নেত্রকোনা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পূর্বধলা সরকারি কলেজ থেকে এমপি’র ছবি অপসারণ, বিবদমান দু’গ্রুপের কোন্দল নিরসন

  • আপডেট : ০৩:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৯
  • ৩৭২৫ বার পঠিত

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা:

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে বেশ কিছুদিন যাবত শিক্ষকদের মাঝে বিবদমান দু’গ্রুপে কোন্দল ও স্থানীয় সংসদসদস্যের ছবি অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ের দ্বন্ধ গত সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে নিরসন হলো।

জানা যায়, কলেজে কোন্দলের কারণে শিক্ষকদের ক্লাশ বর্জন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর শিক্ষক-কর্মচারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, অফিস সহকারীদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি, কলেজ থেকে স্থানীয় সংসদসদস্যের ছবি অপসারণের দাবী, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন বেতন-ভাতা প্রাপ্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দু’গ্রুপে কোন্দলের সৃষ্টি হয়। কলেজ ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কলেজটিকে গত ৮ আগস্ট সরকারিকরণ করা হয়। জাতীয়করণের পর কলেজর উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকদের দ্বন্দ প্রকট হয়। কলেজ সরকারিকরণের পর চলতি বছর সিনিয়র ৩৫জন শিক্ষক দুই ধাপে প্রায় ৪৭লক্ষ টাকা বকেয়া বেতন ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেন। এমপিও বিহীন ৯জন শিক্ষককে পূর্বে অভ্যন্তরীন বেতন প্রদান করলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। এই নিয়ে চাপা উত্তেজনা জুনিয়রদের মধ্যে বিরাজমান ছিল।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকী দিলে অধ্যক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন ও ২১আগস্ট ৩জন অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।
এতে শিক্ষকদের একটি অংশ ক্লাশ বর্জন করেন। সরকারি কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণের দাবীতে শিক্ষক ও সচেতন মহলেও ছিল চাপা ক্ষোভ।

এক পর্যায়ে কলেজ প্রশাসন গত ১জুলাই সংসদসদস্যের ছবি অপসারণ করলে পরের দিন এমপি সমর্থকরা আবারও কলেজে যথাস্থানে এমপি’র ছবি টানিয়ে দেয়। এতে দু’পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করলে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসুম গত সোমবার কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এমপি’র ছবি অপসারণ করে দু’পক্ষের সাথে বৈঠকে বসে সকল সমস্যার সমাধানসহ দীর্ঘ দিনের কোন্দল নিরসন করেন ।

এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে আজ থেকে কলেজে আবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, ইতোমধ্যে যারা অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছে তারা এমপিও ভূক্ত শিক্ষক হিসেবে বকেয়া উত্তোলন করেছেন। যাদের অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা বন্ধ করেছেন অধ্যক্ষ তারা এমপিও বিহীন শিক্ষক ।

তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো সরকারি কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে অন্য কোন ব্যক্তির ছবি থাকার বিধান নেই বলেই সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণ করা হয়েছে। আশা করি এখন থেকে কলেজে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

পূর্বধলা সরকারি কলেজ থেকে এমপি’র ছবি অপসারণ, বিবদমান দু’গ্রুপের কোন্দল নিরসন

আপডেট : ০৩:১৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০১৯

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা:

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে বেশ কিছুদিন যাবত শিক্ষকদের মাঝে বিবদমান দু’গ্রুপে কোন্দল ও স্থানীয় সংসদসদস্যের ছবি অপসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ের দ্বন্ধ গত সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে নিরসন হলো।

জানা যায়, কলেজে কোন্দলের কারণে শিক্ষকদের ক্লাশ বর্জন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর শিক্ষক-কর্মচারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ, অফিস সহকারীদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি, কলেজ থেকে স্থানীয় সংসদসদস্যের ছবি অপসারণের দাবী, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীন বেতন-ভাতা প্রাপ্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দু’গ্রুপে কোন্দলের সৃষ্টি হয়। কলেজ ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কলেজটিকে গত ৮ আগস্ট সরকারিকরণ করা হয়। জাতীয়করণের পর কলেজর উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকদের দ্বন্দ প্রকট হয়। কলেজ সরকারিকরণের পর চলতি বছর সিনিয়র ৩৫জন শিক্ষক দুই ধাপে প্রায় ৪৭লক্ষ টাকা বকেয়া বেতন ভাতা হিসেবে গ্রহণ করেন। এমপিও বিহীন ৯জন শিক্ষককে পূর্বে অভ্যন্তরীন বেতন প্রদান করলেও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেন। এই নিয়ে চাপা উত্তেজনা জুনিয়রদের মধ্যে বিরাজমান ছিল।

একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অধ্যক্ষকে প্রাণনাশের হুমকী দিলে অধ্যক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন ও ২১আগস্ট ৩জন অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেন।
এতে শিক্ষকদের একটি অংশ ক্লাশ বর্জন করেন। সরকারি কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণের দাবীতে শিক্ষক ও সচেতন মহলেও ছিল চাপা ক্ষোভ।

এক পর্যায়ে কলেজ প্রশাসন গত ১জুলাই সংসদসদস্যের ছবি অপসারণ করলে পরের দিন এমপি সমর্থকরা আবারও কলেজে যথাস্থানে এমপি’র ছবি টানিয়ে দেয়। এতে দু’পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করলে কলেজ ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসুম গত সোমবার কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এমপি’র ছবি অপসারণ করে দু’পক্ষের সাথে বৈঠকে বসে সকল সমস্যার সমাধানসহ দীর্ঘ দিনের কোন্দল নিরসন করেন ।

এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে আজ থেকে কলেজে আবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে এসছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, ইতোমধ্যে যারা অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছে তারা এমপিও ভূক্ত শিক্ষক হিসেবে বকেয়া উত্তোলন করেছেন। যাদের অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা বন্ধ করেছেন অধ্যক্ষ তারা এমপিও বিহীন শিক্ষক ।

তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের অভ্যন্তরিন বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো সরকারি কলেজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির সাথে অন্য কোন ব্যক্তির ছবি থাকার বিধান নেই বলেই সংসদ সদস্যের ছবি অপসারণ করা হয়েছে। আশা করি এখন থেকে কলেজে শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।