বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক ছাঁটাই নয়, বিকল্প পথ খুঁজুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  |  আপডেট ১২:৪৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  | 171

শ্রমিক ছাঁটাই নয়, বিকল্প পথ খুঁজুন

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বের ন্যায় হুমকির মুখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পও। করোনার কারণে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিতে ব্যাঘাত ঘটায় চরম দুর্ভোগে গার্মেন্টস মালিকেরা।

নানাবিধ দিক থেকে গার্মেন্টসগুলো পড়েছে সমস্যার ভেতর। আমাদের গার্মেন্টস শিল্প টিকে আছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভর করে। কিন্তু করোনার কারণে কমে গেছে তাদের আমদানির চাহিদা। সুতরাং অনেক শতাংশ কমে গেছে রপ্তানিও। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে।


তেমন একটা বিবৃতি দিয়ে গার্মেন্টসকর্মী ছাটাইকরণের কথা উল্লেখ করে গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ এমন কথা উল্লেখ করেছে। বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব ভোক্তাদের চাহিদা কমে যাচ্ছে। দেশের পোশাক কারখানার কাজ ও ৫৫ শতাংশ কমেছে। এমন অবস্থায় জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলনে রুবানা হক বলেন, ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটরের উপর গার্মেন্টস চলছে। সুতরাং আমাদের ছাঁটাই ছাড়া কোন উপায় দেখছি না। তবে এ অবস্থা বদলেও যেতে পারে। তখন ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরাই কাজে অগ্রাধিকার পাবে। বিজিএমইএ এর সভাপতি বলেন, জুলাইয়ের দিকে আমাদের কী হবে বলা যাচ্ছে না। সেই সময়ে আরও বড় ধাক্কা খেতে হতে পারে, তা অসম্ভব কিছুই না। বিজিএমইএ এর অন্তর্ভুক্ত কারখানা ছিল ২ হাজার ২৭৪টি। কিন্তু বর্তমানে কারখানা চালু আছে ১ হাজার ৯২৬টি। তার মানে করোনাতে বেশ কিছু গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ আছে।

করোনার এই সময়ে ৩.১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ ফেরত এসেছে। বিশ্বে ভোক্তার চাহিদা কমে যাওয়াই আগামীতে ৬৫ শতাংশ চাহিদা কমে যাবে। সুতরাং দেশের কারখানাও ৫০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যাবে। করোনার প্রভাবে চীন থেকে ৫৫ শতাংশ বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকেও দুই শতাংশ কমিয়েছে।

মহামারি করোনার কারণে এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিশ্বের সাড়ে ১৯ কোটি মানুষ তাদের পূর্ণকালীন চাকরি হারাতে যাচ্ছে। এতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় চাকরি হারাতে যাচ্ছে সাড়ে ১২ কোটি মানুষ। বর্তমানে বিশ্বের পূর্ণ বা খণ্ডকালীন মোট কর্মশক্তির প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনের পেশা কোনো না কোনোভাবে কোভিড-১৯ এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

করোনার এই প্রকোপে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশ? এ সম্পর্কে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, তার ৬৩ শতাংশ ইউরোপে যায়, বাকি ১৫ শতাংশ যায় আমেরিকায়। বলা যায়, বেশির ভাগ যাচ্ছে, ওই দুইটি বাজারে। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ, মানুষজন ঘরের ভেতরে। করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরু হওয়ার পর এখন ৩.২ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল হচ্ছে। তারা বলছে, হোল্ড করতে, সেটা একটা বিরাট ধাক্কা।

গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এ বছর মার্চ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩০ শতাংশ কম। এপ্রিলে সম্ভাবনা রয়েছে গত বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ রপ্তানি হারানো। আর এর সাথে ৪৫ লাখ চাকরি জড়িত।

