নেত্রকোনা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেরপুর আইটি পার্ক’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

  • আপডেট : ১১:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৪২৮

শেরপুর প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধুর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে সব ধরনের তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা নিয়ে একদল তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘শেরপুর আইটি পার্ক’। ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে শেরপুর শহরের নিউমার্কেটস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়।

বর্তমানে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। দৈনন্দিন জীবনে তথ্য প্রযুক্তি বড় একটি জায়গা করে নিয়েছে। যোগাযোগ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, অফিস আদালতের কাজকর্ম, বিনোদন, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই এই মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এর সুফল তরুণ-তরুণীদের পৌঁছে দিতে কাজ করছে শেরপুর আইটি পার্কের ১১ সদস্যের একটি তরুণ দল।

এ দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইফতেখার হোসেন পাপ্পু, কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এসএম জুবাইদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম রনি, রইচ উদ্দিন হৃদয়, মাসু জাহান মুন্নী, রাজাদুল ইসলাম, জয়ন্ত কুমার দে, হাসানুল বান্না সিফাত, কামরুন নাহার কণা ও আনিকা রহমান অন্তু।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইফতেখার হোসেন পাপ্পুর সাথে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, শেরপুর জেলা বাংলাদেশের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রান্তিক জেলার মধ্যে একটি। এই জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সাধারণ মানুষ সুফল সম্পর্কে তেমন অবগত নন। যার প্রধান কারণ প্রচার-প্রচারণা এবং আইটি বিষয়ে উদ্যোক্তার অভাব। তাই আমরা শেরপুর জেলার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিতে চাই। আর এজন্য জেলা প্রশাসনসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানের কো-চেয়ারম্যান এস এম জুবাইদুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আগামী এক বছরে অন্তত একশত তরুণ-তরুণীকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সম্প্রতি শেরপুরে হাই-টেক পার্কের জায়গা পরিদর্শনে এসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘শেরপুরে তথ্য প্রযুক্তিকে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর এটি হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সক্ষম হবে’। আর সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছে শেরপুর আইটি পার্কের একদল উদ্যমী তরুণ।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, সময়ের বিবর্তনে মানুষ এখন অটোমেশনের যুগে প্রবেশ করেছে। তাই পৃথিবী এখন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বেড়েছে হাজার গুণ। অল্প সময়ে পরিশ্রম লাঘবের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজের ফলাফল পেতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। তাই আমরা আইটি ডিভাইস ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান, স্কুল-কলেজ পরিচালনা সহজীকরণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরা, অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের ফি প্রদান, প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট ও অ্যাপ্স তৈরি ও ডেভেলপমেন্ট, ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদান, অফিস, প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ির নিরাপত্তা নজরদারী প্রদানে সিসি টিভি মনিটরিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংসহ সব ধরনের আইটি সেবা প্রদান করবো। এছাড়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা তথ্য প্রযুক্তি শেখার মাধ্যমে আত্মস্বাবলম্বী হতে চান তাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানসহ প্রশিক্ষণ দেবে শেরপুর আইটি পার্ক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

ইরাকে সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, হতাহত ৯

শেরপুর আইটি পার্ক’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

আপডেট : ১১:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শেরপুর প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধুর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে সব ধরনের তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা নিয়ে একদল তরুণ উদ্যোক্তার হাত ধরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘শেরপুর আইটি পার্ক’। ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে শেরপুর শহরের নিউমার্কেটস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়।

বর্তমানে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। দৈনন্দিন জীবনে তথ্য প্রযুক্তি বড় একটি জায়গা করে নিয়েছে। যোগাযোগ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, অফিস আদালতের কাজকর্ম, বিনোদন, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই এই মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এর সুফল তরুণ-তরুণীদের পৌঁছে দিতে কাজ করছে শেরপুর আইটি পার্কের ১১ সদস্যের একটি তরুণ দল।

এ দলের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইফতেখার হোসেন পাপ্পু, কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এসএম জুবাইদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম রনি, রইচ উদ্দিন হৃদয়, মাসু জাহান মুন্নী, রাজাদুল ইসলাম, জয়ন্ত কুমার দে, হাসানুল বান্না সিফাত, কামরুন নাহার কণা ও আনিকা রহমান অন্তু।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইফতেখার হোসেন পাপ্পুর সাথে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, শেরপুর জেলা বাংলাদেশের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রান্তিক জেলার মধ্যে একটি। এই জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সাধারণ মানুষ সুফল সম্পর্কে তেমন অবগত নন। যার প্রধান কারণ প্রচার-প্রচারণা এবং আইটি বিষয়ে উদ্যোক্তার অভাব। তাই আমরা শেরপুর জেলার শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিতে চাই। আর এজন্য জেলা প্রশাসনসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানের কো-চেয়ারম্যান এস এম জুবাইদুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আগামী এক বছরে অন্তত একশত তরুণ-তরুণীকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। সম্প্রতি শেরপুরে হাই-টেক পার্কের জায়গা পরিদর্শনে এসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘শেরপুরে তথ্য প্রযুক্তিকে শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর এটি হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা তাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সক্ষম হবে’। আর সে লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছে শেরপুর আইটি পার্কের একদল উদ্যমী তরুণ।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, সময়ের বিবর্তনে মানুষ এখন অটোমেশনের যুগে প্রবেশ করেছে। তাই পৃথিবী এখন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। তাই তথ্যপ্রযুক্তি সেবা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বেড়েছে হাজার গুণ। অল্প সময়ে পরিশ্রম লাঘবের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজের ফলাফল পেতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। তাই আমরা আইটি ডিভাইস ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান, স্কুল-কলেজ পরিচালনা সহজীকরণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরা, অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের ফি প্রদান, প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট ও অ্যাপ্স তৈরি ও ডেভেলপমেন্ট, ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রদান, অফিস, প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়ির নিরাপত্তা নজরদারী প্রদানে সিসি টিভি মনিটরিং, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংসহ সব ধরনের আইটি সেবা প্রদান করবো। এছাড়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা তথ্য প্রযুক্তি শেখার মাধ্যমে আত্মস্বাবলম্বী হতে চান তাদের সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানসহ প্রশিক্ষণ দেবে শেরপুর আইটি পার্ক।