নেত্রকোনা ১১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বারহাট্টায় ৬৫ বছর বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন

  • আপডেট : ১২:০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩
  • ১০৬০ বার পঠিত

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক :  ‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,  রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও ,বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।

পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের ‘আসমানী’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব জীবনে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ৬৫ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান লক্ষ্মী রাণীর জীবনের সাথে মিলে গেছে।

নেত্রকোনার বারহাট্টা সদর উপজেলাধীন গুহিয়ালা গ্রামের বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সহায়সম্বলহীন লক্ষ্মী রাণী।

লক্ষ্মী রাণীর সাথে কথা বলতে গেলে, তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিস্থিতির কাছে আমি পরাজিত, জীবনে বেঁচে থাকা আমার কাছে শুধুই যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুইনা। এখন শুধু ভগবানের কাছে একটাই প্রার্থনা করি তাড়াতাড়ি যেন আমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুই আমার একমাত্র মুক্তির পথ।,

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা হবার পর আমার একুল আর অকূলে আপনজন বলতে কেউ নেই। তাই অপারক হয়ে বাঁশ ঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে অনিশ্চয়তায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্টে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাইতেছি।

প্রতিবেশী ছালমা বেগম বলেন, জঙ্গলের ভেতরে এখন যে ঘরে এই বৃদ্ধা বাস করছেন সেখানে খাবার তো দুরের কথা, পানযোগ্য পানি পর্যন্ত নেই। ভাঙ্গা পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিই তার ভরসা। মানুষের বাড়িতে চেয়ে একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা না খেয়ে দিন কাটে তার। অসুস্থ হলেও খোঁজ নেবার কেউ নেই। প্রতিনিয়তই তিনি, কষ্ট-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শুধুই মৃত্যু কামনা করেন।,

এলাকাবাসী কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং নিঃসন্তান। তাই তার এই বয়সে সেবা করার মত কেউ নেই।,

এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এই দুঃখিনী বৃদ্ধা ভূমিহীন হওয়ার পরও তার ভাগ্যে একটি থাকার মতো ঘর জুটেনি। বারহাট্টার বিত্তশালী কিংবা প্রশাসন থেকেও কেউ তার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।,

বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক কাসেম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষী রানীর জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা থাকবে।,

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, লক্ষী রানীর বিষয়ে আমার জানা নেই,তবে খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা করা হবে।,’

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

বারহাট্টায় ৬৫ বছর বৃদ্ধার মানবেতর জীবনযাপন

আপডেট : ১২:০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক :  ‘আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,  রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও ,বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।

পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের ‘আসমানী’ কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব জীবনে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকা ৬৫ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যক্তা ও নিঃসন্তান লক্ষ্মী রাণীর জীবনের সাথে মিলে গেছে।

নেত্রকোনার বারহাট্টা সদর উপজেলাধীন গুহিয়ালা গ্রামের বাঁশঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সহায়সম্বলহীন লক্ষ্মী রাণী।

লক্ষ্মী রাণীর সাথে কথা বলতে গেলে, তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে পরিস্থিতির কাছে আমি পরাজিত, জীবনে বেঁচে থাকা আমার কাছে শুধুই যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুইনা। এখন শুধু ভগবানের কাছে একটাই প্রার্থনা করি তাড়াতাড়ি যেন আমার মৃত্যু হয়। মৃত্যুই আমার একমাত্র মুক্তির পথ।,

তিনি আরও বলেন, ৩০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্তা হবার পর আমার একুল আর অকূলে আপনজন বলতে কেউ নেই। তাই অপারক হয়ে বাঁশ ঝাড়ের ভিতর খুপরি ঘরে অনিশ্চয়তায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে অনেক কষ্টে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাইতেছি।

প্রতিবেশী ছালমা বেগম বলেন, জঙ্গলের ভেতরে এখন যে ঘরে এই বৃদ্ধা বাস করছেন সেখানে খাবার তো দুরের কথা, পানযোগ্য পানি পর্যন্ত নেই। ভাঙ্গা পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিই তার ভরসা। মানুষের বাড়িতে চেয়ে একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা না খেয়ে দিন কাটে তার। অসুস্থ হলেও খোঁজ নেবার কেউ নেই। প্রতিনিয়তই তিনি, কষ্ট-যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে শুধুই মৃত্যু কামনা করেন।,

এলাকাবাসী কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্বামী পরিত্যক্তা এবং নিঃসন্তান। তাই তার এই বয়সে সেবা করার মত কেউ নেই।,

এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এই দুঃখিনী বৃদ্ধা ভূমিহীন হওয়ার পরও তার ভাগ্যে একটি থাকার মতো ঘর জুটেনি। বারহাট্টার বিত্তশালী কিংবা প্রশাসন থেকেও কেউ তার খোঁজ পর্যন্ত নেয়নি।,

বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক কাসেম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষী রানীর জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা থাকবে।,

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, লক্ষী রানীর বিষয়ে আমার জানা নেই,তবে খবর নিয়ে দেখছি, আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য সবোর্চ্চ সহযোগিতা করা হবে।,’