রবিবার ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বাজেট পাসের আগেই মোবাইলে বাড়তি শুল্ক, বিটিআরসি ক্ষুব্ধ

হাসান মাহামুদ :  |  আপডেট ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  | 243

বাজেট পাসের আগেই মোবাইলে বাড়তি শুল্ক, বিটিআরসি ক্ষুব্ধ

বাজেটে মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুন বাজেট পাসের পর তা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু বাজেট ঘোষণার দিন জারি করা বিধি-বিধানের (এসআরও) সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেদিন মধ্যরাত থেকেই বাড়তি হারে সম্পূরক শুল্ক কাটা শুরু করে মোবাইল অপারেটরগুলো।

বিষয়টি আইনের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং অতি মুনাফালোভী কাজ বলে মন্তব্য করেছেন গ্রাহকরা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আরোপিত ৫ শতাংশ সম্পূরক কর প্রত্যাহারে আবেদন জানানো হবে। এরই মধ্যে বাজেট পাস হওয়ার আগেই কেন মোবাইল সেবায় বাড়তি হারে সম্পূরক শুল্ক কাটা হচ্ছে, জানতে চেয়ে অপারেটরদের চিঠি দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।


এ বিষয়ে বিটিআরসির চিঠির জবাব দিয়েছে অ্যামটব। সোমবার (১৫ জুন) বিটিআরসির ই-মেইলের জবাব দেয় এমটব। সংগঠনটির মহাসচিব এস এম ফরহাদের পাঠানো চিঠিতে সম্পূরক শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে বলা হয়, ‘আমরা শুধু দেশের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছি।’

এদিকে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ৫ মাসে আদায় করা বাড়তি শুল্কবাবদ ৩ হাজার কোটি টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ‌্যাসোসিয়েশন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—আইন অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। একই কথা বলছেন অপারেটররাও।

গত ১১ জুন সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব পেশ হয়েছে, তাতে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। সেদিনই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে এসআরও জারি করে এবং মধ্যরাত থেকে মোবাইল সেবায় গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি করের টাকা কাটা শুরু হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে। পরে ১৩ জুন চার মোবাইল অপারেটরকে ই-মেইলে পাঠানো এক চিঠিতে এর কারণ জানতে চেয়েছে বিটিআরসি। কমিশন বলেছে, বাজেটে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পর তা ইতিমধ্যে আরোপ করা শুরু হয়েছে, এটি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে গ্রামীণ ফোনের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিউকেশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন  কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) এ বিষয়ে মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনের বাইরে আমরা কথা বলবো না।

একই বক্তব্য দেন অন্য মোবাইল ফোন অপারেটর রবিও (রবি আজিয়াটা লিমিটেড)।

এমটব-এ যোগাযোগ করা হলে সংগঠনের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, অপারেটররা সরকারের বিধি অনুযায়ী কাজ করেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার দিনই এসআরও জারি করা হয়। যা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থবিলের ৮৮ পাতায় কোন কোন দফা অবিলম্বে কার্যকর হবে, তা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৮০ নম্বর দফার অন্তর্ভুক্ত মোবাইল সেবা।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) মো. মুহিবুর রহমান বলেন, বাজেট উপস্থাপনের পর যে এসআরও জারি হয়, তাতে বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে মোবাইল সেবাও রয়েছে। তাই বাজেট ঘোষণার পর থেকেই অপারেটররা এটি কার্যকর করে ফেলে। এ বিষয়ে আমরা নতুন প্রস্তাবনা নিয়ে ভাবছি।

তবে সেবার ওপর আরোপিত পরোক্ষ কর বাজেট প্রস্তাবের দিন থেকেই কার্যকরের যে বিধান রয়েছে তা সংশোধন করা উচিত বলে মনে করছেন গ্রাহক ও অর্থনীতিবিদরা।

এদিকে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর নতুন করে আরোপিত ৫ শতাংশ সম্পূরক কর প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাজেট প্রস্তাবনায় মন্ত্রণালয় মোবাইল অপারেটরদের ওপর আরোপিত দুই শতাংশ ন্যুনতম কর হার পুনর্বিবেচনা আহ্বান জানিয়েছিল।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ‌্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ রাইজিংবিডিকে বলেন, আমরা জানি, বাজেট উপস্থাপনের পর আলোচনা ও সংযোজন-বিয়োজনের পর ৩০ জুন পাস হওয়ার পর ১ জুলাই হতে তা কার্যকর হয়। কিন্তু ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে টেলিযোগাযোগ খাতে দফায় দফায় কর বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং উপস্থাপনের দিবাগত রাত থেকেই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো প্রস্তাবকৃত শুল্ক গ্রাহকদের কাছে আদায় করতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ধরা হলে ১৮০ দিন অপারেটররা যে বাড়তি টাকা নিচ্ছে, তার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হয়। এই করোনার সময় অপারেটরদের কাছ থেকে এই বাড়তি টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হলে অন্তত একমাস সবাই ফ্রি কথা বলতে পারবে।

হাসান/ইয়ামিন/সাইফ

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com