মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যে স্বত্ব পেয়েছি তা কে কেড়ে নেবে: শেখ আবদুল হাকিম

অনার্য মু‌র্শিদ :  |  আপডেট ৬:০০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  | 169

যে স্বত্ব পেয়েছি তা কে কেড়ে নেবে: শেখ আবদুল হাকিম

‘মাসুদ রানা’ তুমি কার? গত বছর ২৯ জুলাই মাসুদ রানার স্বত্ব নিয়ে শেখ আবদুল হাকিম কপিরাইট আইনে মামলা করার পর এই প্রশ্নের জন্ম। তুমুল পাঠকপ্রিয় এই থ্রিলারের মতোই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। সম্প্রতি মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে কাজী আনোয়ার হোসেনকে এই সিরিজের স্রষ্টা এবং শেখ আবদুল হাকিমকে এই সিরিজের বেশিরভাগ পর্বের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ‘মাসুদ রানা’ ভক্তদের অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তারই সুলুকসন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎকারে। শেখ আবদুল হাকিমের সঙ্গে কথোপকথনে ছিলেন অনার্য মুর্শিদ।

অনার্য মুর্শিদ: দীর্ঘ এক বছর আইনি লড়াই শেষে আপনি ৩১০টি বইয়ের কপিরাইট পেলেন। এখন বইগুলো আপনি কীভাবে প্রকাশ করতে চাচ্ছেন?


শেখ আবদুল হাকিম: বইগুলো আমি ভালো কোনো প্রকাশককে দেব। আমার লেখার যে রেট আছে, তার চেয়ে কম পয়সায় দেব না।

অনার্য মুর্শিদ: কিন্তু মামলাটি উচ্চ আদালতে গেলে আপনি স্বত্ব পাবেন বলে বিশ্বাস করেন?

শেখ আবদুল হাকিম: আইন তো আমার পক্ষে। কাজেই যে স্বত্ব পেয়েছি তা আমার কাছ থেকে কে, কীভাবে কেড়ে নেবে? সেবা প্রকাশনীর তরফ থেকে লিখিতভাবে স্বীকারও করে নেওয়া হয়েছে ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি পর্ব এবং ‘মাসুদ রানা’র ২৬০টি পর্ব আমি লিখেছি। এরপর আর কিছু বলবার থাকে?

অনার্য মুর্শিদ: অনেকে মনে করেন আপনি এখানে গোস্ট রাইটার হিসেবে কাজ করছেন। আপনি কী মনে করেন?

শেখ আবদুল হাকিম: আমি কি গোস্ট রাইটার? কী জানি! কাজী সাহেব কি কখনো আমাকে গোস্ট রাইটার বলেছেন? ২০১০ সালে তিনি লিখিতভাবে কপিরাইট অফিসকে জানিয়েছেন, ‘শেখ আবদুল হাকিম একটাও মাসুদ রানা লেখেননি, একটাও কুয়াশা লেখেননি।’ গোস্ট রাইটারকে দিয়ে লেখালে যদি কপিরাইট তাঁরই (কাজী আনোয়ার হোসেন) থাকে, তাহলে প্রথমেই কেন তিনি বললেন না- হ্যাঁ, হাকিম সাহেবকে দিয়ে আমি ৩১০টি বই লিখিয়েছি?

অনার্য মুর্শিদ: সেবার সঙ্গে আপনার চুক্তি কী ধরনের ছিল?

শেখ আবদুল হাকিম: কপিরাইট সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তবে চুক্তির কথা উঠেছিল- সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিটি বইয়ের জন্যে আলাদা চুক্তিপত্র তৈরি করা হবে। কিন্তু কাজী সাহেব নানা অজুহাতে এড়িয়ে গেছেন।

অনার্য মুর্শিদ: সেবা প্রকাশনীর সঙ্গে আপনার যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটটা যদি বলতেন…।

শেখ আবদুল হাকিম: প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান আমার বড় ভাই শেখ আবদুর রহমানকে কাজী সাহেবের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। কাজী সাহেব তখন রহমানকে ‘কুয়াশা’ লেখার প্রস্তাব দেন। রহমান লিখতে রাজি ছিল না। সে আমাকে দিয়ে লিখিয়ে কাজী সাহেবের কাছে জমা দেয়। ১৯৬৬ কি ৬৭ সালে- সেই থেকে শুরু।

অনার্য মুর্শিদ: ‘মাসুদ রানা’ প্রথম কীভাবে সৃষ্টি হলো?

শেখ আবদুল হাকিম: সেটা আমি কীভাবে বলব! আমি তো ২০ নম্বর বই ‘জাল’ দিয়ে শুরু করেছি।

অনার্য মুর্শিদ: ‘মাসুদ রানা’ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের যে বইগুলো আপনি লিখেছেন সেগুলো কি কাজী আনোয়ার হোসেন সম্পাদনা করতেন নাকি অন্য কোনো সম্পাদক ছিল?

শেখ আবদুল হাকিম: কাজী সাহেব সম্পাদনা করতেন; যদি প্রয়োজন হতো।

অনার্য মুর্শিদ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্ন ঘুরছে- দুটি নয় দশটি নয়, ৩১০টি বই! কেনো আপনি এতগুলো বই কাজী সাহেবের নামে চালাতে দিলেন? এত দিন পর কেন মুখ খুলছেন।

শেখ আবদুল হাকিম:  এর উত্তর রায়ে উল্লেখ করা আছে, দেখে নেবেন।

অনার্য মুর্শিদ: সেবা প্রকাশনীর কাছে আপনি কী পরিমাণ অর্থ পান?

শেখ আবদুল হাকিম: আমাকে গোপন করে একেকটা বই পঁচিশ-ত্রিশবার ছাপা হয়েছে। কখনো সিঙ্গেল, কখনো ভলিউম আকারে। কখনো-বা অন্য সব বিভিন্ন সিঙ্গেল বইয়ের সঙ্গে। যত দিন যাচ্ছে ততই এসব তথ্য আমরা পাচ্ছি। কাজেই হিসাবটা সম্পূর্ণ করতে একটু সময় লাগছে।

ঢাকা/তারা

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com