নেত্রকোনা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিশু-নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন : নারী সংহতি

  • আপডেট : ১০:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯
  • ১৩১৬ বার পঠিত

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক:

শিশু-নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারী সংহতি। সারাদেশে শিশু-নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং পাড়া-মহল্লা-প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ইয়াসমিন দিবস’ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ধর্ষণ-যৌন নিপীড়নবিরোধী সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। ২৪ আগস্ট ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিন পুলিশ সদস্যদের দ্বারা গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। প্রতিবাদে ওই দিনটি ‘ইয়াসমিন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।

বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, নারায়ণগঞ্জ শাখার সংগঠক আফরীন আহমেদ হিয়া, মান্দাইলের সংগঠক লিপি বেগম এবং উত্তরা শাখার সংগঠক সামিয়া রহমান। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী মাহবুবা মেহজাবীন মৌরী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল, রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় সংহতি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘পাহাড়ে-সমতলে-ঘরে-বাইরে-প্রতিষ্ঠানে-রাস্তায়-পরিবহনে কোথাও আজ নারী নিরাপদ নয়। জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ এ রাষ্ট্রে শিশুর কোনো শৈশব নেই, সায়মা-আয়েশা-কৃত্তিকার মৃত শৈশব পড়ে থাকে নির্লিপ্ত রাষ্ট্রের সামনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়ে ও ছেলে শিশুরা হচ্ছে যৌন নিপীড়নের শিকার।’

নারী সংহতি মনে করে, নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই ধর্ষণকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে।

সভায় সংগঠনের সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, ২৪ বছর আগে দিনাজপুরের ইয়াসমিন যেমন পুলিশ বাহিনীর হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন, এখনও সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে। ‘সর্বাধিক নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচিত সেনানিবাস এরিয়ার ভেতরেও নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি খুলনায় পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন নারী। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, নির্বাচন-পরবর্তী জবাবদিহিতাহীন একদলীয় শাসন-ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং নৈরাজ্য ধর্ষণকে পুষ্টি যোগাচ্ছে। তাই ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন কিংবা গণপিটুনির বিরুদ্ধে জনগণকে সংঘবদ্ধ হতে হবে, আইনি ও সাংস্কৃতিক এই দুই ময়দানেই লড়তে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

শিশু-নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন : নারী সংহতি

আপডেট : ১০:৩৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক:

শিশু-নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারী সংহতি। সারাদেশে শিশু-নারী ধর্ষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং পাড়া-মহল্লা-প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটি গঠনেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ইয়াসমিন দিবস’ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ধর্ষণ-যৌন নিপীড়নবিরোধী সভা থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। ২৪ আগস্ট ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিন পুলিশ সদস্যদের দ্বারা গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। প্রতিবাদে ওই দিনটি ‘ইয়াসমিন দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।

বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, নারায়ণগঞ্জ শাখার সংগঠক আফরীন আহমেদ হিয়া, মান্দাইলের সংগঠক লিপি বেগম এবং উত্তরা শাখার সংগঠক সামিয়া রহমান। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী মাহবুবা মেহজাবীন মৌরী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল, রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদকসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় সংহতি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘পাহাড়ে-সমতলে-ঘরে-বাইরে-প্রতিষ্ঠানে-রাস্তায়-পরিবহনে কোথাও আজ নারী নিরাপদ নয়। জনগণের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ এ রাষ্ট্রে শিশুর কোনো শৈশব নেই, সায়মা-আয়েশা-কৃত্তিকার মৃত শৈশব পড়ে থাকে নির্লিপ্ত রাষ্ট্রের সামনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়ে ও ছেলে শিশুরা হচ্ছে যৌন নিপীড়নের শিকার।’

নারী সংহতি মনে করে, নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই ধর্ষণকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে।

সভায় সংগঠনের সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, ২৪ বছর আগে দিনাজপুরের ইয়াসমিন যেমন পুলিশ বাহিনীর হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন, এখনও সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে। ‘সর্বাধিক নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচিত সেনানিবাস এরিয়ার ভেতরেও নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে।

সম্প্রতি খুলনায় পুলিশ কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন নারী। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, নির্বাচন-পরবর্তী জবাবদিহিতাহীন একদলীয় শাসন-ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং নৈরাজ্য ধর্ষণকে পুষ্টি যোগাচ্ছে। তাই ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন কিংবা গণপিটুনির বিরুদ্ধে জনগণকে সংঘবদ্ধ হতে হবে, আইনি ও সাংস্কৃতিক এই দুই ময়দানেই লড়তে হবে।