মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট

 |  আপডেট ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট  | 35

শ্রীমঙ্গলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড খরায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খাবার পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ টিউবওয়েল চাপিয়ে এবং ডিটিউবওয়েলে সাধারণ পাম্প দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উঠছে না।

এতে পবিত্র রমজান মাসে পানির জন্য মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। অনেকে নিত্যদিনের পানির চাহিদা মেটাতে পানি কিনে আনছেন, আর যারা কিনতে পারছেন না তারা পানির জন্য হাহাকার করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণকে পানির অপচয় রোধ করার পাশাপাশি সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ করে গত কয়েক দিন যাবত তাদের বাসা-বাড়ির পানির পাম্প দিয়ে বা টিউবওয়েল দিয়ে পর্যাপ্ত পানি উঠাতে পারছেন না। প্রথমে বুঝতে পারেননি কি কারণে পানি উঠছে না, তাই তারা মেকানিক নিয়ে চেষ্টা করেন পানি উঠানোর। অনেকে মেকানিকের পরামর্শে অতিরিক্ত ১৫/২০ ফুট পাইপ যুক্ত করেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি বলে জানান।

শহরের হবিগঞ্জ রোডের আহাদ ম্যানশনের মালিক জানান, তার বাসায় পানির জন্য হাহাকার শুরু হয় গত শনিবার থেকে। সেহেরি খাবার সময় ট্যাংকির পানি শেষ হয়ে গেলে মটর চালান কিন্তু তাতে পানি না উঠায় সমস্যায় পড়তে হয় তাদেরকে। পরদিন মেকানিক এনে ১০ ফুট পাইপ সংযুক্ত করেও পানি উঠাতে পারেননি। তিনি টাকা দিয়ে পানি কিনে প্রয়োজন মিটিয়েছেন ক’দিন। এখন পাশের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে পানি এনে প্রয়োজনিয় কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

কলেজ রোডের অধিবাসী সৈয়দ সালাউদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিন যাবত তার বাসার মটরে পানি উঠাতে পারছে না। তিনিসহ বাসার বাসিন্দা পানির জন্য হাহাকার করছেন। দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে পানি ক্রয় করে আনতে হচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।

শহরের সুরভিপাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সিফাত চৌধুরী জানান, পুরো সুরভিপাড়ায় একই অবস্থা বিরাজ করছে। মটর চলতে চলতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পানি উঠছে না। পানির জন্য খুব কষ্টে আছেন এলাকাবাসী।

মিশন রোডের আকবর হোসেন শাহিন ও আসিফ আলী জানান, এই রোডেরও সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি উঠানো যাচ্ছে না। যাদের সাবমারসিবল মটর আছে কেবল তারাই পানি পাচ্ছেন।

সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আহমেদ নামের এক ভূক্তভোগী জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ফলে ডিপ-টিবওয়েল থেকেও সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি না উঠায় ১০ ফুট পাইপ সংযুক্ত করে পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন।

এছাড়া শহরের কালিঘাট রোড, সিন্দুরখান রোড, মৌলভীবাজার রোড, হবিগঞ্জ রোড, কলেজ রোড, মিশন রোড, বঙ্গবীর রোড, শ্যামলী, পূর্বাশা, শান্তিবাগ, শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার অনেকেই ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নামার কারনে মটর দিয়ে পানি উঠাতে না পারায় তাদের দুর্ভোগের কথা জানান।

পানির স্তর নিচে নামায় অনেকেই আবার ফেসবুকে বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করেছেন। আসিফ আলী নামের একজন বলেন, আল্লাহ বড় নাখোশ আমাদের উপর! ফাতিন টি লিখেছেন, আসমানি গুজব শুরু হইছে। দেওয়ান রায়হান লিখেছেন, ইয়া আল্লাহ এই সময়ে অনেক বৃষ্টি হয়, এখন নাই আসলে মনে হয় কিয়ামতের আলামত দেখছি, আল্লাহ পাক যেন পবিত্র মাহে রমজানের উছলিয়া আমাদেরকে বৃষ্টির নিয়ামত ধারা পরিপূর্ণ করে দেন।

পানির স্তর নিচে নামার কারণ জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলী এলাকায় পানির স্তর প্রায় ৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এতে টিউবয়েল এবং সাধারণ পাম্প দিয়ে পানি উঠানো যাচ্ছে না। তিনি কলম পাইপে ৩০/৩৫ ফুট পাইপ সংযুক্ত করার পরামর্শ দেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল এর উপ প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শ্রীমঙ্গলের অধিবাসিরা পুরোপুরি ভাবেই ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল। এখানে প্রাকৃতিক পানির ব্যবহার নাই বললেই চলে বিশেষ করে নদী-নালার।

‘শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন ফ্যাক্টরী এবং পৌরসভায় যে কয়টি বড় বড় পাম্প বসানো হয়েছে সবগুলোই ভূগর্ভস্থর থেকে পানি উঠানো হয়। এছাড়া এখন শুষ্ক মৌসুম থাকায় এবং অনেক দিন যাবত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে । তিনি জনসাধারণকে পানির অপচয় রোধ করার পাশাপাশি সচেতন থাকার পরামর্শ দেন’।

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com