বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিকেএসপিতে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর রাজত্ব

ইয়াসিন :  |  আপডেট ১:১০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০ | প্রিন্ট  | 486

বরিশাল বিকেএসপিতে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর রাজত্ব

[ad_1]

বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক তারকা। যারা দেশের পতাকা তুলে ধরেছেন বিশ্বমঞ্চে।


ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, পর্যাপ্ত  ক্রীড়া  অবকাঠামোগত সুবিধাদি  এবং  সঠিক  প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ  ইন্সটিটিউট  অব স্পোর্টস’  (বিআইএস)  প্রতিষ্ঠার  পরিকল্পনা  করে। এরপর ১৯৮৩ সালে যার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ  ক্রীড়া  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান  (বিকেএসপি)।  ১৯৮৬ সালের  ১৪ এপ্রিল  প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকেই বিকেএসপি সর্বোচ্চ একাগ্রতার সাথে উচ্চমানের খেলোয়াড় তৈরির কাজ  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাভারে মূল বিকেএসপির বাইরেও পাঁচটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সেগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, খুলনা ও সিলেটে।

ভবিষ্যত অ্যাথলেটদের স্বপ্নের ঠিকানা বিকেএসপি কেমন চলছে? কেমন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। রাইজিংবিডি-র ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উঠে আসবে সব। আজ পড়ুন বরিশাল বিকেএসপির আদ্যোপান্ত।

আরও পড়ুন : বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চান?

একটা সময় মার্শাল আর্টকে মনে করা হতো শুধুই শারীরিক শিল্প। কিন্তু যুগে যুগে বিনোদনের খোরাক মিটিয়ে মার্শাল আর্ট ক্রীড়া ইভেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। আশির দশকে মাঝামাঝিতে মার্শাল আর্টের দু’টি খেলা জুডো, কারাতের দারুণ প্রচার ঘটে।  নব্বই দশকের মাঝ পথে মার্শাল আর্টের আরেকটি ক্রীড়া তায়কোয়ান্দো বাংলাদেশে আবিষ্কার হয়ে আসে। এরপর বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মার্শাল আর্টে যুক্ত হয় উশু।

বিভিন্ন নিয়মের কারণে প্রায় একই ইভেন্টে এসেছে বিভক্তি। তবে প্রত্যেকটি ইভেন্টই এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত। বাংলাদেশেও সমানভাবে চলছে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দো ইভেন্ট। পৃথক তিন ইভেন্টের জন্য রয়েছে আলাদা তিন ফেডারেশন। তিন ইভেন্টের জন্য খেলোয়াড় তৈরিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখে আসছে বরিশাল বিকেএসপি।

ক্রিকেট, ফুটবল ও হকি যেখানে দেশের প্রাণ সেখানে বরিশাল বিকেএসপিতে চলছে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর রাজত্ব। এ তিনটি ইভেন্টের জন্যই বিকেএসপির আঞ্চলিক অফিসটি বিশেষভাবে স্বীকৃতি। তাইতো প্রতিষ্ঠানটির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন গর্ব করে বলেন,‘আমাদের বসয়ভিত্তিক দল নিয়ে কাজ করি। উসু ও তায়কোয়ান্দেতে, বাংলাদেশের যে জাতীয় বয়সভিত্তিক প্রতিযোগীতা হয় সেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ সফলতা আছে। পদক তালিকায় ৮০ ভাগের মতো আমাদের সফলতা।’

‘আমাদের একেকটি বিকেএসপিকে একেকটি বিশেষ ইভেন্টের জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এজন্য সব গেমসকে সব সেন্টারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রেখে বিশেষ বিশেষ ভাবে এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং সেই সুযোগ সুবিধাগুলো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।’ – যোগ করেন তিনি।

বরিশাল বিকেএসপিতে উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর পাশাপাশি ফুটবল ইভেন্ট চালু রয়েছে। মোট প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৬৭। বর্তমানে  ক্রিকেট ইভেন্ট চালুর কোনো পরিকল্পনা নেই। ১৩ একর জায়গার ওপর নির্মিত বরিশাল বিকেএসপির আয়তন বৃদ্ধি পেলেই কেবল অন্যান্য ইভেন্ট চালু করা যাবে। এখানকার কর্মকর্তারা মনে করেন, চারটি ইভেন্টের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা আছে তা পর্যাপ্ত।

