বুধবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের বনগাঁও-জামালপুর সড়ক ৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মান কাজ, জনদুর্ভোগ চরমে

খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) :  |  আপডেট ৬:০০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  | 165

শেরপুরের বনগাঁও-জামালপুর সড়ক ৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মান কাজ, জনদুর্ভোগ চরমে

শেরপুরের বনগাঁও-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক পুন:নির্মান ও উন্নয়ন কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে এসব পথে যাতায়াতকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এ রাস্তা নির্মানে নিম্নমানের কাজ করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর থেকে এ আঞ্চলিক মহাড়কের নির্মান কাজ তিন বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। এতে জন দ‚র্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তৎকালীন সড়ক ও জনপথের শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং মেসার্স এসইপিএল প্রাঃ লিঃ, ওটিবিএল ও মেসার্স ত‚র্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে যোগসাজশে কাজের তুলনায় আরো বেশী টাকা উত্তোলন করে চলে যায়। ফলে বিপাকে পড়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান কর্মকর্তারা।


জানা গেছে, ১৯৯১-৯২ সালে আঞ্চলিক মহাসড় হিসেবে কুরিয়ান কোম্পানীর মাধ্যমে জামালপুর-শেরপুর বনগাঁও সড়কটির নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। পরে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় এ সড়কটির প‚ন:নির্মান কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। ৩২.৪০ কি:মি: দীর্ঘ এ সড়কটির ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান কাজ যৌথভাবে শুরু করে মেসার্স এসইপিএল প্রাঃ লিঃ, ওটিবিএল ও মেসার্স ত‚র্ণা এন্টারপ্রাইজ নামের ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু শুরু থেকেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ করতে থাকে। আর এটা প্রকাশ হয়ে পড়লেই বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ। এতে দ‚র্ভোগ বেড়ে যায় মানুষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, পূর্বের সড়কটির দুই পাশ্বে ১মিটার করে ২ মিটার স¤প্রাসরণ কাজে দেড়ফুট বালি ও সাববেস ৮ইঞ্চি সাববেস, ৬ইঞ্চি সাববেস-২ ধরা থাকলেও তা করা হয়নি। অনেক নিম্ন মানের ইট বালি ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। পুরনো সড়কের মেগাডম, কার্পেটিং ও বিটুমিনাস সম্প‚র্ণ উঠিয়ে ফেলে সেখানে পাথর দিয়ে ৮ইঞ্চি (২০০ মিলি মিটার) ডবিøওবিএম করে তার উপর আড়াই ইঞ্চি (৬০ মিলি মিটার) কার্পেটিং এবং ১ ইঞ্চি (২৫ মিলি মিটার) বিটুমিনাস দিয়ে ফিনিসিং দেয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং প‚রনো সড়কের উপরের আড়াই ইঞ্চি (৬০ মিলি মিটার) কার্পেটিং এবং ১ ইঞ্চি (২৫ মিলি মিটার) বিটুমিনাস উঠিয়ে পুরনো পাথর আর কিছু নতুন পাথর দিয়ে সড়কটির প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে।

এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়। আর বছর না ঘুরতেই নতুন নির্মিত সড়কটি অনেক স্থানেই খানাখন্দক হওয়া শুরু করে। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সড়কটি তদন্তের সুপারিশ করেন। গত বছর জুলাই মাসে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একাধিক তদন্ত টিম এসে তদন্ত করে সড়কটির নির্মান কাজে অনিয়ম পায়। ফলে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহাম্মদকে শেরপুর থেকে বদলী করে ফেনি আর উপসহকারী প্রকৌশলী মাজাহারুল ইসলাম আজাদকে মেহেরপুর বদলী করা হয়। আর তিনি যাওয়ার আগে ৭০ ভাগ কাজ শেষ না করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ৯০ কোটি টাকা বিল প্রদান করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে তদন্ত করে নিম্নমানের কাজ করায় ঠিকাদারকে দেয়া এ কাজের অর্ডার বাতিল করা হলেও এখন পর্যন্ত কালো তালিকাভ‚ক্ত করে শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অপরদিকে ওই সময়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন আহাম্মেদের বিরুদ্ধেও কোন বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে পুরস্কার হিসেবে শেরপুরের চেয়ে বড় জেলায় বদলি করা হয়েছে। প্রথমে তাকে ফেনিতে বদলি করলেও বর্তমানে ফরিদপুর আছেন বলে মুঠো ফোনে জানান তিনি। তাই শেরপুরের সচেতন মহল ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তি চান। এ ব্যাপারে শেরপুর শহর আওয়ামীলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মানিক দত্ত বলেন, এ সড়কে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। একেবারেই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। এখানে ঠিকাদারকে হালকা শাস্তি প্রদান করা হলেও তাকে কালো তালিকাভ‚ক্ত করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ কাজের অনিয়মের সাথে জড়িত কমকর্তাদের শাস্তি না দিয়ে বড় জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাদেরকেও শাস্তি দিতে হবে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জন উদ্যোগ শেরপুর জেলা শাখার আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্নীতি কাকে বলে এ সড়কটি দেখলেই বুঝা যায় কাজ চলমান থাকা অবস্থায়ই নির্মান করা সড়ক খানাখন্দকে পরিনত হয়। এখানে ৪০ ভাগ কাজ না করেই ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যারা এ দুর্নীতির সাথে জড়িত ঐসব কর্মকর্তাদেরও কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এছাড়াও ভ‚ক্তভোগী জনগন বলেন, এ সড়কটি নির্মান না করায় প্রায়ই দ‚র্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রæত সড়কটি নির্মানের দাবী জানাই। নিম্নমানের কাজ ও বেশী বিল পরিশোধের কথা অস্বীকার করে শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে ফরিদপুর জেলায় কর্মরত), আহসান উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন আমি মনে করি সঠিকভাবেই কাজ করেছি। এদিকে শেরপুরের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্কঅর্ডার বাতিল করেছি। তার বিরুদ্ধে ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com