এর বাইরে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে বড় একটি ধাক্কা হতে যাচ্ছে রেমিটেন্সে। সেখানে একটা বিরাট ধস নেমেছে। বাংলাদেশের মূল বাজার মূলত তিনটি। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আরেকটা পূর্ব এশিয়া। প্রথম দুইটা বাজার খুব খারাপ হয়ে পড়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সেখানে চাকরিচ্যুতি শুরু হয়ে গেছে। ফলে এসব দেশে বিপুল বাংলাদেশি শ্রমিক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

এর মধ্যেই বিশ্বব্যাংক একটি পূর্বাভাসে বলেছে বাংলাদেশে এই বছর প্রবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণা করেন, এমন সংস্থাগুলো বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে এর মধ্যেই শ্রমবাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বলেছে, শতাধিক কারখানায় কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। শুধু কর্মী নয়, অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও স্বেচ্ছায় অন্তত ছয়মাসের ছুটিতে যেতে বলেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে তাদের চাকরি থাকলেও তারা বেতনভাতা পাবেন না।

করোনা পরিস্থিতিতে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে যে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছে, এর ফলে যারা হোটেল-রেস্তোরা, নির্মাণ খাতের মতো অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, সেসব খাতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন বেকার বসে রয়েছেন। অনেকেই বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। আর্থিক কারণে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তখন সেটির শ্রমিকরা সেখান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা কাজ হারাতে পারেন। এরপরেও খুচরা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত শ্রমিকরা কাজ হারাবেন। তবে খাতভিত্তিক চিন্তা করলে হোটেল রেস্তোরা, সেবা খাতের কর্মীরা বেশি কাজ হারাতে পারেন।

করোনার এই বিষাক্ত ছোবল লন্ডভন্ড করে দিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষসহ বিভিন্ন সেবামূলক বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। সাথে সাথে হুককির মুখে পতিত করেছে এই সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শ্রমিকদের। উৎপাদন হলেও নেই বেচাকেনা, বন্ধ সব প্রকার রপ্তানিও। স্বাভাবিকভাবেই বেচাকেনা না হওয়াতে নেই কোনো লভ্যাংশ। দিনের পর দিন গুনতে হচ্ছে লোকসানের হিসাব। অনুপায় হয়ে করতে হচ্ছে কর্মী ছাঁটাই। যার বাস্তবতার বড় রূপ আমাদের গার্মেন্টস শিল্পগুলো।

দেশের বর্তমান এই সংকটকালীন সময়ে যদি গার্মেন্টস শিল্প থেকে শ্রমিক ছাঁটাই হয়, তাহলে তা গার্মেন্টস শিল্প, শ্রমিক ও দেশের বড় ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। চলতি মাসেই যখন শ্রমিক ছাঁটাই হবে, তখন শ্রমিকদের মাঝে দেখা দিবে অসন্তোষ। তাই শ্রমিকদের কথাও ভাবুন। শ্রমিকরা হঠাৎ করে চাকরি হারালে দেশে নামবে দুর্ভিক্ষ, নিরুপায় হয়ে তারা লিপ্ত হবে নানা ধরনের দুর্নীতিমূলক কাজে। এর প্রভাব পড়বে আমাদের সমাজ ও গোটা দেশের উপর এবং তার আকার হতে পারে বেশ ভয়ংকর। হঠাৎ করে কাজ থেকে বিচ্যুত হলে মহামারির এই সময়ে তারাই বা কোথায় কাজ পাবে।

সুতরাং শ্রমিক ছাঁটাই না করে বা তাদের চাকরিচ্যুত না করে বেতনের হার কিছুটা কমিয়ে আনা হোক। কথায় আছে, নেই মামা থেকে কানা মামা ভালো।

সরকারের ঘোষিত ৩ হাজার কোটি টাকার বাস্তবায়ন হোক। প্রয়োজনে সরকারি পরামর্শ ও সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন করা হোক। তবুও শ্রমিক ছাঁটাই নয়। বিকল্প পথ খুঁজুন, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করুন।

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

জবি/হাকিম মাহি

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com