নেত্রকোনা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় ১ বছরে ১৭৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঃ জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোনা জেলায় ১৭৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশীর ভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সড়ক দূর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু।

সচেতন বিশ্লেষকদের মতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারী হিসাবের চেয়েও অনেক বেশী। কারণ অনেক সময় নিভৃত পল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশী হয়রানী কিংবা ময়না তদন্তে কাঁটা ছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় তা সরকারী হিসাবে নথিভূক্ত হয় না।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্র মতে, নেত্রকোনা জেলায় ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে ১৫টি, ফেব্রæয়ারী মাসে ৬টি, মার্চ মাসে ১৬টি, এপ্রিল মাসে ১৬টি, মে মাসে ১২টি, জুন মাসে ২০টি, জুলাই মাসে ১৯টি, আগষ্ট মাসে ১৮টি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৮টি, আক্টোবর মাসে ১০টি, নভেম্বর মাসে ১১টি ও ডিসেম্বর মাসে ১৩টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নেত্রকোনা জেলা শাখার অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক আলপনা বেগম বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাস্তায় কিভাবে গাড়ী চালাতে হয় সেই সব নিয়ম কানুন সম্পর্কে চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ী চালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ী না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।

পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধ কল্পে জেলা আইন শৃংখলা সমন্বয় সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো হচ্ছে যে, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেন অদক্ষ চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দূঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক দূর্ঘটনার পরপরই মামলা নিচ্ছে এবং অভিযুক্ত চালকদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

নেত্রকোনায় ১ বছরে ১৭৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঃ জনমনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

আপডেট : ০৪:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জানুয়ারী ২০২০

২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত গত ১ বছরে নেত্রকোনা জেলায় ১৭৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশীর ভাগ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সড়ক দূর্ঘটনায়। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা, বিষপানে আত্মহত্যা, বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ও পানিতে ডুবে মৃত্যু।

সচেতন বিশ্লেষকদের মতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা সরকারী হিসাবের চেয়েও অনেক বেশী। কারণ অনেক সময় নিভৃত পল্লী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কেউ মারা গেলে পুলিশী হয়রানী কিংবা ময়না তদন্তে কাঁটা ছেড়ার ভয়ে প্রশাসনকে না জানিয়ে অথবা জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করায় তা সরকারী হিসাবে নথিভূক্ত হয় না।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্র মতে, নেত্রকোনা জেলায় ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে ১৫টি, ফেব্রæয়ারী মাসে ৬টি, মার্চ মাসে ১৬টি, এপ্রিল মাসে ১৬টি, মে মাসে ১২টি, জুন মাসে ২০টি, জুলাই মাসে ১৯টি, আগষ্ট মাসে ১৮টি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৮টি, আক্টোবর মাসে ১০টি, নভেম্বর মাসে ১১টি ও ডিসেম্বর মাসে ১৩টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ নেত্রকোনা জেলা শাখার অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক আলপনা বেগম বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা রোধ করতে হলে সবার আগে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাস্তায় কিভাবে গাড়ী চালাতে হয় সেই সব নিয়ম কানুন সম্পর্কে চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ গাড়ী চালক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক, অদক্ষ এবং মাদকাসক্ত অবস্থায় কেউ যেন গাড়ী না চালায় এবং ট্রাফিক আইন যাতে সবাই মেনে চলে তার জন্য ট্রাফিক বিভাগকে আরো সততা ও আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে।

পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধ কল্পে জেলা আইন শৃংখলা সমন্বয় সভায় পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো হচ্ছে যে, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যেন অদক্ষ চালকদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়ক দূঘটনা রোধ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে চালক, হেলপার ও পথচারীদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ সড়ক দূর্ঘটনার পরপরই মামলা নিচ্ছে এবং অভিযুক্ত চালকদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।