নেত্রকোনা ০১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

রক্তঝরা আগস্ট

  • আপডেট : ১২:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯
  • ১৮১৩ বার পঠিত

কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো/যদি বাঙালি হও নিঃশব্দে কাছে এসো, আরো কাছে/… এখানেই শুয়ে আছেন অনন্ত আলোয় নক্ষত্রলোকে/জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ কবি রবীন্দ্র গোপ তার ‘কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো’ কবিতায় এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

আজ যে বাঙালির কাঁদারই দিন। কাঁদো বাঙালি কাঁদো। আজ যে সেই ভয়াল-বীভৎস ১৫ আগস্ট। আজ সেই অন্তিম শোকার্ত বাণীপাঠের দিন। বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন। আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। আজ জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। দিনটি সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে। দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে আজ।

তোলা হবে কালো পতাকা। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মম বুলেটের আঘাতে ঘৃণ্য খুনিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্তদ্ধতা না থাকা সত্তে¡ও নারী-শিশুরাও সেদিন রেহাই পায়নি ঘৃণ্য কাপুরুষ এই ঘাতকচক্রের হাত থেকে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান কেবল বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম-মৃত্যু (১৯২০-১৯৭৫) হিসেব করলে মাত্র ৫৫বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘকাল ধরে শোষিত বাঙলাকে সোনার বাঙলায় পরিনত করা। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পেয়েছে একটি পতাকা, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, মানচিত্র, সংবিধান ও স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

আমরা সে রাষ্ট্রের গর্বিত সন্তান। এসবের জন্য বাঙালি জাতি তাঁর কাছে ঋণী। এ ঋণ কোনদিন বাঙালি পরিশোধ করতে পারবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির ভালোবাসা ঠিকই শোধ করে গেছেন বুকের রক্ত দিয়ে। না-ফেরার দেশ থেকে অবিসংবাদিত এই নেতা ফিরে না এলেও বছর ঘুরে বার বার আসে রক্তঝরা ১৫ আগস্ট। ৪১ বছর আগে ৩১ শ্রাবণের অভিশপ্ত দিনে বিশ্বাসঘাতকরা যাকে বিনাশ করতে চেয়েছিল সেই শেখ মুজিব মরেননি। বাঙালির হৃদয়ে অবিনাশী হয়ে আছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

রক্তঝরা আগস্ট

আপডেট : ১২:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৯

কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো/যদি বাঙালি হও নিঃশব্দে কাছে এসো, আরো কাছে/… এখানেই শুয়ে আছেন অনন্ত আলোয় নক্ষত্রলোকে/জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’ কবি রবীন্দ্র গোপ তার ‘কাঁদো বাংলার মানুষ কাঁদো’ কবিতায় এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

আজ যে বাঙালির কাঁদারই দিন। কাঁদো বাঙালি কাঁদো। আজ যে সেই ভয়াল-বীভৎস ১৫ আগস্ট। আজ সেই অন্তিম শোকার্ত বাণীপাঠের দিন। বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন। আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। আজ জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। দিনটি সারা দেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে। দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে আজ।

তোলা হবে কালো পতাকা। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মম বুলেটের আঘাতে ঘৃণ্য খুনিরা নৃশংসভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্তদ্ধতা না থাকা সত্তে¡ও নারী-শিশুরাও সেদিন রেহাই পায়নি ঘৃণ্য কাপুরুষ এই ঘাতকচক্রের হাত থেকে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান কেবল বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম-মৃত্যু (১৯২০-১৯৭৫) হিসেব করলে মাত্র ৫৫বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘকাল ধরে শোষিত বাঙলাকে সোনার বাঙলায় পরিনত করা। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পেয়েছে একটি পতাকা, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, মানচিত্র, সংবিধান ও স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

আমরা সে রাষ্ট্রের গর্বিত সন্তান। এসবের জন্য বাঙালি জাতি তাঁর কাছে ঋণী। এ ঋণ কোনদিন বাঙালি পরিশোধ করতে পারবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির ভালোবাসা ঠিকই শোধ করে গেছেন বুকের রক্ত দিয়ে। না-ফেরার দেশ থেকে অবিসংবাদিত এই নেতা ফিরে না এলেও বছর ঘুরে বার বার আসে রক্তঝরা ১৫ আগস্ট। ৪১ বছর আগে ৩১ শ্রাবণের অভিশপ্ত দিনে বিশ্বাসঘাতকরা যাকে বিনাশ করতে চেয়েছিল সেই শেখ মুজিব মরেননি। বাঙালির হৃদয়ে অবিনাশী হয়ে আছেন।