নেত্রকোনা ১২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রুয়েট ছাত্রীর যৌন হয়রানির দায়ে অটোচালক গ্রেফতার

  • আপডেট : ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৯
  • ১২৩০ বার পঠিত

মেহেদী হাসান,রাবি সংবাদদাতা:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক ছাত্রীকে চলন্ত অটোরিকশার মধ্যে যৌন হয়রানি করে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অটোচালক শামসু ডলার সুমন নগরীর ভেড়ীপাড়া এলাকার মৃত আমান উল্লাহ রেন্টুর ছেলে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রুয়েটের ছাত্রীর ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেন। তদন্ত করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে শনাক্ত করা হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাসিক-খ-৮২৩, ২০১৮-২০১৯। অভিযুক্ত সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, ওইদিন ছাত্রী তার অটোরিকশায় ছিলেন। তবে সে দাবি করছে ঘটনার সময় তার অটোতে থাকা অন্য অভিযুক্ত যাত্রীদের কাউকেই সে চেনে না। মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে অপর অভিযুক্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করতে আদালতের মাধ্যমে সুমনকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় রাজশাহীর নগর ভবন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর ওই ছাত্রী নিজেই তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার বাসা উপরশহর। বাসা দূর বলে আমি সাধারণত রুয়েট থেকে রেলগেট পর্যন্ত অটোতে করে আসি। আজকেও প্রতিদিনের মতো অটো নিলাম, সঙ্গে ছিল দুইজন অপরিচিত রুয়েটিয়ান ভাইয়া আর একজন ভদ্রলোক। রুয়েটিয়ান ভাই দুইজন চিশতিয়ার সামনে নেমে গেলেন। ভদ্রা পার হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ অটোওয়ালা অটো থামায় দিলো, সামনে থাকা ভদ্রলোককে বললো, ‘আপনি নেমে যান, আমি নিজস্ব লোক তুলবো!’ আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ভদ্রলোককে জোরপূর্বক নামিয়ে চারজন গুÐা উঠলে অটো চালানো শুরু হয়ে গেলো।

ভদ্রা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত রাস্তা মোটামুটি নির্জন, ইচ্ছেমত সেই চারজন আমাকে স্পর্শ করা শুরু করলো। হাজারবার অটো থামানোর জন্য চিৎকার করার পরও অটোওয়ালা পশুর মত হাসতে থাকলো। নগর ভবনের সামনে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে তারা অটো থেকে ধাক্কা মেরে আমাকে ফেলে দিয়ে দ্রæত চলে গেলো। যতক্ষণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি, ততক্ষণে অটো বহুদূর…!’

যৌন হয়রানির কোনো বিচার হবে না এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, ‘কাহিনীটা শুধু শেয়ার করলাম। এইটা বাংলাদেশ, কোনো বিচারের আশা আমি করছিনা। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে আমার পোশাক কি ছিলো? সাধারণ বাঙালি নারীর মতো সালোয়ার কামিজ।’

ওই ছাত্রী তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনার পরদিন ২০ আগস্ট তিনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

রুয়েট ছাত্রীর যৌন হয়রানির দায়ে অটোচালক গ্রেফতার

আপডেট : ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৯

মেহেদী হাসান,রাবি সংবাদদাতা:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক ছাত্রীকে চলন্ত অটোরিকশার মধ্যে যৌন হয়রানি করে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অটোচালক শামসু ডলার সুমন নগরীর ভেড়ীপাড়া এলাকার মৃত আমান উল্লাহ রেন্টুর ছেলে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রুয়েটের ছাত্রীর ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেন। তদন্ত করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটিকে শনাক্ত করা হয়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাসিক-খ-৮২৩, ২০১৮-২০১৯। অভিযুক্ত সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, ওইদিন ছাত্রী তার অটোরিকশায় ছিলেন। তবে সে দাবি করছে ঘটনার সময় তার অটোতে থাকা অন্য অভিযুক্ত যাত্রীদের কাউকেই সে চেনে না। মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে অপর অভিযুক্ত যাত্রীদের চিহ্নিত করতে আদালতের মাধ্যমে সুমনকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় রাজশাহীর নগর ভবন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর ওই ছাত্রী নিজেই তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার বাসা উপরশহর। বাসা দূর বলে আমি সাধারণত রুয়েট থেকে রেলগেট পর্যন্ত অটোতে করে আসি। আজকেও প্রতিদিনের মতো অটো নিলাম, সঙ্গে ছিল দুইজন অপরিচিত রুয়েটিয়ান ভাইয়া আর একজন ভদ্রলোক। রুয়েটিয়ান ভাই দুইজন চিশতিয়ার সামনে নেমে গেলেন। ভদ্রা পার হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ অটোওয়ালা অটো থামায় দিলো, সামনে থাকা ভদ্রলোককে বললো, ‘আপনি নেমে যান, আমি নিজস্ব লোক তুলবো!’ আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ভদ্রলোককে জোরপূর্বক নামিয়ে চারজন গুÐা উঠলে অটো চালানো শুরু হয়ে গেলো।

ভদ্রা থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত রাস্তা মোটামুটি নির্জন, ইচ্ছেমত সেই চারজন আমাকে স্পর্শ করা শুরু করলো। হাজারবার অটো থামানোর জন্য চিৎকার করার পরও অটোওয়ালা পশুর মত হাসতে থাকলো। নগর ভবনের সামনে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে তারা অটো থেকে ধাক্কা মেরে আমাকে ফেলে দিয়ে দ্রæত চলে গেলো। যতক্ষণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি, ততক্ষণে অটো বহুদূর…!’

যৌন হয়রানির কোনো বিচার হবে না এমন ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, ‘কাহিনীটা শুধু শেয়ার করলাম। এইটা বাংলাদেশ, কোনো বিচারের আশা আমি করছিনা। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে আমার পোশাক কি ছিলো? সাধারণ বাঙালি নারীর মতো সালোয়ার কামিজ।’

ওই ছাত্রী তার ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনার পরদিন ২০ আগস্ট তিনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।