‘আমাদের যে পরিসর, সেই অনুযায়ী যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে সেই অনুপাতে ঠিক আছে। বাজেট বরাদ্দ ও অন্যান্য সব কিছু যেটা আছে সেটা সরকার কর্তৃক প্রদেয়। ডেভেলাপমেন্টের তো শেষ নেই। আমরা যত সুযোগ পাবো, সেটা আরও উন্নত করার চেষ্টা করবো। এখন পর্যন্ত এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা ও সংকট নেই। তবে আধুনিয়কায়নের পরিকল্পনা চলছে। ট্রেণিংয়ের সুযোগ সুবিধায় আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।- বলেছেন শাহাদাত হোসেন।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে নগরীর প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপাড় মোড়ে ১৩ একর জমিতে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে ২০০৭ সালে। ২০১২ সালে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সচরাচর বাছাই কার্যক্রম সাভারের মূল বিকেএসপি থেকে হলেও এ বছর বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বরিশাল বিকেএসপি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে বাছাই কার্যক্রম সেন্ট্রালাইজ করা হয়েছিল। সর্বোমোট ১০০ প্রশিক্ষণার্থী রাখার ব্যবস্থা আছে এখানে।

নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেছেন,‘আমাদের টার্গেট আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। শতভাগ সফলতা খুবই কঠিন ব্যাপার। এখানে সামর্থ্যের পূর্ণ প্রয়োগ লাগে। আমরা চেষ্টা করি ছেলেদের নিয়ে। আমাদের এখানে যে ৬৭ জন আছে প্রত্যেই যে উচুঁ মানের ক্রীড়াবিদ হবে তা না তবে এদের সবার ভবিষ্যত ভালো।’

তবে বিকেএসপি থেকে বের হওয়ার পর ফেডারেশনের আরও দায়িত্ব ও ক্রীড়াবিদদের নিয়ে বড় পরিকল্পনা করার আহ্বান জানালেন তিনি। শাহাদাত হোসেন বলেছেন,‘এখানে ক্রীড়াবিদরা বয়সভিত্তিক পর্যায় পর্যন্ত থাকে।  দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেই। এরপর ১৮-২০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিদায় নিতে হয়। তখন বিকেএসপি থেকে বেরিয়ে সাধারণ ক্লাব বা বিভিন্ন সংস্থায় যোগ দেয় তারা।’

‘সেখানে ওদের প্রশিক্ষণ যদি সঠিকভাবে দেওয়া না হয় তাহলে আমাদের যে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা আছে সেগুলো হারিয়ে যাবে। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মূল দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। যাদের মাধ্যমে আমাদের খেলোয়াড়দের আরও উন্নতি হবে। যে সব সংস্থাকে আরও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে প্রতিভাবানদের নিয়ে।’

‘আমরা যদি আজ বলি ৬০-৭০ শতাংশ খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে…শুধু বললেই হবে না সেটা কাজে প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের পরের ধাপে যারা কাজ করছে তাদেরকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো আমাদের সফলতা কথায় থেকে যাবে বাস্তবতায় কাজে আসবে না।’

উশু, কারাতে ও তায়কোয়ান্দোর পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে ফুটবল। জাতীয়  অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৬ জাতীয় ফুটবল দলের ১১ জন ছাত্রই ছিল বরিশাল বিকেএসপির। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের অধিনায়ক জনি শিকদার ছিলেন এখানকারই ছাত্র। ফুটবলের সুবিধা বাড়ানোর জন্য টার্ফের আবেদন করা হয়েছে। জানা গেছে, শিগগিরিই ক্ষুদে ফুটবলারদের জন্য টার্ফ বসবে বরিশাল বিকেএসপিতে।

আরও পড়ুুন:

সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে খুলনা বিকেএসপির এগিয়ে চলা

সিলেট বিকেএসপিতে ফুটবলের জয়গান

ঢাকা/ইয়াসিন

[ad_2]

Source link

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com