার গায়ের কালো রং এর চাঁদর ও কোমরের বেল্ট দিয়ে রকির গলা পেঁচিয়ে একটি কড়ই গাছের সাথে বেধেঁ শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করে  উভয়ে মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। রকি মারা গেছে নিশ্চিত হলে সাব্বির ও ফয়সল বাড়ি চলে আসে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে রকির লাশের খোঁজ পাওয়া গেলে সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান এর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ তদন্তে নেমে পড়ে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভিকটিমের গলায় পেঁচানো চাঁদর অপরাধীদের চিহ্নিত হওয়ার পর পুলিশ তা সনাক্ত করে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে সামর্থ হয় পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের ফিনলের বুরবুরিয়া চা বাগানের বধ্যভূমির পাশের একটি গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় মো. ইব্রাহিম মিয়া রকির মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

শ্রীমঙ্গলে রকি হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার 

আপডেট : ১১:০০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০
শ্রীমঙ্গলে গত ১৪ জানুয়ারি খুন হওয়া মো.ইব্রাহিম মিয়া রকি ও সাব্বির মিয়া একে অপরের বন্ধু। আনুমানিক ১ মাস পূর্বে তাদের দুই জনের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে ঝামেলা বাধেঁ যা হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে প্রতিপক্ষ বন্ধুর সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান স্বাক্ষরীত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তীতে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। এতে বলা হয়, বিগত এক মাস পূর্বে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র  শহরের ভানুগাছ রোড়ের মাংস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে নিহত ইব্রাহিম মিয়া রকির সাথে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে উপজেলার পশ্চিম খাসগাঁও গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে বন্ধু সাব্বিরের সাথে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে ঝগড়া হয়। এনিয়ে রকি সাব্বিরকে চর থাপ্পর মারে।
১ মাস পর সাব্বির ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গত ১৩ জানুয়ারী সন্ধ্যা ৬ টায় তার আরেক বন্ধু উপজেলার পশ্চিম খাসগাঁও গ্রামের মোখলেছ মিয়ার ছেলে ফয়সলকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশনে বসে রকিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। রাত প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে সাব্বির রকিকে ফোন করে তার অবস্থান জানতে চায়। রকি জানায়, সে ভানুগাছ সড়কের রেল গেইটে রয়েছে। এরপর সাব্বির ও ফয়সল রকিকে এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে রকিকে ভুরভুরিয়া চা বাগানের ভেতর নিয়ে যায়। এরপর সাব্বির ও ফয়সল রেকসিন সদৃশ্য স্কচটেপ দিয়ে রকির মুখ ও গলা পেঁচিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বুকের উপর বসে থাকে।
এতে রকি নিস্তেজ হয়ে পড়লে সাব্বির তার গায়ের কালো রং এর চাঁদর ও কোমরের বেল্ট দিয়ে রকির গলা পেঁচিয়ে একটি কড়ই গাছের সাথে বেধেঁ শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কথা স্বীকার করে  উভয়ে মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। রকি মারা গেছে নিশ্চিত হলে সাব্বির ও ফয়সল বাড়ি চলে আসে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে রকির লাশের খোঁজ পাওয়া গেলে সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান এর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ তদন্তে নেমে পড়ে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভিকটিমের গলায় পেঁচানো চাঁদর অপরাধীদের চিহ্নিত হওয়ার পর পুলিশ তা সনাক্ত করে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে সামর্থ হয় পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গলের ফিনলের বুরবুরিয়া চা বাগানের বধ্যভূমির পাশের একটি গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় মো. ইব্রাহিম মিয়া রকির মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।