নেত্রকোনা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তীব্র ঠাণ্ডার সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের হিমেল বাতাসের কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দুপুরের পর উঠেছে সূর্য, কিন্তু সূর্যের আলোর নেই কোন উষ্ণতা।
বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, গতকাল সেই তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেছে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
সকালের ঘন কুয়াশায় বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। ফলে দিনের বেলায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
শ্রীমঙ্গল  উপজেলার চা বাগানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার অধিবাসীরা শীতের প্রকোপে আগুন জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। চা বাগান পরিবেষ্টিত পাহাড়ী এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশাসহ শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে ৷
শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা অত্যাধিক ঠাণ্ডার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তাছাড়া নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে ৷
শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, দু-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেয়ে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
শ্রীমঙ্গলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ ঠাণ্ডার হাত থেকে একটু স্বস্তি পেতে ছুটছেন গরম কাপড়ের দোকানে। বেশ জমে উঠেছে গরম কাপড়ের কেনাবেচা। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শ্রীমঙ্গলে শীত একটু বেশিই অনুভূত হচ্ছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এ শীত ও শৈত্য প্রবাহে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন বেশি। শীত নিবারণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। তারা প্রচণ্ড শীতের মধ্যে রাতে ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে  শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শহরের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক বানানোরও হিড়িক পড়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা জানান, তীব্র শীতে স্বল্প আয়ের চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। খড়কুটো জালিয়ে তারা শীত নিবারনের চেষ্টা করছে পাশাপাশি বয়স্ক ও শিশুরা নানান ধরনের ঠান্ডা জনত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ছিন্নমূল পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা “ছিন্নপাতা সমাজকল্যান সংস্থা” এর সভাপতি তাপস দাশ জানান, ছিন্নমূল পথশিশুদের আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করেছি কিন্তু তারপরও আমরা প্রয়োজনের তুলনায় তেমন শীতবস্ত্র সরবরাহ করতে পারি নি৷ শ্রীমঙ্গল গার্ল গাইডস এসোসিয়েশনও আজ দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে আমরা প্রায় সাত হাজার কম্বল ছিন্নমূল মানুষ, চা শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শব্দকর সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জায়গায় বিতরন করেছি ৷ দু তিন দিনের মধ্যে শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরন করবো ৷ পাশাপাশি  সমাজের বিত্তবানদের শীতবস্ত্র নিয়ে অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি৷

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

শ্রীমঙ্গলে তীব্র শীত, বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ০৯:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২০
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তীব্র ঠাণ্ডার সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের হিমেল বাতাসের কারণে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দুপুরের পর উঠেছে সূর্য, কিন্তু সূর্যের আলোর নেই কোন উষ্ণতা।
বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, গতকাল সেই তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পরেছে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
সকালের ঘন কুয়াশায় বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। ফলে দিনের বেলায় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
শ্রীমঙ্গল  উপজেলার চা বাগানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার অধিবাসীরা শীতের প্রকোপে আগুন জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন। চা বাগান পরিবেষ্টিত পাহাড়ী এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশাসহ শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে ৷
শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা অত্যাধিক ঠাণ্ডার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। তাছাড়া নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে ৷
শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, দু-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেয়ে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
শ্রীমঙ্গলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ ঠাণ্ডার হাত থেকে একটু স্বস্তি পেতে ছুটছেন গরম কাপড়ের দোকানে। বেশ জমে উঠেছে গরম কাপড়ের কেনাবেচা। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শ্রীমঙ্গলে শীত একটু বেশিই অনুভূত হচ্ছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এ শীত ও শৈত্য প্রবাহে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা কষ্ট পাচ্ছেন বেশি। শীত নিবারণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রবীণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা পড়েছে চরম বেকায়দায়। তারা প্রচণ্ড শীতের মধ্যে রাতে ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে  শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শহরের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এখন মানুষের উপচে পড়া ভিড়। হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক বানানোরও হিড়িক পড়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা জানান, তীব্র শীতে স্বল্প আয়ের চা শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। খড়কুটো জালিয়ে তারা শীত নিবারনের চেষ্টা করছে পাশাপাশি বয়স্ক ও শিশুরা নানান ধরনের ঠান্ডা জনত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ছিন্নমূল পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা “ছিন্নপাতা সমাজকল্যান সংস্থা” এর সভাপতি তাপস দাশ জানান, ছিন্নমূল পথশিশুদের আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করেছি কিন্তু তারপরও আমরা প্রয়োজনের তুলনায় তেমন শীতবস্ত্র সরবরাহ করতে পারি নি৷ শ্রীমঙ্গল গার্ল গাইডস এসোসিয়েশনও আজ দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে আমরা প্রায় সাত হাজার কম্বল ছিন্নমূল মানুষ, চা শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শব্দকর সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জায়গায় বিতরন করেছি ৷ দু তিন দিনের মধ্যে শিশুদের শীতবস্ত্র বিতরন করবো ৷ পাশাপাশি  সমাজের বিত্তবানদের শীতবস্ত্র নিয়ে অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি৷