মঙ্গলবার ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভোগান্তিতে অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক;  |  আপডেট ৫:০০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০ | প্রিন্ট  | 129

ভোগান্তিতে অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের ১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত জানুয়ারি মাসে। যার মধ্যে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, গণিত, পদার্থ, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থীরাও রয়েছে। কলেজ নিয়মানুযায়ী এসব শিক্ষার্থীর আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফল পাওয়ার কথা। তবে দীর্ঘ ১০ মাস পার হলেও ফল প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

ফলাফল না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসহ ৫ জন শিক্ষকের একটি কমিটি এসব কলেজের ফল সমন্বয় করে থাকেন। প্রতিটি পরীক্ষা কমিটিতে দু’জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তিনজন অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষক একটি সভার আয়োজন করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র এসব শিক্ষকের সমন্বয় ও সই না করায় হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


তারা জানান, কিছু বিভাগ আড়াই মাস আগে ফল প্রকাশ করেছে। তবে এই আট বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের শেষ বর্ষের ফলাফল এখনো পাইনি। এছাড়াও ১৬-১৭ ও ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বৈষম্য হয়েছিল। যে কারণে সড়কে এসে আন্দোলন করে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদেরকে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দিলেও এ সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে অধিভুক্ত কলেজের সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতা আবু বকর বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে প্রথম বর্ষের কোন শিক্ষার্থী যদি সিজিপিএ ২ এর নিচে পান তাদেরকে নন প্রমোটেড করা হয়। দ্বিতীয় বর্ষ ও ৩য় বর্ষের কোন শিক্ষার্থী ২.৫ এর নিচে সিজিপিএ অর্জন করলে তাদেরকে নন প্রমোটেড করা হয়। এজন্য আমাদেরকে তাদের মতো ক্লাসের সুযোগ দিতে হবে। এছাড়াও ইনকোর্সে আমাদের খুব কম নম্বর দেয়া হয়। যে কারণে পিছিয়ে পড়ছে অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।



২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী আজিজুল হক। প্রথম বর্ষে তার ‘রসায়ন’ ইমপ্রুভমেন্ট থাকাতে এখনও তিনি অনার্স সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেননি। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ‘খামখেয়ালিপনার’ কারণে বার বার ভালো পরীক্ষার দেয়ার পরও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

করোনার এই ভয়াল থাবায় আজিজুলের মত আরও হাজার হাজার শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষাজীবন থেকে। যার বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এক বিষয় বা দুই বিষয়ের জন্য আটকে আছে। কবে দিতে পারবে সেই পরীক্ষা সেটারও নেই কোনো নিশ্চয়তা।

দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা সমাধানে অধিভুক্ত সাত কলেজের জন্য নীতিমালা চান এসব শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, নতুন নীতিমালা না করা হলে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্দোলনে যাবে তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, পরীক্ষা কমিটির লক্ষ্যই থাকে যত দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা যায় তা সম্ভব করা। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ব্যাপক, এজন্য সময় লাগে। আমি নিজেও একটি কমিটিতে ছিলাম। তবে আজই সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পেলাম এসব শিক্ষার্থী এখনো ফল পাইনি। আমি পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনা দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

আলাদা নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাত কলেজের সাত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে কমিটি আছে। তাদের কলেজগুলো তাদের তত্বাবধানে চলে। তাদের কোন দাবি বা সুনির্দিষ্টভাবে কোন ঘাটতি থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই তা পূরণ করবে।



অপরদিকে আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে একটি ইভেন্টের ডাক দিয়েছে। যার নাম হচ্ছে ‌‘সাত কলেজের সবার অটোপাস চাই’।

শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল রানা বলেন, আমি ইতোমধ্যে শেষ বর্ষে পাস করেছি। কিন্তু আমার কোন সিজিপিএ আসে নাই। কারণ হিসেবে জানান, দ্বিতীয় বর্ষে একটি পরীক্ষায় ফেল রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে কবে পরীক্ষা হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এজন্য রাসেল রানার মতো এসব শিক্ষার্থী যাদের দু’এক বিষয়ে অকৃতকার্য রয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে অটো পাসের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ প্রসঙ্গে বাঙলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিব হোসেন বলেন, সেশন জটের কারণে ৪ বছরের কোর্স পড়তে ৭-৮ বছর সময় লেগে যায়। এরপর করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে সব একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম। এজন্য আমাদের স্বপ্নগুলো স্বপ্ন থেকে যাচ্ছে। অনেকেই আজ পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা।



বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com