নেত্রকোনা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মদনে ফের চালু হলো বন্ধ করা ইটভাটা

মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে ইট ভাটার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কয়েকদিন পর আবার তা চালূ করেছে মালিক পক্ষ। ওই ফসলি জমিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইট ভাটা কার্যক্রম পরিচালনা করলে এলাকাবাসী তাদের ক্ষতির কারণ তুলে ধরে ইউএনও অফিসের সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কৃষি জমিতে কোনো শিল্প না বক্তব্য দিলে কৃষকদের দাবি মানা হবে মর্মে তাদের মনে আশার সঞ্চার হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এতে এলাকাবসীর মনে স্বস্থি আসে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার ভাটার কাজ শুরু হওয়ায় ফসল বিপর্যয়সহ লড়ি গাড়ির ভয়ে শিশুদের নিয়ে আতংকে আছেন কৃষকগণ। সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগসহ সারাদেশে ফসলি জমিতে অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্ষমতার দাপটে নতুন ইট ভাটা গড়ে তুলছেন দৈনিক মানব কন্ঠের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি আলতাবুর রহমান কাশেম ও হুমায়ুন কবির লিটন।

এই ইট ভাটার কাজ প্রথম শুরু করেন হুমায়ুন কবির লিটন। পরে আইনগত জটিলতায় পিছিয়ে পড়লে চাচাতো ভাই আলতাবুর রহমান কাশেমকে অংশীদার করে তার নামে ইট ভাটার কাগজপত্র করার অনুমতি দেয়। এতে তিনি কোনো রকম পরোয়া না করে প্রশাসনের বন্ধ করে দেয়া ইট ভাটার কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে ইট ভাটার শ্রমিকগণ কাজ করার জন্য বাহন হিসাবে ৩/৪ রেজিঃ বিহীন মোটরসাইকেল গাড়িতে মানবকন্ঠের স্টীকার লাগিয়ে যাতায়াত করায় উপজেলা সর্বত্র তাদের ক্ষমতার দাপট নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েজন নিরীহ কৃষক জানান, প্রশাসন ও এলাকার প্রতিবাদকারী লোকজনকে ম্যানেজ করে সাংবাদিক আলতাবুর রহমান কাশেম ও লিটন বন্ধ হওয়া ইটভাটার কাজ আবারো দ্রæত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর কার্যক্রম বন্ধ না হলে কৃষদের সর্বনাশসহ মদন গ্রামের লোকজন শিশুদের নিয়ে ইট ভাটার গাড়ির আতংকে ভুগবে।

ব্রিকসের মালিক আলতাবুর রহমান কাশেমের সাথে শনিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মানিক মিয়া জানান, মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে কৃষির উপর নির্ভরশীল ওই এলাকার কৃষকগণ ফসল বিপর্যয়সহ ভাটার গাড়ির আতংকে শিশুদের নিয়ে সবসময় দূশ্চিন্তায় ভূগবে। দ্রæত ইট ভাটার কাজ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নেত্রকোনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, মদন গ্রামের পাশে ফসলি জমিতে ইট ভাটার কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। খবর পেয়েছি ভাটার কার্যক্রম আবার চালু করেছে। অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদের ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

ইউএনও মোঃ ওয়ালীউল হাসান জানান, এ ইট ভাটার কাগজ পত্র আমাকে দেখায়নি। আমার জানামতে ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

মদনে ফের চালু হলো বন্ধ করা ইটভাটা

আপডেট : ০৩:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০

মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে ইট ভাটার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কয়েকদিন পর আবার তা চালূ করেছে মালিক পক্ষ। ওই ফসলি জমিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইট ভাটা কার্যক্রম পরিচালনা করলে এলাকাবাসী তাদের ক্ষতির কারণ তুলে ধরে ইউএনও অফিসের সামনে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কৃষি জমিতে কোনো শিল্প না বক্তব্য দিলে কৃষকদের দাবি মানা হবে মর্মে তাদের মনে আশার সঞ্চার হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ব্রিকসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এতে এলাকাবসীর মনে স্বস্থি আসে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার ভাটার কাজ শুরু হওয়ায় ফসল বিপর্যয়সহ লড়ি গাড়ির ভয়ে শিশুদের নিয়ে আতংকে আছেন কৃষকগণ। সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগসহ সারাদেশে ফসলি জমিতে অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্ষমতার দাপটে নতুন ইট ভাটা গড়ে তুলছেন দৈনিক মানব কন্ঠের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি আলতাবুর রহমান কাশেম ও হুমায়ুন কবির লিটন।

এই ইট ভাটার কাজ প্রথম শুরু করেন হুমায়ুন কবির লিটন। পরে আইনগত জটিলতায় পিছিয়ে পড়লে চাচাতো ভাই আলতাবুর রহমান কাশেমকে অংশীদার করে তার নামে ইট ভাটার কাগজপত্র করার অনুমতি দেয়। এতে তিনি কোনো রকম পরোয়া না করে প্রশাসনের বন্ধ করে দেয়া ইট ভাটার কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে ইট ভাটার শ্রমিকগণ কাজ করার জন্য বাহন হিসাবে ৩/৪ রেজিঃ বিহীন মোটরসাইকেল গাড়িতে মানবকন্ঠের স্টীকার লাগিয়ে যাতায়াত করায় উপজেলা সর্বত্র তাদের ক্ষমতার দাপট নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েজন নিরীহ কৃষক জানান, প্রশাসন ও এলাকার প্রতিবাদকারী লোকজনকে ম্যানেজ করে সাংবাদিক আলতাবুর রহমান কাশেম ও লিটন বন্ধ হওয়া ইটভাটার কাজ আবারো দ্রæত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর কার্যক্রম বন্ধ না হলে কৃষদের সর্বনাশসহ মদন গ্রামের লোকজন শিশুদের নিয়ে ইট ভাটার গাড়ির আতংকে ভুগবে।

ব্রিকসের মালিক আলতাবুর রহমান কাশেমের সাথে শনিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মানিক মিয়া জানান, মদন গ্রামের পাশে দুই ফসলি ধান জমিতে ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে কৃষির উপর নির্ভরশীল ওই এলাকার কৃষকগণ ফসল বিপর্যয়সহ ভাটার গাড়ির আতংকে শিশুদের নিয়ে সবসময় দূশ্চিন্তায় ভূগবে। দ্রæত ইট ভাটার কাজ বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নেত্রকোনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, মদন গ্রামের পাশে ফসলি জমিতে ইট ভাটার কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। খবর পেয়েছি ভাটার কার্যক্রম আবার চালু করেছে। অবৈধ ইট ভাটা উচ্ছেদের ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

ইউএনও মোঃ ওয়ালীউল হাসান জানান, এ ইট ভাটার কাগজ পত্র আমাকে দেখায়নি। আমার জানামতে ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।