নেত্রকোনা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ভূতুরে বিলে হতবাক গ্রাহক

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাজারের একজন সাধারণ মুদির দোকানদার মোফাজ্জল মিয়ার একমাসের বিদ্যুৎ বিলই ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা। পল্লী বিদ্যুতের এমন ভূতুরে বিলে হতবাক তিনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উনার এই বিদ্যুৎ বিল দেখে হতবাক গ্রামবাসীও। পরে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ব্যবসায়ীর বিদ্যুৎ বিল এসেছে মাত্র ১০১৫ টাকা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

বিষয়টি নিয়ে মাসুদুল করিম মাসুদ নামের একজন তার ফেইসবুকে ওয়ালে লিখেন “নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এমন কান্ডে আমি হতবাক হয়েছি ! নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া বাজারের সামান্য মুদির দোকানদার মোফাজ্জল মিয়া। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উনার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা!”

কতটুকু দায়িত্বহীনতার আর অজ্ঞতার ফলে এমনটা হয়েছে এটা ভাবা যায়? যদি এটি ভুলবশত হয়ে থাকে তাহলে দায়িত্বের এমন একটি জায়গা থেকে এত বড় ভুল মেনে নেওয়ার মত নয়। বিষয়টি গুরুতর। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক।

সেই পোস্টের পর অনেকেই নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এমন উদাসীনতা আর দায়িত্বহীন কান্ডের ব্যাপক সমালোচনা করেন। যেখানে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের এমন আরো গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ উঠে আসে এক এক করে। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে গেলে ভুলবশত ১০১৫ টাকার বদলে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকার বিল চলে গেছে স্বীকার করে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোফাজ্জল মিয়া জানান, দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর থেকেই সর্বনিম্ন ১২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা। বিষয়টি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকালে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সংশোধিত বিলের একটি কপি আমার হাতে তুলে দেয়। যেখানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে মাত্র ১০১৫ টাকা। এ সময় তাদের অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) শাইখ মাহমুদ ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দুটো রিডিং আনা হয় একটি থেকে আরেকটি বাদ দিয়ে হিসাবটা বের করা হয়। তখন ভুলে কম্পিউটারে একটা শূন্য বেশি হয়ে গিয়েছিলো। ওইটা আবার আমাদের চোখে ধরা পড়তেই আমরা সাথে সাথে সঠিক হিসাবটা বের করে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিয়ে উনার হাতে পাঠিয়েছি। তাছাড়া ওই বিল আমরা দিতেও বলিনি গ্রাহককে। তিনি বলেন, কম্পিউটার তো ভুলে একটা চাপ লাগলেই সমস্যা হয়ে যায়। চার হাজার গ্রাহক কিছুটা সবগুলোকে পুঙ্খানোপুঙ্খভাবে দেখা যায় না। তবে আমরা বারবার দেখে নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

নেত্রকোনায় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ভূতুরে বিলে হতবাক গ্রাহক

আপডেট : ০৬:০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২০

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বাজারের একজন সাধারণ মুদির দোকানদার মোফাজ্জল মিয়ার একমাসের বিদ্যুৎ বিলই ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা। পল্লী বিদ্যুতের এমন ভূতুরে বিলে হতবাক তিনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উনার এই বিদ্যুৎ বিল দেখে হতবাক গ্রামবাসীও। পরে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ব্যবসায়ীর বিদ্যুৎ বিল এসেছে মাত্র ১০১৫ টাকা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

বিষয়টি নিয়ে মাসুদুল করিম মাসুদ নামের একজন তার ফেইসবুকে ওয়ালে লিখেন “নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এমন কান্ডে আমি হতবাক হয়েছি ! নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া বাজারের সামান্য মুদির দোকানদার মোফাজ্জল মিয়া। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন ১০০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে উনার বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা!”

কতটুকু দায়িত্বহীনতার আর অজ্ঞতার ফলে এমনটা হয়েছে এটা ভাবা যায়? যদি এটি ভুলবশত হয়ে থাকে তাহলে দায়িত্বের এমন একটি জায়গা থেকে এত বড় ভুল মেনে নেওয়ার মত নয়। বিষয়টি গুরুতর। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক।

সেই পোস্টের পর অনেকেই নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এমন উদাসীনতা আর দায়িত্বহীন কান্ডের ব্যাপক সমালোচনা করেন। যেখানে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের এমন আরো গ্রাহক ভোগান্তির অভিযোগ উঠে আসে এক এক করে। পরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে গেলে ভুলবশত ১০১৫ টাকার বদলে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকার বিল চলে গেছে স্বীকার করে ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোফাজ্জল মিয়া জানান, দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর থেকেই সর্বনিম্ন ১২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসতো। কিন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৪৭,২৭,৬০৩ টাকা। বিষয়টি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকালে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সংশোধিত বিলের একটি কপি আমার হাতে তুলে দেয়। যেখানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল এসেছে মাত্র ১০১৫ টাকা। এ সময় তাদের অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (প্রশাসন) শাইখ মাহমুদ ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দুটো রিডিং আনা হয় একটি থেকে আরেকটি বাদ দিয়ে হিসাবটা বের করা হয়। তখন ভুলে কম্পিউটারে একটা শূন্য বেশি হয়ে গিয়েছিলো। ওইটা আবার আমাদের চোখে ধরা পড়তেই আমরা সাথে সাথে সঠিক হিসাবটা বের করে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিয়ে উনার হাতে পাঠিয়েছি। তাছাড়া ওই বিল আমরা দিতেও বলিনি গ্রাহককে। তিনি বলেন, কম্পিউটার তো ভুলে একটা চাপ লাগলেই সমস্যা হয়ে যায়। চার হাজার গ্রাহক কিছুটা সবগুলোকে পুঙ্খানোপুঙ্খভাবে দেখা যায় না। তবে আমরা বারবার দেখে নেই।