মঙ্গলবার ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বিদায় স্পিন জাদুকর

 |  আপডেট ২:০৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  | 201

বিদায় স্পিন জাদুকর

ব্রেক থ্রু দরকার? নাকি প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে হবে? অধিনায়কের মাথায় চিন্তার ভাঁজ, ড্রেসিংরুম করছে ছঁটফট, সমর্থকদের উদ্বেগ!

ষাটের থেকে আশির দশকে এমন অস্থিরতায় একজন ছিলেন জাদুকর। যিনি ২২ গজে আসতেন, জয় করতেন, প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিতেন। বল হাতে জাদুকরী কারুকার্যে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সরিয়ে তৃপ্তির হাসি ফোটানো সেই জাদুকরের নাম রাম চাঁদ গোয়ালা।


খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক রথী-মহারথী ব্যাটসম্যানকে ঘূর্ণি জাদুতে খাবি খাওয়ানো বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিন বোলিংয়ের পথিকৃৎ রাম চাঁদ গোয়ালা। বাঁহাতি স্পিনার থেকে এক সময়ে তিনি পুরাদস্তুর চায়নাম্যান। বল হাতে আর্মার, গুগলি করার পাশাপাশি নিজের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নিতে পারদর্শী ছিলেন। তাতেই কাবু প্রতিপক্ষ।

তাঁর সাফল্যের ভাণ্ডার টইটুম্বুর। সেই ভাণ্ডারে আছে একই ওভারে ডি সিলভা ও আর্জুনা রানাতুঙ্গার উইকেট। দেশের প্রথম বাঁহাতি স্পিনার ধুমকেতু হয়ে এসে ধ্রুবতারার জায়গা দখল করেছিলেন। রঙিন করেছেন ক্রিকেট ক্যানভাস। বাংলাদেশের স্পিন বোলিংয়ের পথিকৃৎ শুক্রবার সকালে পৃথিবীর মায়া ত‌্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। বার্ধ‌ক‌্যজনিত কারণে মৃত‌্যুবরণ করেছেন ৭৯ বছর বয়সে।

ক্রিকেটের ক‌্যানভাস রঙিন করতে করতে জীবনের ক‌্যানভাস নিয়ে চিন্তা করা হয়নি তার। অর্থকড়ি করেননি। সাত পাকে বাঁধা পড়েননি। ক্রিকেট ছাড়ার পর কোচিং নিয়ে ব‌্যস্ত থাকলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক সমস‌্যায় ভুগছিলেন। গত বছর দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর থেকে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এর তিন বছর আগে আরো একবার স্ট্রোক করেছিলেন। বয়সের ভারে নুহ্য হয়ে হাঁটা-চলা করতে পারছিলেন না। এ বছরের শুরুতে চোখে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। সাত দিন আগে চোখ উঠেছিল। গতকাল থেকে বুকের ব‌্যথাটাও বেড়েছিল। ডাক্তার বলেছিলেন হার্ট বড় হয়েছিল। সবশেষে আজ সকাল সাতটায় শেষ নিশ্বাস ত‌্যাগ করেন এ কিংবদন্তি।

গত ২৩ মার্চ  দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আবার যদি সুযোগ হতো আমি মাঠে নামতাম। আমার খেলা তো এ প্রজন্মের অনেকেই দেখেনি। একটু দেখাতাম আমি কি পারি। সাথে পোলাপানগুলোকে একটু দেখিয়ে দিতাম। সেটাও তো পারি না।’ সেই ইচ্ছা অপূর্ণ-ই থেকে গেল রাম চাঁদ গোয়ালার।

শুরুতে তিনি ছিলেন পেসার। লম্বা হওয়ার কারণে পেস বোলিংও ছিল আঁটশাঁট। কিন্তু কোচের পরামর্শে স্পিন করা শুরু করেন। সেই গল্প শুনিয়েছিলেন রাইজিংবিডিকে, ‘আমার ক্লাবের নাম ছিল পন্ডিতপাড়া ক্লাব। ওখানে আমাদের স্যার ছিলেন ফখরুদ্দীন। উনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন স্পিনার হওয়ার। বললেন স্পিনার হলে আমার ভালো করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। উনার অনুপ্রেরণাতেই আমার স্পিনার হিসেবে শুরু।’

সাথে নিজের শক্তির জায়গা নিয়েও বলেছিলেন, ‘আমার শক্তিশালী দিক ছিল- লেগ ব্রেক করতে করতে হঠাৎ আর্মার মেরে দিতাম। এটা ব্যাটসম্যানরা বুঝতে পারত না। এটা দিয়ে অনেক উইকেট পেয়েছি। ব্যাটসম্যানদের সামনের দিকে আনা…বল ফিঙ্গারিং করে ওদেরকে টেনে আনার কাজটা আমার বোলিংয়ে আরেকটা বড় দিক। আমার আর্মার খেলতে পারত না বড় বড় ব্যাটসম্যানরাও।’

ঢাকা লিগে তার প্রথম ক্লাব ছিল ভিক্টোরিয়া। সেটা ১৯৬২ সালে। পাঁচ বছর খেলার পর বাবার মৃত‌্যুর কারণে ময়মনসিংহে ফিরে যান। এরপর আবার ঢাকা লিগে ‍যোগ দেন পাঁচ বছর পর। টাউন ক্লাবে নাম লিখানোর পরের মৌসুমে তাকে দলে নেয় মোহামেডান। মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটিতে তিন-চার বছর খেলার পর ১৯৭৮ সালে আবাহনীতে যোগ দেন। এরপর ১৫ বছর কাটিয়ে দেন আবাহনীর জার্সিতে। হয়ে যান আবাহনীর গোয়ালা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামাল তাকে আবাহনীতে খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ১৯৭৪ সালে। কিন্তু রাম চাঁদ গোয়ালা সেবার আবাহনীতে যোগ দেননি। তাইতো আফসোস ছিল তার, ‘শেখ কামাল আমাকে আবাহনীতে যোগ দিতে দেখে যেতে পারেনি।’ ১৯৯৩ সালে আবাহনী ছেড়ে নিজের পন্ডিতপাড়া ক্লাবে ফিরে আসেন গোয়ালা। সেখানে তিন বছর খেলার পর অবসরে যান। এরপর নিজের ক্লাবে কোচিং করানো শুরু করেন। গোয়ালার চোখে বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার ছিলেন সাকিব আল হাসান। আর সেরা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ঢাকা/ইয়াসিন

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com