নেত্রকোনা ০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভরা বর্ষায় খরায় পুড়ছে আমনের মাঠ

  • আপডেট : ১০:২২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
  • ১১২৮ বার পঠিত

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক: বাংলা দিনপঞ্জির হিসাবে এখন চলছে শ্রাবণ মাসের অর্ধেক প্রায়। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণেই ভারি মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষা যাই যাই করলেও ধান উৎপাদনে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা নেই। আমন আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত ও জমিতে লাগানো চারা বাঁচাতে এখন কৃষকদের ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। বর্ষানির্ভর আমন চাষে এখন অনাবৃষ্টির কারণে সেচ দিতে খরচ বাড়ছে কৃষকের। ,

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৮ ইউনিয়নেই কমবেশি সব এলাকাতেই এবার খরার কবলে পড়েছে আমন। এর মধ্যে রসুলপুর, হাজিনগর, বাহাদুরপুর ও পাঁড়ইল ইউনিয়নের অবস্থা বেশি খারাপ। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকেরা গভীর-অগভীর সেচযন্ত্র চালু করে আমনের চারা লাগাচ্ছেন। ,

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কাজও ব্যাহত হচ্ছে। সঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে না পারায় আমনের খেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়ামতপুর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। সেচের জন্য মাঠে রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার সেচযন্ত্র। এর মধ্যে এক হাজার ৫৬০টি বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র। বাকি সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত। খরা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের প্রায় সবগুলোই চালু রয়েছে। ,

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন এক বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ দিতে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। আমনের চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত ও খরার কবলে পড়া আমনের চারা বাঁচাতে ইতোমধ্যে কমপক্ষে দুইবার সেচ দিতে হয়েছে। এই মৌসুমে এভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত চললে কমপক্ষে আরও ছয়বার সেচ দিতে হবে। সেই হিসাবে উপজেলার ৩০ হাজার ৫০ হেক্টর আমনের ফসল রক্ষায় এবার সেচের খরচ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ,

কৃষকরা বলছেন, জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের প্রথম চার-পাঁচ দিন প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছিল। মাঠের অনেক জমিতে পানিও জমে গিয়েছিল। কিন্তু তখন জমি প্রস্তুত না হওয়ায় ও বীজতলার চারার বয়স কম থাকায় কৃষকেরা ধানের চারা লাগাতে পারেনি। সাধারণত জুলাইয়ের এক-দুই সপ্তাহ পর থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমনের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। এখন বৃষ্টির দরকার, কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। গত ১৫-২০ দিন ধরে নওগাঁয় ভারী বৃষ্টি হয়নি। এই সময়ে কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। ,

উপজেলার টগরইল গ্রামের কৃষক আশরাফুল বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আমাদের এলাকায় একপশলা বৃষ্টিও হয়নি। খরার কারণে চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। যেসব জমিতে চারা লাগানো হয়েছে পানির অভাবে ওই সব চারা মরে যেতে বসেছে। খরার কারণে মাটি শুকনা কাঠের মতো হয়ে থাকায় সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি পানি লাগছে। একদিকে খরা আরেক দিকে চলছে লোডশেডিং। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ,

একই এলাকার দামপুরা গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী এ বছর ১৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে চান। সে অনুপাতে আমনের বীজতলাও প্রস্তুত করেছেন তিনি। আগেভাগে মাঠ থেকে আমন ধান কেটে সেই জমিতে রবি শস্য আবাদের জন্য জুলাইয়ের মধ্যেই খেতে চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে পাঁচ বিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অন্য জমিগুলো চারা লাগানোর জন্য সঠিক সময়ে প্রস্তুত করতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

কৃষক জুলফিকার আলী বলেন, গত বছরও আষাঢ়-শ্রাবণ মাস ঠিকমতো বৃষ্টি ছিল না। ডিপটিউব চালিয়ে সেচ দিয়ে ধান লাগাতে হয়েছিল। এবারো একই অবস্থা।

দামপুরা গ্রামের বাসিন্দা ও বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর ইসরাইল বলেন, আগে এক বিঘা জমিতে পানি দিয়ে ভেজাতে ১৫০-২০০ টাকা করে খরচ পড়তো। কিন্তু ঘনঘন লোড শেডিংয়ের কারণে এর খরচও বেড়েছে এখন। তাছাড়া সেচের সিরিয়াল পেতে হুড়োহুড়ি লেগেই থাকছে কৃষকের মাঝে। ,

স্থানীয় সাদিরুল ইসলাম জানান, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে গত বছর থেকে সেচ খরচ বেড়ে গেছে এবার। এখন ১ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে গড়ে ৪০০ টাকা করে খরচ পড়ে। সাত-আটবার করে সেচ দিতে হলে এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ পড়ে প্রায় তিন হাজার টাকা। ,

কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান পূর্বকন্ঠকে বলেন, বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হলেও আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখনই অতটা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আমনের মৌসুম কেবলই শুরু হয়েছে। পুরো আগস্ট মাসজুড়েই আমনের চারা লাগানো যাবে। আশা করছি সঠিক সময়েই আমনের চারা লাগানো সম্পন্ন হবে। তবে যেসব কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছেন তাদের খরচ বাড়বে। গত বছরেও মৌসুমের শুরুতে তেমন বৃষ্টি ছিল না। তবে শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। আশা করছি, এবারো আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে। ,‌

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

ভরা বর্ষায় খরায় পুড়ছে আমনের মাঠ

আপডেট : ১০:২২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক: বাংলা দিনপঞ্জির হিসাবে এখন চলছে শ্রাবণ মাসের অর্ধেক প্রায়। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণেই ভারি মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষা যাই যাই করলেও ধান উৎপাদনে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা নেই। আমন আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত ও জমিতে লাগানো চারা বাঁচাতে এখন কৃষকদের ভরসা ভূগর্ভস্থ পানি। বর্ষানির্ভর আমন চাষে এখন অনাবৃষ্টির কারণে সেচ দিতে খরচ বাড়ছে কৃষকের। ,

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৮ ইউনিয়নেই কমবেশি সব এলাকাতেই এবার খরার কবলে পড়েছে আমন। এর মধ্যে রসুলপুর, হাজিনগর, বাহাদুরপুর ও পাঁড়ইল ইউনিয়নের অবস্থা বেশি খারাপ। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকেরা গভীর-অগভীর সেচযন্ত্র চালু করে আমনের চারা লাগাচ্ছেন। ,

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কাজও ব্যাহত হচ্ছে। সঠিক সময়ে জমিতে সেচ দিতে না পারায় আমনের খেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়ামতপুর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ জমিতে ধানের চারা লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। সেচের জন্য মাঠে রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার সেচযন্ত্র। এর মধ্যে এক হাজার ৫৬০টি বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র। বাকি সেচযন্ত্র ডিজেলচালিত। খরা মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের প্রায় সবগুলোই চালু রয়েছে। ,

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন এক বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ দিতে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। আমনের চারা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুত ও খরার কবলে পড়া আমনের চারা বাঁচাতে ইতোমধ্যে কমপক্ষে দুইবার সেচ দিতে হয়েছে। এই মৌসুমে এভাবে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত চললে কমপক্ষে আরও ছয়বার সেচ দিতে হবে। সেই হিসাবে উপজেলার ৩০ হাজার ৫০ হেক্টর আমনের ফসল রক্ষায় এবার সেচের খরচ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ,

কৃষকরা বলছেন, জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের প্রথম চার-পাঁচ দিন প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছিল। মাঠের অনেক জমিতে পানিও জমে গিয়েছিল। কিন্তু তখন জমি প্রস্তুত না হওয়ায় ও বীজতলার চারার বয়স কম থাকায় কৃষকেরা ধানের চারা লাগাতে পারেনি। সাধারণত জুলাইয়ের এক-দুই সপ্তাহ পর থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আমনের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। এখন বৃষ্টির দরকার, কিন্তু বৃষ্টির দেখা নেই। গত ১৫-২০ দিন ধরে নওগাঁয় ভারী বৃষ্টি হয়নি। এই সময়ে কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। ,

উপজেলার টগরইল গ্রামের কৃষক আশরাফুল বলেন, গত ১৫ দিন ধরে আমাদের এলাকায় একপশলা বৃষ্টিও হয়নি। খরার কারণে চারা লাগানোর জন্য প্রস্তুত করা জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। যেসব জমিতে চারা লাগানো হয়েছে পানির অভাবে ওই সব চারা মরে যেতে বসেছে। খরার কারণে মাটি শুকনা কাঠের মতো হয়ে থাকায় সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি পানি লাগছে। একদিকে খরা আরেক দিকে চলছে লোডশেডিং। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে সেচ দিয়ে মাটি ভেজাতে অনেক বেশি সময় লাগছে। খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ,

একই এলাকার দামপুরা গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী এ বছর ১৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করতে চান। সে অনুপাতে আমনের বীজতলাও প্রস্তুত করেছেন তিনি। আগেভাগে মাঠ থেকে আমন ধান কেটে সেই জমিতে রবি শস্য আবাদের জন্য জুলাইয়ের মধ্যেই খেতে চারা রোপণের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ইতোমধ্যে পাঁচ বিঘা জমিতে চারা লাগিয়েছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অন্য জমিগুলো চারা লাগানোর জন্য সঠিক সময়ে প্রস্তুত করতে না পারার আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

কৃষক জুলফিকার আলী বলেন, গত বছরও আষাঢ়-শ্রাবণ মাস ঠিকমতো বৃষ্টি ছিল না। ডিপটিউব চালিয়ে সেচ দিয়ে ধান লাগাতে হয়েছিল। এবারো একই অবস্থা।

দামপুরা গ্রামের বাসিন্দা ও বিএমডিএর গভীর নলকূপের অপারেটর ইসরাইল বলেন, আগে এক বিঘা জমিতে পানি দিয়ে ভেজাতে ১৫০-২০০ টাকা করে খরচ পড়তো। কিন্তু ঘনঘন লোড শেডিংয়ের কারণে এর খরচও বেড়েছে এখন। তাছাড়া সেচের সিরিয়াল পেতে হুড়োহুড়ি লেগেই থাকছে কৃষকের মাঝে। ,

স্থানীয় সাদিরুল ইসলাম জানান, ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিজেল চালিত পাম্প দিয়ে গত বছর থেকে সেচ খরচ বেড়ে গেছে এবার। এখন ১ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতে গড়ে ৪০০ টাকা করে খরচ পড়ে। সাত-আটবার করে সেচ দিতে হলে এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ পড়ে প্রায় তিন হাজার টাকা। ,

কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান পূর্বকন্ঠকে বলেন, বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হলেও আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এখনই অতটা চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আমনের মৌসুম কেবলই শুরু হয়েছে। পুরো আগস্ট মাসজুড়েই আমনের চারা লাগানো যাবে। আশা করছি সঠিক সময়েই আমনের চারা লাগানো সম্পন্ন হবে। তবে যেসব কৃষক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করছেন তাদের খরচ বাড়বে। গত বছরেও মৌসুমের শুরুতে তেমন বৃষ্টি ছিল না। তবে শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। আশা করছি, এবারো আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে। ,‌