নেত্রকোনা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

  • আপডেট : ০৭:৪১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০
  • ১১৭৩ বার পঠিত

মহুয়া জান্নাত মনি,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, সমতলের চাইতে পার্বত্য জেলার মানুষ বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে পরিষদ এ সভার আয়োজন করে থাকে। যাতে সভায় এ জেলার উন্নয়নের সমস্যাগুলো আলোচনা হয় এবং সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তিনি বলেন, আমরা অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই পার্বত্য জেলাগুলোকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার সকালে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদের পরিচালনায় জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য নুরুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত, সিভিল সার্জন ডা: শহীদ তালুকদার, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল’সহ জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত বলেন, রাঙ্গামাটি জেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও মাদক বিক্রী ও সেবনের কোন তথ্য থাকলে তা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, লংগদু ও রাজস্থলী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ এ অর্থ বছরে সমাপ্ত হবে। এছাড়া জায়গা নির্ধারণ না হওয়ায় সদর উপজেলায় রিভার ফায়ার স্টেশন ও বরকল এবং জুরাছড়ি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। তিনি বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগ, অগ্নিকান্ডে উদ্ধার অভিযানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ফিস কালচারিষ্ট মোঃ ইসরাইল হক ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ জাক, মশারী জাল, কারেন্ট জাল ও পানির নিচে থাকা গাছের গোড়া তুলে ফেলার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অভয়াশ্রমে জেলেরা যাতে মৎস্য শিকার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভাগ হতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে হচ্ছে এবং আগামী মে মাসে মৎস্য বিভাগ হতে কাপ্তাই হ্রদে ৩০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছ অবমুক্ত করা হবে।

সভায় উত্তর, দক্ষিণ বন বিভাগ, ঝুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ জানান, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যে চারা উত্তোলন কাজ চলমান রয়েছে। যার মধ্যে ৫০ভাগ দেশীয় ফলের চারা রয়েছে। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী চারাগুলো বিতরণ করা হবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

আপডেট : ০৭:৪১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০

মহুয়া জান্নাত মনি,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও দেশের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, সমতলের চাইতে পার্বত্য জেলার মানুষ বিভিন্ন দিক দিয়ে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে পরিষদ এ সভার আয়োজন করে থাকে। যাতে সভায় এ জেলার উন্নয়নের সমস্যাগুলো আলোচনা হয় এবং সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তিনি বলেন, আমরা অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তাই পার্বত্য জেলাগুলোকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার সকালে জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদের পরিচালনায় জেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য নুরুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত, সিভিল সার্জন ডা: শহীদ তালুকদার, রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল’সহ জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী পুলিশ সুপার রনজিত কুমার পালিত বলেন, রাঙ্গামাটি জেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও মাদক বিক্রী ও সেবনের কোন তথ্য থাকলে তা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ বলেন, লংগদু ও রাজস্থলী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ কাজ এ অর্থ বছরে সমাপ্ত হবে। এছাড়া জায়গা নির্ধারণ না হওয়ায় সদর উপজেলায় রিভার ফায়ার স্টেশন ও বরকল এবং জুরাছড়ি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছেনা। তিনি বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগ, অগ্নিকান্ডে উদ্ধার অভিযানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ফিস কালচারিষ্ট মোঃ ইসরাইল হক ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান জানান, কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ জাক, মশারী জাল, কারেন্ট জাল ও পানির নিচে থাকা গাছের গোড়া তুলে ফেলার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অভয়াশ্রমে জেলেরা যাতে মৎস্য শিকার করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিভাগ হতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে হচ্ছে এবং আগামী মে মাসে মৎস্য বিভাগ হতে কাপ্তাই হ্রদে ৩০ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছ অবমুক্ত করা হবে।

সভায় উত্তর, দক্ষিণ বন বিভাগ, ঝুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ জানান, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যে চারা উত্তোলন কাজ চলমান রয়েছে। যার মধ্যে ৫০ভাগ দেশীয় ফলের চারা রয়েছে। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী চারাগুলো বিতরণ করা হবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।