নেত্রকোনা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

  • আপডেট : ০৫:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
  • ১৭১

মেহেদী হাসান,রাবি সংবাদদাতা:

দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে ও শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া নিহত আবরারের স্মরণে শোক র‌্যালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সহ¯্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাদা কাপড়ে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের সময় তারা কাপড়ের উপর আবরার হত্যাকারীদের বিচার ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপ-উপাচার্য অপসারণ চাই বলে উল্লেখ করেন। কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাল কার্ড প্রদর্শন করে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের অভ্যন্তরে একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মেরে ফেললো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যা এটাই প্রথম নয়, আগেও শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ থেকে শিক্ষক নিয়োগে তার অনিয়মের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে আমাদের শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারি না।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে অবাধ দলীয়করণের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির প্রবেশ ঘটিয়েছে। সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ শুধু দুর্নীতির সঙ্গে নয়, সন্ত্রাসেও লিপ্ত।

আবরার হত্যার মাধ্যমে শুধু আবরারকে নয়, পুরো জাতিসত্ত¡াকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে অন্য দেশকে তুষ্ট করতে ‘জয় হিন্দ’ ¯েøাগান দেন। আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই জায়গায় ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকসমাজ’র ব্যানারে মৌন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিয়ে র‌্যালি বের করা হয়। এ সময় তারা আবরার হত্যার বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে নিহত আবরার স্মরণে শোক র‌্যালি বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় টেন্টে এসে শেষ হয়। র‌্যালি থেকে নেতাকর্মীরা আবরার হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। র‌্যালিতে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

রাবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

আপডেট : ০৫:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

মেহেদী হাসান,রাবি সংবাদদাতা:

দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার প্রতিবাদে ও শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া নিহত আবরারের স্মরণে শোক র‌্যালি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এক গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সহ¯্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাদা কাপড়ে স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষরের সময় তারা কাপড়ের উপর আবরার হত্যাকারীদের বিচার ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপ-উপাচার্য অপসারণ চাই বলে উল্লেখ করেন। কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে লাল কার্ড প্রদর্শন করে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ।

এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের অভ্যন্তরে একজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মেরে ফেললো। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যা এটাই প্রথম নয়, আগেও শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ থেকে শিক্ষক নিয়োগে তার অনিয়মের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে আমাদের শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারি না।

এদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি এবং আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। এসময় বক্তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রশাসনের অন্যান্য স্তরে অবাধ দলীয়করণের মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির প্রবেশ ঘটিয়েছে। সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ শুধু দুর্নীতির সঙ্গে নয়, সন্ত্রাসেও লিপ্ত।

আবরার হত্যার মাধ্যমে শুধু আবরারকে নয়, পুরো জাতিসত্ত¡াকে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান দেশের সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে অন্য দেশকে তুষ্ট করতে ‘জয় হিন্দ’ ¯েøাগান দেন। আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

এছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই জায়গায় ‘দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকসমাজ’র ব্যানারে মৌন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিয়ে র‌্যালি বের করা হয়। এ সময় তারা আবরার হত্যার বিচার ও শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে নিহত আবরার স্মরণে শোক র‌্যালি বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় টেন্টে এসে শেষ হয়। র‌্যালি থেকে নেতাকর্মীরা আবরার হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। র‌্যালিতে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।