বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে ঘর নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের নয়ছয়

 |  আপডেট ৬:১২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  | 70

শ্রীমঙ্গলে ঘর নির্মাণের নামে সরকারি অর্থের নয়ছয়

শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার নামে স্থানীয় একটি এনজিওর বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ নয় ছয়’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাদের ‘ভিটে আছে ঘর নেই’ এমন দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী পরিবারকে বসতঘর তৈরীর জন্য ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গৃহায়ন তহবিল’ গঠন করেন।

তহবিলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ইউনিট।২ শতাংশ সুদে তহবিল নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার কথা। ২শ’ ২০ থেকে ৩শ’ বর্গফুটের একটি ঘর বানানোর জন্য একজন গ্রাহককে ১০ বছর মেয়াদে ৭০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া দেয়ার কথা।


’আগ্রহ উন্নয়ন সংস্থা’ নামে স্থানীয় একটি এনজিও সরকারী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তহবিল সংগ্রহ এবং বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে তালিকা করে। ঘর নির্মাণের জন্য ৭০ হাজার টাকা করে ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ এর দেওয়া হবে এমন প্রচারণা চালিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ ও তালিকা তৈরী করে। পরে ৭০ হাজার টাকার প্যাকেজ থেকে সংস্থার হাতে গোনা কয়েক গ্রাহককে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দেয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে উপজেলার সাতগাওঁ বাজারে ভাই-ভাবী ও কাছের লোকজনদের সংশ্লিষ্ট করে এই সংস্থাটি গড়ে তোলেন চাঁনমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় ভুষন দেব। সাতগাঁও বাজারে সংস্থাটির প্রধান অফিস স্থাপন করার পাশাপাশি সিন্দুরখাঁন ও কুলাউড়ার রবিরবাজারে শাখা অফিস করে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করে।

শুরু থেকেই সংস্থাটির অনিয়ম, দুর্ণীতি ও সরকারী অর্থ হাতিয়ে নেয়ার নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। স্কুল শিক্ষক কিভাবে একটি রেজিষ্ট্রার্ড সংস্থা গড়ে আর্থিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বিনয় ভুষন দেবের বিরুদ্ধে। ২০১১ সালের অক্টোবরে তারই স্কুলের তৃতীয় শ্রেনীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ হাজতবাস করেন বিনয় দেব।

এছাড়া, স্থানীয় শ্রী শ্রী রঘুনাথ জিউর আখড়ার দেবোত্তর সম্পতি নিয়ে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২০১৫ সালে গীতা জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় আসেন বিনয় ভুষন। ২০১৮ সালে সংস্থাটিকে সামনে রেখে তিনি ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ নিয়ে নয় ছয় শুরু করেন।

সাতগাঁও সামাদিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোহিতের অভিযোগ – সরকারী ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ’ এর টাকা চড়া সুদের কারবারে হাত দেন-এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। তিনি বলেন এই সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রমান করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অডিট অফিসারদের অন্যের ঘর, নিজের নির্মানাধীন ঘর,এমনকি সরকারী স্কুল ভবনের সামনে প্রকল্পের সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রতারণা গরীবের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলার লাহারপুর গ্রামে গেলে হরিমন কর এর স্ত্রী ভূমিহীন মিনতি কর এ প্রতিবেদককে বলেন, তাকে কোন গৃহ নির্মাণ ঋণ দেয়া হয়নি। উল্টো বিনয় মাষ্টার তার বাড়ির একটি নির্মানাধীন ঘরের দেয়ালে ‘গৃহায়ন তহবিল ঋণ এর টাকায় তৈরী করা’ এমন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। পরে তিনি আমাকে কয়েকজন লোকের সামনে এ ঘর তাকে তৈরী করে দেয়া হয়েছে তা বলতে বলে। মিনতি বলেন, আমি গরীব বিধবা মানুষ। এক বাড়িতে থাকি, না বললে আবার কি হয়- এই ভয়ে আমি বলেছি।

সাতগাঁও স্টেশন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর বলেন, এই সংস্থার দুুর্নীতির বিষয়টি এ অঞ্চলে ওপেন সিক্রেট। গরীবের জন্য ঘর নির্মাণের সরকারী টাকা আনলেও আমার কাছে অনেকে ঘর না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। অথচ তাদের কাছ থেকে এনআইডি ও তালিকা করে নেয়া হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি অন্যর বসত ঘর দেখিয়ে অডিট অফিসারদের বিদায় করেছে।

এছাড়া সংস্থাটির বিরুদ্ধে চাকুরী ছেড়ে চলে আসা ২ ফিল্ড কর্মির প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে। লছমন ভর নামে এক মাঠকর্মি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার প্রফিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৯৫ হাজার টাকা না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত তাকে হয়রানী করছে কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তারা ফান্ডের পাসবই জমা নিয়ে আর ফেরৎ দিচ্ছে না। একই ধরণের অভিযোগ বিজয়দেব নাথ নামে আরেক মাঠ কর্মির। তাকেও ফান্ডের ৪০ হাজার পাওনা টাকা পরিশোধ না করে হয়রানী করছে সংস্থার লোকজন।

বিজয় বলেন, ’আর চাই না দাদা এ টাকা। তারা আমার টাকা দেবে না এটা ভেবে টাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছি’। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিনয় ভুষন দেব বলেন, তিনি এই সংস্থার কেউ না, ২০১৩ সালে তিনি এই সংস্থা ছেড়ে এসেছেন। তাই এ সংস্থার কোন অনিয়মের বিষয়ে তিনি কথা বলবেন না।

২০১৩ সালে সংস্থা ছেড়ে আসার কথা বললেও ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিলে সংস্থার একটি রেজুলেশনের উপস্থিতিদের ৪ নং ঘরে নাম স্বাক্ষর দেখা যায় বিনয় ভুষনের। বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। মিনতি করের ঘর প্রতারণার বিষয়ে বিনয় ভুষনের দাবী, ঘরটি মিনতি করের না কল্পনা দেব এর নামে সংস্থা থেকে নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এই কল্পনা দেব বিনয় ভূষনের ছোট ভাই শ্রীমঙ্গল সরকারী প্রাণী সম্পদ হাপাতালের চিকিৎসক বিকাশ দেবের স্ত্রী বলে জানা গেছে।

কাওসার নামে সংস্থার হিসাব কর্মকর্তা জানান,‘গৃহায়ণ তহবিল ঋণ’ দেওয়ার জন্য ২০১৮ সালে প্রথম ধাপে ২৫টি ঘর নির্মাণের জন্য ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ২০১৯ সালে আরও ২৫টি ঘর নির্মাণের জন্য ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৩৫ লক্ষ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনে সংস্থা।

এর বেশী বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি সংস্থার নির্বাহী বাবলু বর্ধনের সাথে কথা বলতে। মোবাইল ফোনে এই বাবলু বর্ধনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বড়লেখা ফিল্ডে আছে এবং রাত ৮টার দিকে ফোন করার কথা বলে ফোন কেটে দেন। রাত ৮টা ২ মিনিটে বাবলু বর্ধনের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে ফোনের সুইচড অফ পাওয়া যায় এবং সেই থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. সুয়েবুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী এ ধরনের কোন সংস্থা কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা লোকবলের অভাবে সব কিছু দেখে উঠতে পারি না, তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com