নেত্রকোনা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পূর্বধলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার যানাযায় সময়মতো উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ লোকজন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন করেছেন।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম (৭৮) কবরস্থানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার নিজ বাড়ি মহিষভেড় গ্রামে মারাযান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম। তিনি দীর্ঘদিন যাবত মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

পূর্বধলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নিজাম উদ্দিন পূর্বকন্ঠকে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টায় দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও ইউএনও সাহেবের সাথে কথা হয় সকাল ১০টায় তিনি উপস্থিত থাকবেন। সে অনুযায়ী আমরা অপেক্ষা করতে থাকি ও বারবার ফোন দিতে থাকি কিন্তু ইউএনও ফোন রিসিফ করেননি। সকাল ৯টার দিকে পুলিশের টিম এসে পৌঁছে। কিন্তু ইউএনও আর আসেন না।

আমরা প্রায় আধঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও উপজেলা প্রশাসনের যখন কেউ আসেননি, তখন আমরা স্থানীয় মুরব্বিদের পরামর্শে দাফন করে ফেলি। লাশ দাফনের পর ইউএনও এসে পৌঁছান। তখন স্বাভাবিকভাবে মানুষ একটু ক্ষুব্ধ হয়। তাৎক্ষণিক তোপের মুখে পড়েন ইউএনও।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও পূর্বকন্ঠকে জানান, এর আগেও নারায়নডহর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলামসহ আরও দুইজন মুক্তিযোদ্ধাদের যানাযায়ও সময়মতো যেতে পারেননি ইউএনও সাহেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স পূর্বকন্ঠকে বলেন, আমি বেশ কিছুদিন যাবত শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ । শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে জাগতে একটু দেরী হয়েছে। তাছাড়া গাড়ীটাও নষ্ট ছিল। এর পরও এসি-ল্যান্ড এর গাড়ী নিয়ে গিয়েছি। তবে একটু বিলম্বে। আমি সময়মতো পৌঁছতে না পারায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আশা করি আপনারা সাংবাদিকরাও বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আরও পড়ুন….পূর্বধলায় ইউএনওকে বয়কট করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

পূর্বধলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

আপডেট : ০৫:৪৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার যানাযায় সময়মতো উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ লোকজন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন সম্পন্ন করেছেন।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের মহিষবেড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম (৭৮) কবরস্থানে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার তোপের মুখে পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার নিজ বাড়ি মহিষভেড় গ্রামে মারাযান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম। তিনি দীর্ঘদিন যাবত মরণব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

পূর্বধলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নিজাম উদ্দিন পূর্বকন্ঠকে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টায় দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও ইউএনও সাহেবের সাথে কথা হয় সকাল ১০টায় তিনি উপস্থিত থাকবেন। সে অনুযায়ী আমরা অপেক্ষা করতে থাকি ও বারবার ফোন দিতে থাকি কিন্তু ইউএনও ফোন রিসিফ করেননি। সকাল ৯টার দিকে পুলিশের টিম এসে পৌঁছে। কিন্তু ইউএনও আর আসেন না।

আমরা প্রায় আধঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও উপজেলা প্রশাসনের যখন কেউ আসেননি, তখন আমরা স্থানীয় মুরব্বিদের পরামর্শে দাফন করে ফেলি। লাশ দাফনের পর ইউএনও এসে পৌঁছান। তখন স্বাভাবিকভাবে মানুষ একটু ক্ষুব্ধ হয়। তাৎক্ষণিক তোপের মুখে পড়েন ইউএনও।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নিজাম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও পূর্বকন্ঠকে জানান, এর আগেও নারায়নডহর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলামসহ আরও দুইজন মুক্তিযোদ্ধাদের যানাযায়ও সময়মতো যেতে পারেননি ইউএনও সাহেব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স পূর্বকন্ঠকে বলেন, আমি বেশ কিছুদিন যাবত শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ । শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে জাগতে একটু দেরী হয়েছে। তাছাড়া গাড়ীটাও নষ্ট ছিল। এর পরও এসি-ল্যান্ড এর গাড়ী নিয়ে গিয়েছি। তবে একটু বিলম্বে। আমি সময়মতো পৌঁছতে না পারায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আশা করি আপনারা সাংবাদিকরাও বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

আরও পড়ুন….পূর্বধলায় ইউএনওকে বয়কট করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা